৪৮। সূরা আল ফাতহ
আয়াত ২৯ (আংশিক) এ আল্লাহ বলছেনঃ একটি চারা গাছ যা থেকে বের হয় কিশলয়, পরে তা শক্ত ও মজবুত হয়ে স্বীয় কাণ্ডে ভর করে দাঁড়ায়; যা কৃষককে খুশী করে কিন্তু কাফের তার পরিপুষ্টি লাভ দেখে মনোকষ্ট পায়।
এখানে সাহাবীদের ক্রম উন্নতিকে আল্লাহ ক্রমবর্ধমান গাছের সাথে তুলনা করেছেন। এবং তাদের এই উন্নতি দেখে মুহাম্মাদ (স) ও প্রশান্ত হন। সূরার শুরুতে আল্লাহ বিজয়ের কথা বলেছেন এবং শেষেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মুহাম্মাদ (স) এর ফাতহ (বিজয়) ও সাফল্য এটাও যে তিনি আল্লাহর সাহায্যে এমন গাছরুপী সাহাবীদের পরিচর্যা করেছেন যারা তাঁর প্রশান্তি ও কাফেরদের মনোকষ্টের কারন।যদিও এই আয়াতে সব বর্ন না থাকলেও মুহাম্মাদ (স) আল কুরআনের জীবন্ত নমুনা এটা মিথ্যা হয়ে যেত না, আবার ২৯ বর্ন সম্বলিত এই আয়াতে মুহাম্মাদ (স) এর নাম না থাকলেও বিষয়টা অন্যরকম হতো না নয়। তবুও বিষয়টা বেশ চমকপ্রদ। আল্লাহ আমাদের হয়তো তার জ্ঞান, হিসাব ইত্যাদির অল্প অল্প নমুনা এভাবে বিভিন্ন আয়াতে দেখান। আলহামদুলিল্লাহ
সূরা আল ফাতহ এর গঠনের সারমর্ম ও সৌন্দর্য্য
এই সূরার মূল থীম হলো ক্ষমা। শুরুতে ক্ষমা, শেষে ক্ষমা এবং মাঝে ক্ষমার কথা এসেছে। এই সূরার গঠন এর দিকে যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব মূলত মোটা দাগে সূরাটিকে ১১ ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
১ম ভাগে আয়াত ১-৩ তে আল্লহর রসূল (স) এর প্রতি উপহার হিসাবে ক্ষমা এর কথা এসেছে। ২য় ভাগে আয়াত ৪-৬ তে উম্মাহর জন্য উপহার হিসাবে সাকিনাহ এর উল্লেখ রয়েছে। ৩য় ভাগে আয়াত ৭ এ আল্লহর বাহিনীর উল্লেখ করা হয়েছে। ৪র্থ ভাগে আয়াত ৮-১০ এ রাসূল (স) ও তার উম্মাত, আল্লাহর প্রিয় মানুষ ও বাইয়াত বিষয়ে আলোচনা এসেছে। ৫ম ভাগে আয়াত ১১-১৩ এ অতীতে যাদের বিরত রাখা হয়েছিল, আল্লাহর অপ্রিয় মানুষ এবং মুনাফিক সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ ভাগে আয়াত ১৪ তে আল্লাহর রাজত্ব এবং ক্ষমা উল্লখিত হয়েছে। ৭ম ভাগে আয়াত ১৫-১৭ এ পরে যাদের বিরত রাখা হবে, আল্লাহর অপ্রিয় মানুষ এবং মুনাফিক এর বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। ৮ম ভাগে আয়াত ১৮-২১ এ আনুগত্য ও তার প্রতিদান, আল্লাহর পছন্দের মানুষ, বাইয়াত সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে। ৯ম ভাগে আয়াত ২২-২৩ তে কুফরী বাহিনীর পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। ১০ম ভাগে আয়াত ২৪-২৬ তে আল্লহর সাহায্য ও সাকিনাহ এর উল্লেখ রয়েছে। ১১ তম ভাগে আয়াত ২৭-২৯ এ আল্লহর দেখানো স্বপ্ন এর সত্যতা ও ক্ষমা এর বিষয় দিয়ে সূরাটি শেষ হয়েছে।
সুতরাং, ১ম ভাগের সাথে ১১ তম ভাগ, ২য় ভাগের সাথে ১০ম ভাগ, ৩য় ভাগের সাথে ৯ম ভাগ, ৪র্থ ভাগের সাথে ৮ম ভাগ, ৫ম ভাগের সাথে ৭ম ভাগ এর গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। কি সুন্দর গঠন, সুবহানাল্লহ।


.jpg)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন