৩৩। সূরা আল আহযাব

৪ নং আয়াত (এর প্রথম অংশ)। "আল্লাহ কোন পুরুষের দেহাভ্যন্তরে দু’টি হৃদয় রাখেননি"। এখানে সাধারন অর্থে মানুষ না বলে শুধু পুরুষের কথা কেন বলা হলো? অন্য সকল  জায়গায় বুকের ভিতর হৃদয় থাকার কথা বলা হলেও এখানে 'দেহাভ্যন্তরে' কেন বলা  হলো? হা, এখানেই আল আল কুরআনের শৈল্পিক সৌন্দর্য্য বিদ্যমান।        



আমরা  যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের মায়েদের অর্থাৎ নারীদের ২ টা হৃদয় ছিলো। একটা  ছিলো তাদের বুকের ভিতর, আরেকটা পেটের ভিতর (আমাদেরটা )। এজন্য এখানে বলা  হয়েছে দেহাভ্যন্তরে দু’টি হৃদয়। সুতরাং "আল্লাহ কোন পুরুষের দেহাভ্যন্তরে  দু’টি হৃদয় রাখেননি"। সুবহানাল্লাহ !!! 


আল কুরআনের আলোকে ২ ধরনের বাতাসের পার্থক্যঃ  বহুবচনের বাতাস ‘রিয়াহ’  এই বাতাস নিয়ামত হিসাবে আসে। হেলেদুলে প্রবাহিত হয়, কখনও এদিক থেকে কখনও  ওদিক থেকে বিক্ষিপ্তাকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বইতে থাকে; কেমন যেন সেখানে অনেকগুলো বাতাস থাকে । এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ ২:১৬৪, ৭:৫৭, ১৫:২২, ১৮:৪৫, ২৫:৪৮, ২৭:৬৩, ৩০:৪৬, ৩৫:০৯, ৪৫:০৫

অপরদিকে এক বচনের বাতাস ‘রীহ’। এই বাতাস আযাব হিসাবে আসে। বজ্রকঠিন ও একে অন্যের সাথে লাগোয়া। অনেক বেশি জমাটবাঁধা, ঘনীভূত ও সঙ্ঘত; কেমন যেন একটাই মাত্র তাবাস থাকে। এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ  ৩:১১৭, ১৪:১৮, ১৭:৬৯, ২২:৩১, ৩০:৫১, ৩৩:৯, ৪২:৩৩, ৪৬:২৪ সাধারনভাবে একবচন ও বহুবচন নেকই ধরনের অর্থ প্রকাশ করলেও আল কুরআন এখানে বহুবচনে নিয়ামত ও একবচনে আযাব প্রকাশ করেছে।    



উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সূরাসমূহের নোট

১৮। সূরা আল কাহাফ (গুহা)

১। সূরা আল ফাতিহা (সূচনা)