পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

১১। সূরা হুদ

ছবি
আরেকটি সুন্দর বিষয় হলোঃ সূরা বাকারায় আল কুরআনের মত ১ টি সূরা তৈরির চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। ২য় সূরা বাকারার আগে সূরা আছে ১ টি। আবার সূরা হুদে আল কুরআনের মত ১০ টি সূরা তৈরির চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। ১১ তম সূরা হুদের আগে সূরা আছে ১০ টি। কি সুন্দর সূরার পজিশনিং এবং সংখ্যাগত মিল!!! মাশা আল্লাহ।  প্রায় একই ধরনের বাক্যের ভিন্ন রকম সূক্ষ্ম পার্থক্য ও সৌন্দর্য্যঃ   ১১ তম সূরা হুদ, আয়াত ৭৭ এ আল্লাহর পাঠানো ফেরেশতাগণের লূত (আ) এর নিকট আগমনের কথা বর্ননা করা হয়েছে। অন্যদিকে ২৯ তম সূরা আনকাবুত, আয়াত ৩৩ এ এই আয়াতে আল্লাহর পাঠানো ফেরেশতাগণের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে লূত (আ) এর নিকট আগমনের কথা বর্ননা করা হয়েছে। সূরা হুদের আয়াতটি এবং সূরা আনকাবুত এর আয়াতটি প্রায় একই শব্দসমূহ দিয়ে গঠিত হলেও সূরা আনকাবুত এর আয়াতে আন (اَنۡ) শব্দটি বেশি রয়েছে; যার দ্বারা বোঝানো হয় দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে আল্লাহর পাঠানো ফেরেশতাগণের লূত (আ) এর নিকট আগমন করেছেন। এটি মূলত দুই সূরার নাযিলের সময়কাল ও প্রেক্ষাপটের দিকে নজর দিলে সুস্পষ্ট হবে।   সূরা হুদ নাযিল হয় মুহাম্মাদ (স) এর দাওয়া...

৭২। সূরা জ্বীন

ছবি
সূরা জ্বীন এর ৮-১০ নং আয়াত থেকে জানা যায়, আল কুরআন নাযিল এমন বিস্ময়কর ব্যাপার ছিল যে তা জ্বীনরাও বুঝতে পেরেছিল কিছু একটা হতে যাচ্ছে। তারা অবাক হয়েছিল যে, তারা আগে আসমানের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পারতো কিন্তু এক সময় সব লকডডাউন হয়ে গিয়েছিল। উল্কা, তারকা নিক্ষিপ্ত হচ্ছিল তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রনের জন্য। এজন্য তারা পৃথিবীতে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছিল। তখন তারা ভাবছিল, আসমান বন্ধ শুধু পৃথিবী খোলা, পৃথিবীতে নিশ্চয়ই অস্বাভাবিক কিছু হতে যাচ্ছে।  পরে তারা কুরআন শুনলো। তখন তারা বুঝতে পারলো, ও! এই জন্য সব কিছু লকড হয়ে ছিলো!  কুরআন নাযিলের সময়ে আসমানে একটি প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল যেন তাঁর কোন অংশ চুরি করে জ্বীন বা শয়তান নিয়ে নিতে না পারে বা জেনে যেতে না পারে। উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে  উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ  রিভাইভ ইয়োর হার্ট  ,  ডিভাইন স্পিচ ,  বাংলাঃ  উপমার শৈল্পিকতায় মুগ্ধময় কোরআন ,...

৪৬। সূরা আল আহকাফ

ছবি
মা বাবার সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ইহসান’ শব্দটি ব্যবহার করে হয়েছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই তবে একটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে ‘হুসন’ শব্দটি। আরবীতে শব্দের ক্ষেত্রে একই ধরনের শব্দে বর্ণ সংখ্যা বেশি হলে তার অর্থতেও সেই প্রভাব পড়ে, বেশি বর্ণ মানে বেশি প্রকট অর্থ বুঝায়। স্বাভাবিকভাবে  ২:৮৩ , ৪:৩৬, ৬:১৫১, ১৭:২৩, ৪৬:১৫ আয়াতগুলোতে নেককার মা বাবা হওয়ায় তাদের প্রতি ইহসান বা সর্বোচ্চ সুন্দর ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ। অন্যদিকে ২৯:৮৮ আয়াতে সর্বোচ্চ সুন্দর ব্যবহারের চেয়ে কম মাত্রার অর্থবহ ‘হুসন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে সেই সকল মা বাবার প্রতি যারা শিরক করার জন্য চাপ দেয়। আল্লাহর শব্দ ব্যবহার কত যুক্তিপূর্ণ ও নিখুঁত!   প্রাচীন রোমান সভ্যতায় ক্যালেন্ডারে বছরে ১০ মাস ছিল। আল্লাহ আল কুরআনে ঘোষনা করেছেন বছরে মাস ১২ টি।   شهر (শাহরুন) শব্দের অর্থ মাস। বছরে মাস মোট ১২ টি; আল কুরআনে শাহরুন শব্দটি এসেছে মোট ১২ বার! (২:১৮৫, ২:১৮৫, ২:১৯৪, ২:১৯৪, ২:২১৭, ৫:২, ৫:৯৭, ৯:৩৬, ৩৪:১২, ৩৪:১২, ৪৬:১৫, ৯৭:৩)। বেশ সুন্দর মিল!!! আল কুরআনের আলোকে ২ ধরনের বাতাসের পার্থক্যঃ  বহুবচনের বাতাস ‘রিয়াহ’...

৪২। আশ শূরা

ছবি
নির্দেশনা দেয়া অর্থে آوٌصأ (আওছ) এবং وَصَّ (ওয়াচ্ছ) ২ টি শব্দই ব্যবহার করা হয়। আধ্যাত্মিক ইবাদাত যেগুলো বার বার করতে হয় (যেমন নামাজ, রোজা, তাকওয়া, সাদাকা ইত্যাদি) সেগুলোর নির্দেশনা দিতে দ্বিরুক্তিমূলক শব্দ ‘ওয়াচ্ছ’ ব্যবহৃত হয়েছে (যেমন ৪২:১৩)। আর্থিক বিষয়ক ইবাদাত যেগুলো সাধারনত একবারেই করা হয় (যেমন মৃত ব্যক্তির সম্পদ বন্টন) তেমন নির্দেশনা দিতে ‘আওছ’ ব্যবহৃত হয়েছে।  তবে ব্যতিক্রম ঈসা (আ) এর ক্ষেত্রে। তিনি ১৯ নং সূরা মারইয়াম এর ৩১ নং আয়াতে আল্লাহর কাছ থেকে নামাজ ও যাকাতের নির্দেশনা পেয়েছিলেন। সেখানে দ্বিরুক্তিমূলক শব্দ ‘ওয়াচ্ছ’ ব্যবহৃত না হয়ে ‘আওছ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এর কারন হলো তিনি ১ দিন বয়সে এই কথা বলেছিলেন এবং ঐ ১ দিনে ১ বারই নির্দেশনা পেয়েছিলেন, বার বার নয়।  আল কুরআনের আলোকে ২ ধরনের বাতাসের পার্থক্যঃ  বহুবচনের বাতাস ‘রিয়াহ’  এই বাতাস নিয়ামত হিসাবে আসে। হেলেদুলে প্রবাহিত হয়, কখনও এদিক থেকে কখনও  ওদিক থেকে বিক্ষিপ্তাকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বইতে থাকে; কেমন যেন সেখানে অনেকগুলো বাতাস থাকে । এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ ২:১৬৪, ৭:৫৭, ১৫:২২, ১৮:৪৫, ২৫:৪৮, ২...

২৭। সূরা আন নামল (পিঁপড়া)

ছবি
আমাদের বিজয় দিবসে সাধারনত সামরিক কুচকাওয়াজ, মহড়া ও সমরাস্ত্র প্রদর্শনী হয়। আল কুরআনে বিশাল শক্তিশালী এক সামরিক কুচকাওয়াজ, মহড়া ও   সমরাস্ত্র  (সম্ভাব্য)  প্রদর্শনীর উল্লেখ আছে এই সূরায়, ১৭ নং আয়াতে। সুলাইমান (আ) এর মানুষ, জিন ও পাখী(সহ সম্ভাব্য আরও প্রাণী) এর বাহিনীর একত্রিত, সুগঠিত মহড়া সত্যই ব্যতিক্রমী কারন এই বাহিনীতে জিন জাতিও ছিল। "অবশেষে যখন তারা 'নামল' (পিঁপড়া) উপত্যকায় পৌঁছাল, এক পিঁপড়া বলল, ‘হে পিঁপড়ারা! তোমরা তোমাদের ঘরসমূহতে প্রবেশ কর, নাহলে সুলাইমান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদের পিষ্ট করে ফেলবে’।"  ২৭ তম সূরা নামল, আয়াত ১৮  এখানে পিঁপড়া উপত্যকা বলা হয়েছে এর অর্থ হল পিঁপড়ারা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে মিলেমিশে একতাবদ্ধ, সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। তাদের রয়েছে একতাবদ্ধভাবে বিভিন্ন দায়িত্ব বিভাজন করে কাজ করা, বাসা বানানো, দলগত প্রতিরক্ষা ইত্যাদি।  সুতরাং এর মাধ্যমে আল্লাহ পিঁপড়ার সমাজবদ্ধ জীবনের ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন। প্রবেশ করার ক্ষেত্রে ‘ঘরে’ না বলে বহুবচনে ‘ঘরসমূহ’তে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। (২৭ঃ১৮)   আবিষ্কৃত হয়েছে যে পিঁপড়াদের কয়েক ধরনে...

৭৯। সূরা আন নাযিয়াত

ছবি
শুরুতেই বলা হচ্ছে শপথ, (সেই ফেরেশতাদের) যারা নির্মমভাবে (আত্মা) ছিনিয়ে আনে। (৭৯:১)  খারাপ মানুষের আত্মা সহজে বের হতে চায় না; তাই জোর করে ছিনিয়ে আনা লাগে রব একমাত্র আল্লাহই। এই ‘রব’ শব্দটির অর্থ ও রবের পরিপূর্ন পরিচয় না জানা থাকলে অন্য কাউকে বা জিনিসকে রব হিসাবে মনে করার সম্ভাবনা রয়ে যায়। যেমনটি হয়েছে ফেরাঊনের ক্ষেত্রে। আল কুরআনে বর্নিত ফেরাউন অজ্ঞতার কারনেই হোক বা দাম্ভিকতা ও ঔদ্ধত্যের কারনেই হোক, নিজেকে ‘রব’ দাবী করেছিলো। (সে বললো, “আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় রব”। আল কুরআন; ৭৯ তম সূরা আন নাযিয়াত আয়াত ২৪)।  উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে  উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ  রিভাইভ ইয়োর হার্ট  ,  ডিভাইন স্পিচ ,  বাংলাঃ  উপমার শৈল্পিকতায় মুগ্ধময় কোরআন ,  কুরআন বোঝার মজা ,  আল ফাতিহা ,  পড়ো ,  পড়ো ২  ৩০ পারার ইলাস্ট্রেশন এর বই

বই নিয়ে আমার বিভিন্ন কার্যক্রম

ছবি
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম   পেশা প্রকৌশল (ইঞ্জিনিয়ারিং) হলেও নেশা বই। ছোটবেলায় স্কূল জীবনে লুকিয়ে বই পড়া থেকে শুরু করে কলেজে, বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় এবং এখন চাকুরী জীবনেও বই নিয়ে নানা ধরনের কাজ করছি। নানা ভাবে বই নিয়ে কাজ করে মানুষকে বই পড়তে, কিনতে, উপহার ও পুরস্কার হিসাবে দিতে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। এবং এই কাজ আজীবন করে যাব ইনশা আল্লাহ। নানা ধরনের ইনোভেটিভ কাজগুলো পয়েন্ট আকারে ছবি ও ভিডিও ও লিঙ্ক দেয়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো।      মুনতাসির মামুন  নির্বাহী প্রকৌশলী (চঃদাঃ), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা  ০১৮১৮৪০৭৯১৯     1. বই লেখাঃ   আলহামদুলিল্লাহ মুসলিম ভিলেজ প্রকাশনী থেকে আমার লেখা একটি একক বই গল্পগুলো নামাজের (রকমারি ওয়েবসাইটের লিঙ্ক  https://www.rokomari.com/book/287547/golpogulo-namager ) প্রকাশিত হয়েছে ও খুলনার একুশে বইমেলা ২০২৩ এর মূল স্টেজে মোড়ক উন্মোচন হয়েছে (লিঙ্কঃhttps://youtu.be/EYzGIooLPNs?si=x5lrba_nD7mDYpLL ) এবং অনেকের লেখার সাথে আমারও লেখা নিয়ে সংকল্প প্রকাশন থেকে ২ টি বই হৃদয় গলে কুরআনেঃ https://w...