৬৩। সূরা আল মুনাফিকুন

মুনাফিকরা খুবই বিপদজনক সম্প্রদায়। এদের পরিনাম (জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান) তাদের কর্মের সাথেই তুলনা করেই আল্লাহ নির্ধারন করেছেন। আল্লাহ ২য় সূরা আল বাকারার শুরুর দিকে ৩ প্রকার মানুষের বর্ননা দিয়েছেন। বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী ও মুনাফিক। ৩ আয়াতে (আয়াত ৩-৫) তিনি অল্প কথায় বিশ্বাসীদের বর্ননা দিয়েছেন। ২ আয়াতে (আয়াত ৬-৭) তিনি আরো অল্প কথায় অবিশ্বাসীদের বর্ননা দিয়েছেন। এরপর মুনাফিকদের পরিচয় দিতে তিনি ১৪ আয়াত (আয়াত ৮-২০) ব্যবহার করেছেন! যেহেতু মুনাফিকরা তাদের চিন্তাধারা গোপন রাখে, তাদের চিনতে কষ্ট হয় তাই আল্লাহ এভাবে বিশদ বর্ননা করে তাদের পরিচয় দিয়েছেন। আল্লাহ কত প্রজ্ঞাবান!!    

তিনি এখানেই থামেননি। বরং মুনাফিকদের জন্য একটি সূরাই নির্ধারন করে দিয়েছেন। মুনাফিকদের জন্য স্পেশালি এই সূরাটি নাযিল করা হয়েছে।    

সূরার সার সংক্ষেপঃ   ১ম অংশে (আয়াত ১-৩) আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের একটা ওভারভিউ (মিথ্যাবাদী, আল্লাহর পথ থেকে নিজেরা দূরে থাকা ও অন্যদেরও দূরে রাখা, কুফরী করা) দিয়ে দিয়েছেন।

 ২য় অংশে (আয়াত ৪-৬) আল্লাহর রসূল (সঃ) এর সাথে মুনাফিকদের আচরন এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রতি মুহাম্মাদ (সঃ) এর আচরন কেমন হওয়া উচিত এবং আল্লাহর প্রিয় নবীর প্রতি তাদের এই ব্যবহারের কারনে আল্লাহ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন (ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহনযোগ্য হবে না)।   ৩য় অংশে (৭-৮) আয়াতে আল্লাহ মুনাফিকদের সম্পর্কে আবার বলেছেন ও তাদের চরিত্র (কৃপনতা, অহংকার) ও প্লান  (মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও তাদের অসম্মান করা) ফাস করে দিয়েছেন।    

তাদের ওই প্লানের  বিপরীতে সূরার শেষ অংশে (আয়াত ৯-১১) আল্লাহ উপদেশ দিয়েছেন অর্থ ব্যায়ের ব্যাপারে।  মুনাফিকদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা নিজেরা আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় না করে থামে না বরং অন্যকেও অনুৎসাহিত করে। আল্লাহ এই অংশে ক্লিয়ার করলেন যে, এই ধন-সম্পদের চেয়ে আল্লাহর স্মরন ও তাঁর জন্য তা ব্যয় করা অনেক অনেক বেশি দরকারি। ‘ইনফাক’ (আল্লাহর পথে ব্যয় ) ‘নিফাক’কে দূরে রাখতে সহায়তা করে।   

আগের সূরার সাথে সম্পর্কঃ আগের সূরা (৬২ তম সূরা আল জুমুয়া goo.gl/Cb6R1s) য় আল্লাহর গুনে গুণান্বিত হয়ে মুহাম্মাদ (স) এর মিশন বাস্তবায়ন এর রুপরেখা বর্ননা করা হয়েছে। এই মিশন বাস্তবায়ন করার সময় সবচাইতে ক্ষতিকর ও বিপদজনক সম্প্রদায় হলো মুনাফিক। সুতরাং তাদের পরিচয়, কার্যাবলী, প্ল্যান ও এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রতি মুহাম্মাদ (সঃ) এর আচরন কেমন হওয়া উচিত এবং তাদের প্রতি আল্লাহ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে মুহাম্মাদ (স) এর মিশন বাস্তবায়নে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এই সূরা (৬৩ তম সূরা আল মুনাফিকুন) এ।   

 রেফারেন্স ও কৃতজ্ঞতাঃ বিভিন্ন তাফসীর, বিশেষ করে Nouman Ali Khan এর তাফসীর, বিভিন্ন লেকচার, ভিডিও ইত্যাদি।


উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সূরাসমূহের নোট

১৮। সূরা আল কাহাফ (গুহা)

১। সূরা আল ফাতিহা (সূচনা)