৫৫। সূরা আর রহমান

২য় আয়াতে আল্লাহ বলছেনঃ “এই কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন” অর্থাৎ তিনি আল কুরআন শিখিয়েছেন। আল কুরআন শেখা মুহাম্মাদ (স) এর সুন্নাহ ।  কিন্তু আল কুরআন শেখানো শুধু মুহাম্মাদ (স) এর সুন্নাহই নয়, আল্লাহরও সুন্নাহ।       

এছাড়াও হাদীসে আছে, সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম; যে কুরআন শেখে ও তা শেখায়। সুতরাং আল কুরআন শেখা ও তা শেখানো আল্লাহ ও মুহাম্মাদ (স) এর বৈশিষ্ট্য  যা উম্মতদের অর্জন করা উচিত ।   

চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)। 

অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়। 

তখনকার কাফের মুশরিকরা অনেক বছর ধরেই আল কুরআন শুনে আসছিলো কিন্তু তারা পরিবর্তিত হচ্ছিলো না; বরং কুরআনের বিরোধিতা করছিলো। এই পরিস্থিতিতেই সূরা আর রহমান এর আয়াতসমূহ নাযিল হয়       
আল্লাহর বর্ননা নিখুঁত; কারন তাঁর বর্ননার বিষয়বস্তু, স্টাইল সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শ্রোতাও নির্দিষ্ট। তখনকার মক্কার মুশরিকরা চরম একগুঁয়ে হয়ে পড়েছিলো।      

তাই তাদের একগুঁয়েমি ভাঙ্গার জন্য আল্লাহ একই আয়াত (فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ) বার বার উল্লেখ করেছেন ও নানা রকম যুক্তি দিয়েছেন।        

সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা আনআম, ইউসুফ, কাহাফ, হজ্জ, ইয়াসীন, রহমান, দাহরে এসেছে সবুজ শব্দটি। কালো শব্দটি কুরআনে এসেছে ৭ বার। জাহান্নামের দরজা ৭ টি। জাহান্নামের সাথে কালো শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নাহল, ফাতির, জুমার, জুখরুফ এ এসেছে কালো শব্দটি।

অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের দরজা মোট ১৫ টি। আল কুরআনে দরজা শব্দটির বহুবচনঃ দরজাসমূহও এসেছে ১৫ বার। এগুলো এসেছে বাকারা, আনআম, আরাফ, ইউসুফ, হিজর, নাহল, সোয়াদ, জুমার, মুমিন, জুখরুফ, কমার, নাবা তে। মজার ব্যাপার হলো, ৭ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জাহান্নামের দরজা সম্পর্কিত এবং ৮ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জান্নাতের দরজা সম্পর্কিত। কি দারুন মিল!

আগের সূরার সাথে সম্পর্কঃ আগের (৫৪ নং) সূরা আল ক্বমারের (goo.gl/iDG53t) বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে কন্টিনিউএশন এর কারনে আল্লাহর এই রহমান নামটিই এখানে পারফেক্ট। আগের সূরায় অন্য নবীদের তাদের জাতিরা অমান্য করেছে। নবীদের message অমান্য এবং miracle দেখেও আনুগত্য না করার কারনে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। শেষ নবী মুহাম্মাদ (স) এর উপর নাযিলকৃত কুরআন একই সাথে  message ও miracle। আল্লাহ তার শেষ উম্মত অর্থাৎ কুরইশ ও আমাদের মত নাদান কিছু উম্মাতের উপর এতটাই রহমতের ছায়া বিস্তার করেছেন যে, এই কুরআন এর অবাধ্য হলেও তিনি আমাদের সমূলে ধংস করেন নি বা করছেন না। তিনি কত বড় রহমান। এটা সূরার নামকরনের একটা বড় স্বার্থকতা।

পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ  এদের  মধ্যে খুব সুন্দর একটি মিল আছে। তাহলো; সূরা দুটি বিপরীত প্রতিসম!!!  অর্থাৎ সূরা দুটির মূল বক্তব্যে বিপরীত দিক থেকে অপুর্ব মিল বিদ্যমান। 



উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সূরাসমূহের নোট

১৮। সূরা আল কাহাফ (গুহা)

১। সূরা আল ফাতিহা (সূচনা)