৩৮। সূরা সোয়াদ
সূরার শুরুতে শপথ করা হয়েছে। সাধারনত শপথ করার পর কি কারনে শপথ করা হলো বা এর ফলাফল কি তা বর্ননা করা হয়। কিন্তু এখানে তার ব্যতিক্রম। শপথ করার পর এর ফলাফল সরাসরি বলা হয়নি
শপথের ফলাফল নিজেদের বুঝে নেওয়ার প্রতি আহবান করা হয়েছে। ২ থেকে ৫ নং আয়াত পড়লে বোঝা যায় যে আসলে এর ফলাফল কি? শপথের বিষয়টি কাফেররা বুঝতে পারলেও তাদের ঔদ্ধত্য, হটকারিতা, গোঁড়ামি, বিরোধিতার কারনে তারা শপথের ফলাফল যে একজন রাসূল তা স্বীকার করে না।
এই সূরা ছয়টি অংশে বিভক্ত। প্রথম ‘কুরাইশ’ (আয়াত ১-১০), দ্বিতীয় 'জাতিসমূহ' (আয়াত ১১-১৬), তৃতীয় 'নবীগণ' (আয়াত ১৭-৪৮), চতুর্থ 'জান্নাত' (আয়াত ৪৯-৫৪), পঞ্চম 'জাহান্নাম' (আয়াত ৫৫-৬৪), ষষ্ঠ 'বলো/বলুন' (আয়াত ৬৫-৮৮)। প্রথম তিনটি অংশ এবং শেষ তিনটি অংশের একটা আরেকটাকে পরিপূর্ণ করে, একটি অংশ অন্য অংশের বিষয়গুলোর উত্তর প্রদান করে।
প্রথম অংশ ‘কুরাইশ’। শেষদিক থেকে প্রথম বা ৬ নাম্বার অংশ কুরাইশ। শেষ অংশে এসেছে 'বলো'। উত্তর দাও। কাকে 'বলো'?—১ম অংশের] কুরাইশদের। ১ম এবং ৬ষ্ঠ পরস্পরের সাথে এভাবে সম্পর্কযুক্ত।দ্বিতীয় অংশ 'জাতিসমূহ', 'পূর্বের জাতিসমুহ'। তারা কে ছিল? তাদের কী হয়েছিল? ৫ম অংশ তে আছে? 'জাহান্নাম'। তাহলে দ্বিতীয় অংশটিতে আছে অবিশ্বাসী জাতিসমূহের 'অতীত', এবং তারপর ৫ম অংশে আছে অবিশ্বাসী জাতিসমুহের ‘ভবিষ্যৎ'— জাহান্নাম। ২য় এবং ৫ম পরস্পরের সাথে এভাবে সম্পর্কযুক্ত।
৩য় অংশটি নবিদের, ‘ভালো মানুষদের' ইতিহাস। এই অংশটি কিসের সাথে সংযুক্ত হওয়া উচিত? ৪র্থ অংশের সাথে। ভালো মানুষ ও নবীরা কোথায় যাবে? জান্নাতে যাবে! কী চমৎকার! ৩য় এবং ৪র্থ পরস্পরের সাথে এভাবে সম্পর্কযুক্ত।
আরেকটি মিল; ২য় অংশে আল্লাহ অনেকগুলো জাতি নিয়ে কথা বলেছেন। যখন তিনি ৫ম অংশে জাহান্নামের বর্ণনা করেন, তখন বলেন, একটা দল সেখানে থাকবে, তারপর আরেকটা দল সেখানে এসে বলবে, 'আমরাও এখানে', এবং আরেকটা দল আসবে এভাবে আরও আসবে…। এটা সম্পূর্ণভাবে মিলে যায় ২য় অংশে যা বলা হয়েছে তার সাথে। কারণ জাতির পর জাতি ঐতিহাসিকভাবে অবিশ্বাস করেছে। সেই জাতিসমূহ জাহান্নামে যাবে একের পর এক।৫০ তম সূরা ক্বফ এর ২ নম্বর আয়াতে এবং ৩৮ তম সূরা সোয়াদ এর ৪ ও ৫ নম্বর আয়াতে মোটামুটি কাছাকাছি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে ৩৮ তম সূরা সোয়াদ এর ৪ ও ৫ নম্বর আয়াতে ৩ টি বিষয় অতিরিক্ত বলা হয়েছে। অর্থাৎ মুহাম্মাদ (স) এর বিষয়ে ৩ টি নতুন বৈশিষ্টের অবতারনা করা হয়েছেঃ যাদুকর, মিথ্যাবাদী, বহু মা’বুদের (পরিবর্তে) এক মা’বূদ বানিয়ে নেওয়া। বিস্ময়কর হলো এই যে, এই বিস্ময়কর ব্যাপারটি বর্ননা করা হয়েছে ৩ ডিগ্রী বেশি বিস্ময় এর মাধ্যমে
কুরআন নাযিল ও প্রচার হয়েছে মুহাম্মাদ (স) এর মৌখিক কথার মাধ্যমে। ২ সময়ে নাযিলকৃত ২ টি ভিন্ন সূরায় কাছাকাছি বিষয়ে এভাবে মনে রেখে ৩ টি নতুন বৈশিষ্ট্য ও তার সাথে মিল রেখে ৩ ডিগ্রী বেশি বিস্ময় প্রকাশ করা; এটি কি মানুষের পক্ষে সম্ভব? এখন কুরআন আমাদের মাঝে লিখিত আকারে আছে এজন্য এভাবে ২ সময়ে নাযিলকৃত ২ টি ভিন্ন সূরা কাছাকাছি নিয়ে পর্যালোচনা করা যাচ্ছে, কিন্তু এটি যদি মুহাম্মাদ (স) এর মুখের কথা হতো তাহলে কি তিনি এতো নিখুতভাবে মনে রেখে বলতে পারতেন? আল্লাহু আকবার। তিনি মহান ও বিস্ময়কর আল কুরআনের স্রষ্টা।সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা আনআম, ইউসুফ, কাহাফ, হজ্জ, ইয়াসীন, রহমান, দাহরে এসেছে সবুজ শব্দটি। কালো শব্দটি কুরআনে এসেছে ৭ বার। জাহান্নামের দরজা ৭ টি। জাহান্নামের সাথে কালো শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নাহল, ফাতির, জুমার, জুখরুফ এ এসেছে কালো শব্দটি।
অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের দরজা মোট ১৫ টি। আল কুরআনে দরজা শব্দটির বহুবচনঃ দরজাসমূহও এসেছে ১৫ বার। এগুলো এসেছে বাকারা, আনআম, আরাফ, ইউসুফ, হিজর, নাহল, সোয়াদ, জুমার, মুমিন, জুখরুফ, কমার, নাবা তে। মজার ব্যাপার হলো, ৭ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জাহান্নামের দরজা সম্পর্কিত এবং ৮ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জান্নাতের দরজা সম্পর্কিত। কি দারুন মিল!
.jpg)




মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন