৮৭। সূরা আল আ’লা
সূরার সারসংক্ষেপঃ এটি মুসাব্বিহাত Series এর একটি সূরা। আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে এই সূরাটি শুরু করা হয়েছে। এ ধরনের সূরাগুলোকে মুসাব্বিহাত সূরা বলা হয়। ‘সাব্বিহ’ শব্দটি ভেসে থাকার অর্থ থেকে এসেছে। অর্থাৎ সবসময়েই আল্লাহর নাম এর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ননা করতে হবে। বলা হয়ে থাকে যে, এই সূরার ১ম আয়াত এর নির্দেশনার জবাবেই আমরা বলে থাকি ‘সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা’।
পৃথিবীর জ্ঞান আহরন করে চোখের ফোকাস দূরত্ব/ দৃষ্টি সীমা ছোট বিপর্যয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, পরের বড় বিপর্যয় পর্যন্ত যায় না। উপর/ অন্য জগত এ থাকা আল্লাহর কাছ থেকে ঐশী বানী/জ্ঞান থেকে আহরন করা শিক্ষাই দুনিয়ার ছোট বিপর্যয় ঝাপসা করে পরের জগতের বড় বিপর্যয় পর্যন্ত দৃষ্টিসীমাকে পৌছে দেয়, পরের জগতের জিনিস দেখার জন্য ঐশী বানী (আল কুরআন) চোখকে সক্ষম করে তোলে।
মানুষ পৃথিবীর পিছে ছুটতে থাকে কিন্তু যখন পৃথিবী তার হাতের মুঠোয় আসে তখন সে বুঝতে পারে যে, এটি ছিলো অর্থহীন, নগন্য, অস্থায়ী। তখন বুঝে আসে যে, সে বিফল হয়েছে। সুতরাং দুনিয়ার পিছে না ছুটে আখিরাতের পিছনে ছুটতে হবে। তাহলেই সফলতা আসবে।
সাধারন মানুষ ও জীন জাতিকে আল্লাহ সার্বক্ষনিক একটানা তাসবিহ পাঠকারী (মুসাব্বিহুন) হিসাবে বিশেষ্যবাচক শব্দে উল্লেখ করেননি বরং তাসবিহ পাঠ করা সংক্রান্ত ক্রিয়া বাচক শব্দে (সাব্বাহা) উল্লেখ করেছেন। কারন তারা দিনের কিছু সময় তাসবিহ পাঠ করলেও সারাক্ষন একটানা তাসবিহ পাঠ করা হয়ে ওঠে না। এই সূরার শুরু হয়েছে এভাবে।
তবে ব্যতিক্রম হযরত ইউনুস (আ), তিনি মাছের পেটে চলে যাওয়ার পর মুসাব্বিহুন হয়ে একটানা তাসবিহ পাঠ করতে থাকেন, যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাকে উদ্ধার করেন। (সূরা আস সফফাত আয়াত ১৪৩ )
সেই সাথে ফেরেশতারাও একটানা তাসবিহ পাঠকারী (মুসাব্বিহুন) যার প্রমান মেলে সূরা আস সফফাত এর ১৬৬ নং আয়াতে
সূরার ১-৫ আয়াতে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ননার নির্দেশনা ও সমগ্র মানবজাতির প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ও অবদান এর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বিশেষ করে আল্লাহর নামসমূহের বড়ত্ব বর্ননার নির্দেশনা এসেছে।
এরপর ৬-৯ আয়াতে আল্লাহ নবী মুহাম্মাদ (সঃ) এর উপর তাঁর অবদান ও উপদেশের কথা বলেছেন।
১০-১৫ নং আয়াতে সকল মানুষের প্রতি দেওয়া আল্লাহর উপদেশ মান্য ও অমান্য করার ফলাফল (দুনিয়া ও আখিরাতে) বর্নিত হয়েছে।
১৬-১৭ আয়াতে উপদেশ অমান্য করার কারন (দুনিয়াকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দেয়া) বর্ননা করেছেন আল্লাহ।
আমরা দুনিয়াকে প্রাধন্য দিলেও আসলে যে আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ তা বলা হয়েছে এখানে। আর অদেখা আখিরাত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হলে সেটা স্রষ্টার কাছ থেকে জ্ঞানের মাধ্যমেই করতে হবে, যা আগের আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে। পৃথিবীর লেখক/শিক্ষক এর থেকে আহরন করা শিক্ষা নিয়ে চোখ এর দৃষ্টিসীমা গাড়ি বাড়ি থেকে বের হতে পারে না। কারন পরের জগতের শিক্ষা সেখানে অনুপস্থিত। এই দুনিয়ার চোখ দুনিয়ার শিক্ষা নিয়ে তা দেখবে কিভাবে? পৃথিবীর জ্ঞান আহরন করে চোখের ফোকাস দূরত্ব/ দৃষ্টি সীমা গাড়ি বাড়ি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, পরের জগতের জান্নাত পর্যন্ত যায় না। উপর/ অন্য জগত এ থাকা আল্লাহর কাছ থেকে ঐশী বানী/জ্ঞান থেকে আহরন করা শিক্ষাই দুনিয়ার গাড়ি বাড়িকে ঝাপসা করে পরের জগতের নিয়ামত পর্যন্ত দৃষ্টিসীমাকে পৌছে দেয়, পরের জগতের জিনিস দেখার জন্য ঐশী বানী (আল কুরআন) চোখকে সক্ষম করে তোলে। ঐশী জ্ঞান আহরন করে চোখের ফোকাস দূরত্ব/ দৃষ্টি সীমা গাড়ি বাড়ি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না, পরের জগতের জান্নাত পর্যন্ত পৌছে। পৃথিবীর জ্ঞান আহরন করে চোখের ফোকাস দূরত্ব/ দৃষ্টি সীমা ছোট বিপর্যয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, পরের বড় বিপর্যয় পর্যন্ত যায় না। উপর/ অন্য জগত এ থাকা আল্লাহর কাছ থেকে ঐশী বানী/জ্ঞান থেকে আহরন করা শিক্ষাই দুনিয়ার ছোট বিপর্যয় ঝাপসা করে পরের জগতের বড় বিপর্যয় পর্যন্ত দৃষ্টিসীমাকে পৌছে দেয়, পরের জগতের জিনিস দেখার জন্য ঐশী বানী (আল কুরআন) চোখকে সক্ষম করে তোলে।
মানুষ পৃথিবীর পিছে ছুটতে থাকে কিন্তু যখন পৃথিবী তার হাতের মুঠোয় আসে তখন সে বুঝতে পারে যে, এটি ছিলো অর্থহীন, নগন্য, অস্থায়ী। তখন বুঝে আসে যে, সে বিফল হয়েছে। সুতরাং দুনিয়ার পিছে না ছুটে আখিরাতের পিছনে ছুটতে হবে। তাহলেই সফলতা আসবে।
সবশেষে (১৮-১৯ আয়াতে) আল্লাহ বলেছেন যে, তাঁর এই উপদেশ বানী মানবতার জন্য চিরন্তন (অন্যান্য জাতির প্রতিও একই উপদেশ দেওয়া ছিলো)।
এক নজরে সূরাটিকে এভাবে দেখা যেতে পারেঃ
আগের সূরার সাথে সম্পর্কঃ আগের (৮৬ নং) সূরা আত ত্বরিক এ আল্লাহর নাম ও পরিচিতি সরাসরি বলা হয়নি কিন্তু এই সূরার (৮৭ নং সূরা আল আ’লা) শুরুতেই আল্লাহর নামের প্রশংসা করতে বলা হয়েছে। এ যেন আগের সূরার গ্যাপ পূরন। আত ত্বরিক এর শুরুতে বড়, high আকাশ, তারা এর কথা এসেছে (আউয়াত ১,৩) কিন্তু এই সূরার শুরুতে সবচেয়ে বড়, highest আল্লাহ এর কথা এসেছে (আয়াত ১)। এছাড়া আগের সূরায় আল্লাহকে ছোট, দূর্বল মনে করে ষড়যন্ত্র করতে থাকে (আয়াত ১৩, ১৪, ১৫)। কিন্তু তিনি আসলে তাদের ধরাছোয়ার বাইরে, অনেক high তা এই সূরার ১ম আয়াতেই বলা হয়েছে। এর শেষে আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসূল (সঃ) কে কাফেরদের প্ল্যান ও কর্মকান্ড জেনেও তাদের অবকাশ দেওয়ার জন্য আদেশ করেন। এবং তাদের দিকে মনোযোগ না দিয়ে এই সূরায় তিনি বরং আল্লাহর প্রশংসা করার জন্য আদেশ দেন। অর্থাৎ আগের সূরার শেষ আয়াতের সাথে এই সূরার ১ম আয়াতের খুব সুন্দর Continuation আছে।
পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ এই (৮৭ তম) সূরার অন্যতম বিষয় হলো পরিশুদ্ধি। ৯ম ও ১০ আয়াতে উপদেশ দান করা, মনে করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পরিশুদ্ধিতে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। মানুষ শুধু আরেকজনকে উপদেশ দিতে পারে। অন্যকে পরিশুদ্ধ করতে পারে না। যার নিজের মধ্যে আল্লাহর ভয় আছে সেই নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতে পারে। এই বিষয়টির আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা এসেছে পরের (৮৮ তম) সূরা আল গশিয়াহ তে।
(৮৮ তম) সূরা আল গশিয়াহ এর ২১ ও ২২ নং আয়াতে সূরা আল আ’লা এর কন্টিনিউএশন করে বলা হয়েছে; আমাদের কাজ শুধু উপদেশ দেওয়া, মনে করিয়ে দেওয়া। মানুষকে বল প্রয়োগ করে পরিশুদ্ধ করা যায় না। কারন হেদায়াত আল্লাহর হাতে। এভাবে ঐ বিষয়ের একটা মোটামুটি সামগ্রিক ধারনা পাওয়া গিয়েছে
উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট , ডিভাইন স্পিচ,







Give me pdf
উত্তরমুছুন