১৯। সূরা মারিয়াম
একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর থেকে বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় ক্ষয় হতে থাকে। একথা বিজ্ঞান অনেক পরে আবিষ্কার করলেও আল কুরআন এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে!
সূরা মারিয়াম এর ৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেনঃ সে বল্লো, “হে আমার রব! আমার হাড়্গুলো পর্যন্ত নরম ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে গেছে, মাথা বার্ধক্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে; হে পরোয়ারদিগার! আমি কখনো তোমার কাছে দোয়া চেয়ে ব্যর্থ হইনি”
‘ইমরআ’ ও ‘ঝাওজ’ দুটি শব্দের অর্থ স্ত্রী কিন্তু সূক্ষ পার্থক্য আছে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সফল বৈবাহিক জুটি ও সন্তান হলে কেবলমাত্র ‘ঝাওজ’ ব্যবহার করা যায়। অন্যথায় ইমরআ হিসাবে গণ্য হয়।
নবী নূহ (আঃ), লুত (আ) ও ফেরাউন এর স্ত্রীকে আল কুরআনে ‘ইমরআ’ বলা হয়েছে। যেহেতু আবু লাহাব ও তার স্ত্রী দুজনেই খারাপ ছিলো তাই এটা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সফল বৈবাহিক জুটি ছিলো না। তাই আবু লাহাবের স্ত্রী ‘ঝাওজ’ ছিলো না বরং ‘ইমরআ’ ছিলো।
তবে হযরত যাকারিয়া (আ) এর স্ত্রীর ক্ষেত্রে ২ টিই ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯ তম সূরা মারইয়াম এ যাকারিয়া (আ) এর স্ত্রীকে ‘ইমরআ’ বলা হয়। কারন তখন তিনি ছিলেন বন্ধ্যা (সন্তানহীন)।
এরপর ২১ তম সূরা আল আম্বিয়ার ৯০ নং আয়াতে বর্নিত আছে যে, তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। তখন যাকারিয়া (আ) এর স্ত্রীকে ‘ঝাওজ’ বলা হয়। কারন তখন তিনি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সাফল বৈবাহিক জুটি ও সন্তান এই দুটি বৈশিষ্ট্যেরই অধিকারী হন। কি অসাধারন আল্লাহর শব্দচয়ন!!!
নির্দেশনা দেয়া অর্থে آوٌصأ (আওছ) এবং وَصَّ (ওয়াচ্ছ) ২ টি শব্দই ব্যবহার করা হয়। আধ্যাত্মিক ইবাদাত যেগুলো বার বার করতে হয় (যেমন নামাজ, রোজা, তাকওয়া, সাদাকা ইত্যাদি) সেগুলোর নির্দেশনা দিতে দ্বিরুক্তিমূলক শব্দ ‘ওয়াচ্ছ’ ব্যবহৃত হয়েছে (যেমন ৪২:১৩)। আর্থিক বিষয়ক ইবাদাত যেগুলো সাধারনত একবারেই করা হয় (যেমন মৃত ব্যক্তির সম্পদ বন্টন) তেমন নির্দেশনা দিতে ‘আওছ’ ব্যবহৃত হয়েছে।
তবে ব্যতিক্রম ঈসা (আ) এর ক্ষেত্রে। তিনি ১৯ নং সূরা মারইয়াম এর ৩১ নং আয়াতে আল্লাহর কাছ থেকে নামাজ ও যাকাতের নির্দেশনা পেয়েছিলেন। সেখানে দ্বিরুক্তিমূলক শব্দ ‘ওয়াচ্ছ’ ব্যবহৃত না হয়ে ‘আওছ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এর কারন হলো তিনি ১ দিন বয়সে এই কথা বলেছিলেন এবং ঐ ১ দিনে ১ বারই নির্দেশনা পেয়েছিলেন, বার বার নয়।




মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন