৪৫। সূরা আল জাসিয়াহ
৩১ নং সূরা লুকমানের ৭ নং আয়াত এ বর্নিত শ্রোতা এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সে অহংকারবশতঃ এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় যেন সে তা শুনতেই পায়নি, যেন তার দুই কানে বধিরতা আছে। মূলত অসার কথাবার্তা, হৈ হুল্লোড়, গান বাজনা তাকে শুনতে বাঁধা দেয়।
অন্যদিকে একই ধরনের, প্রায় কাছাকাছি বর্ননা বিশিষ্ট আরেকটি আয়াত আছে ৪৫ তম সূরা জাসিয়াহ, আয়াত ৮ এ। তবে সেখানে বর্নিত শ্রোতা এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; শোনে যা তার সামনে পাঠ করা হয়, অতঃপর ঔদ্ধত্যের সাথে অটল থাকে যেন সে তা শোনেইনি। অর্থাৎ এখানে বর্নিত শ্রোতা আরেক কাঠি সরেস; ভালভাবে শুনলেও অহংকার, দাম্ভিকতা তাকে দূরে রাখে, আবার সে পরবর্তীতে এ নিয়ে ঠাট্টাও করে। আল্লাহ আমাদের এমন ২ ধরনের শ্রোতা না বানান। আমিন।২ টি শব্দের অদল-বদলঃ ২য় সূরা আল বাকারার ৭ম আয়াতে আল্লাহ বলছেনঃ "আল্লাহ তাদের হৃদয়ে ও কানে মোহর মেরে দিয়েছেন" আবার ৪৫ নং সূরা আল জাসিয়াহ এর ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলছেনঃ "তার কানে ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন" । এই ২ টা শব্দ 'হৃদয়' ও 'কান' অদল বদল হয়ে গেলো; এটা কি শুধু বলার খাতিরে বা শ্রুতিমধুরতার কারনে? না। আল্লাহ অনেক বড় ও নিখুঁত রচয়িতা। এর ২ টা শব্দ অদল বদল এর মূল কারন জানতে হলে আগের কয়েকটি আয়াত পড়তে হবে।
আল বাকারার ২য় আয়াতের সন্দেহ, হিদায়াত ও তাকওয়া এগুলোও হৃদয় সংশ্লিষ্ট। ৩য়, ৪র্থ আয়াতের ঈমান, ৫ম আয়াতের হিদায়াত, ৬ষ্ঠ আয়াতের কুফরী সবই হৃদয় সংশ্লিষ্ট। এজন্য তিনি হৃদয়ের কথা আগে বলেছেন সূরা আল বাকারায়। অন্যদিকে সূরা আল জাসিয়াহর ৮ম আয়াতে আল্লাহ বলছেনঃ "যার সামনে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় এবং সে তা শোনে তারপর পুরো অহংকার নিয়ে কুফরীকে এমনভাবে আঁকড়ে থাকে যেন সে ঐগুলো শোনেইনি। এ রকম লোককে কষ্টদায়ক আযাবের সুখবর শুনিয়ে দাও"। এখানে তাদের শোনার ক্ষেত্রে আপত্তি/অসবীকার করার বিষয়টা উঠে এসেছে তাই সূরা আল জাসিয়াহ তে আল্লাহ আগে কানের কথা বলেছেন পরে হৃদয়ের কথা বলেছেন। আল্লাহু আকবার। অসাধারন, নিখুঁত তাঁর সৃষ্টি
আল কুরআনের আলোকে ২ ধরনের বাতাসের পার্থক্যঃ বহুবচনের বাতাস ‘রিয়াহ’ এই বাতাস নিয়ামত হিসাবে আসে। হেলেদুলে প্রবাহিত হয়, কখনও এদিক থেকে কখনও ওদিক থেকে বিক্ষিপ্তাকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বইতে থাকে; কেমন যেন সেখানে অনেকগুলো বাতাস থাকে । এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ ২:১৬৪, ৭:৫৭, ১৫:২২, ১৮:৪৫, ২৫:৪৮, ২৭:৬৩, ৩০:৪৬, ৩৫:০৯, ৪৫:০৫
অপরদিকে এক বচনের বাতাস ‘রীহ’। এই বাতাস আযাব হিসাবে আসে। বজ্রকঠিন ও একে অন্যের সাথে লাগোয়া। অনেক বেশি জমাটবাঁধা, ঘনীভূত ও সংহত; কেমন যেন একটাই মাত্র তাবাস থাকে। এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ ৩:১১৭, ১৪:১৮, ১৭:৬৯, ২২:৩১, ৩০:৫১, ৩৩:৯, ৪২:৩৩, ৪৬:২৪ সাধারনভাবে একবচন ও বহুবচন নেকই ধরনের অর্থ প্রকাশ করলেও আল কুরআন এখানে বহুবচনে নিয়ামত ও একবচনে আযাব প্রকাশ করেছে।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন