২৩। সূরা আল মু’মিনুন (বিশ্বাসীরা)

বর্ননাঃ ১ম আয়াতেই সরাসরি আল্লাহ মুমিনদের সফলতার সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছেন। যারা ঈমান এনেছে (আল্লাযী-না আ-মানু) ও যারা মুমিন (মু’মিনূ-ন) তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। যারা ঈমান এনেছে শব্দগুলো ক্রিয়া/কাজ এর সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং মুমিন শব্দটি বিশেষ্য এর সাথে সম্পর্কযুক্ত।  সাধারনত ক্রিয়া অস্থায়ী এবং বিশেষ্য স্থায়ী হয়।      

যারা ঈমান এনেছে বলতে সেই সব মানুষদের বোঝায় যারা মুখে ঈমান এনে ইসলামে প্রবেশ করেছে কিন্তু অন্তরে ঈমান এখনও পুরাপুরি গেঁথে যায় নাই। অপরদিকে মুমিন বলতে সেই সব মানুষদের বোঝায় যারা মুখে ও অন্তরে ঈমান রাখে এবং স্থায়ী ও দৃঢ় ভাবে তাতে প্রতিষ্ঠিত থাকে।     

মুমিনদের একটি বৈশিষ্ট্য এটা যে, তারা  নামাজে একাগ্র ও পূর্ন মনোযোগী।  পরিবার, স্বজন, অর্থ, কাজ ও অন্য সকল কিছুর থেকে মনোযোগ সরিয়ে একমাত্র  আল্লাহর সাথেই সংযোগ থাকাকে এখানে (২৩ তম সূরা আল মু'মিনুন এর ২য় আয়াতে) ‘খুশু’ হিসাবে বোঝানো হয়েছে। তাকবীরে তাহরীমা (অন্য পার্থিব সকল  কিছু হারামকারী তাকবীর) বলার সাথে সাথেই যেন তারা অন্য জগতে প্রবেশ করে।  মুমিন মনে করে যে সে আল্লাহকে দেখছে। আল্লাহ মুমিনকে দেখেন। 
সফল মুমিনদের একটি বৈশিষ্ট্য হিসাবে নামাজে একাগ্রতা ও পূর্ন মনোযোগীতার  বিষয়টি এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। ঈমান দৃঢ় করা ও রাখার অন্যতম প্রধান উপায়ঃ  আল্লাহর সাথে দৃঢ় সম্পর্ক রাখা যা খুশু বিশিষ্ট নামাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়।   

মানুষের সৃষ্টির সূচনা আল্লাহ নিখুঁতভাবে বর্ননা করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই তো জানেন কিভাবে এই সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি মানুশকে তার সৃষ্টি সম্পর্কে অন্ধকারে রাখেননি, বিভিন্ন আয়াতে বলে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি ‘নুতফাহ’(নগণ্য পরিমান তরল/শুক্রাণু) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটি পাওয়া যায় আল কুরআনের ১৬:৪, ১৮:৩৭, ২২:৫, ২৩:১৩, ৩৫:১১, ৩৬:৭৭, ৪০:৬৭, ৫৩:৪৬, ৭৫:৩৭, ৮০:১৯ তে।  

সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা আনআম, ইউসুফ, কাহাফ, হজ্জ, ইয়াসীন, রহমান, দাহরে এসেছে সবুজ শব্দটি। কালো শব্দটি কুরআনে এসেছে ৭ বার। জাহান্নামের দরজা ৭ টি। জাহান্নামের সাথে কালো শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নাহল, ফাতির, জুমার, জুখরুফ এ এসেছে কালো শব্দটি।

অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের দরজা মোট ১৫ টি। আল কুরআনে দরজা শব্দটির বহুবচনঃ দরজাসমূহও এসেছে ১৫ বার। এগুলো এসেছে বাকারা, আনআম, আরাফ, ইউসুফ, হিজর, নাহল, সোয়াদ, জুমার, মুমিন, জুখরুফ, কমার, নাবা তে। মজার ব্যাপার হলো, ৭ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জাহান্নামের দরজা সম্পর্কিত এবং ৮ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জান্নাতের দরজা সম্পর্কিত। কি দারুন মিল!

সূরার ২৯ আয়াতে রব্বি শব্দটি এসেছে। ‘রব্বি’ ও ‘রব্বানা’ শব্দটি মূলত দুটি করে শব্দ। ‘ইয়া রব্বি’ ও ‘ইয়া রব্বানা’। কিন্তু ‘ইয়া’ বা ‘হে’ শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে বিলুপ্ত করে ব্যবহার করা হয়। আল্লাহ  আমাদের খুবই কাছের, আপন বিধায় দূরবর্তি সংক্রান্ত শব্দ ‘হে’ বাদ দিয়ে শুধু রব্বি বা রব্বানা বলা হয়। সুবহানাল্লহ!


আল কুরআনে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের শ্রবণেন্দ্রীয়, দর্শনেন্দ্রিয় ও অন্তঃকরণ/মন মস্তিষ্ক এর ব্যাপারে উল্লেখ আছে (যেমন ১৬:৭৮, ১৭:৩৬, ২৩:৭৮, ৩২:৯)। এই ইন্দ্রীয়গুলোর ক্রম মায়ের পেট এ সূচনা ও উন্নয়ন এর ক্রম অনুসারেই লিপিবদ্ধ হয়েছে! অর্থাৎ সবার আগে কানের এর পর চোখের ও পরে হৃদয় ও মস্তিস্কের গঠন ও পূর্নতা সাধিত হয়েছে! পরে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েও এই ধারা কার্যকরী। 

কোন কথা প্রথমে শুনেই হুট করে বিশ্বাস না করে নিজের চোখ দিয়ে দেখে যাচাই করা উচিৎ এরপর শোনা ও দেখা বস্তুটি সম্পর্কে অন্তর ও বুদ্ধি বিবেক দিয়ে যাচাই ও পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ। 

রেফারেন্স ও কৃতজ্ঞতাঃ বিভিন্ন তাফসীর, বিশেষ করে Nouman Ali Khan এর তাফসীর, বিভিন্ন লেকচার, ভিডিও ইত্যাদি।



উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ