৩৯। সূরা ঝুমার

পৃথিবীর মত সূর্যেরও নির্দিষ্ট কক্ষপথ ও গতি আছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এরপর এক সময় এগুলোর পরিসমাপ্তি হবে। বিজ্ঞানের এই আবিষ্কারের পূর্বেই আল কুরআন এর ইঙ্গিত দিয়েছে। বিভিন্ন সূরার আয়াতে।  যেমন আল কুরআন  ১৩ : ২, ৩৫ : ১৩, ৩৬ : ৩৮, ৩৯ : ৫ 

চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)। 

অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়। 

আল্লাহ রাত দ্বারা দিনকে ও দিন দ্বারা রাতকে আচ্ছাদিত করেন। এখানেো আচ্ছাদিত করা বলতে ধীরে ধীরে ক্রমান্বয়ে রাত থেকে দিনে বা দিন থেকে রাতে রুপান্তরিত হওয়া বুঝায়। গোলাকার হলেই এমন হতে পারে। চ্যাপ্টা বা সমান হলে হঠাৎ করে রাত বা দিন হয়ে যেত,  ক্রমান্বয়ে না। সুতরাং এই আয়াত পৃথিবী গোলাকার হওয়ার ইঙ্গিত। 


তিনি সবাইকে একই সত্তা থেকে পয়দা করেছেন, এরপর সেই সত্তা থেকে তার যুগল বানিয়েছেন। (৩৯ তম সূরা আঝ ঝুমার, আয়াত ৬)। পুরুষদের ক্রমোজোম হলো XY এবং নারীদের ক্রমোজোম হলো XX। অর্থাৎ নারীদের Y নেই শুধু X আছে; তাই পুরুষ থেকে নারী পয়দা করা যৌক্তিক হলেও নারী থেকে পুরুষ পয়দা করা যৌক্তিক নয়

১৬ নং আয়াতে জাহান্নামের কিছু বর্ননা দেয়া হয়েছে। এর একটা কল্পিত প্রতিকী চিত্র আঁকার  চেষ্টা করা হয়েছে।

এছাড়াও কুরআনের আরো কিছু সূরার আয়াতের সাহায্যে জাহান্নামের আরো কিছু আযাবের চিত্র এখানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।  


রঙ শব্দের আরবি প্রতিশব্দ لون (লাওনুন)| বহুবচনে ألوان (আল ওয়ানুন) বা রংসমূহ। পবিত্র কুরআনে রঙ শব্দের বহুবচন ব্যবহৃত হয়েছে মোট সাত (৭) বার! (16:13, 16:69, 30:22, 35:27, 35:27, 35:28, 39:21)  যা রংধনুর ৭ রঙের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন 

আল কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় 'হাযাল কুরআন' অর্থাৎ এই কুরআন  আবার কোথাও 'যালিকাল কিতাব' অর্থাৎ ঐ কিতাব (বই) বলা হয়েছে। এর কারন কি?    

কিতাব শব্দটি লেখার সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেহেতু মূল গ্রন্থটি লিখিত অবস্থায় লাওহে মাহফুয এ আছে যা দূরে অবস্থিত এজন্য এক্ষেত্রে ‘যালিকা’ (দূরবর্তীবাচক শব্দ) ব্যবহার  করা হয়েছে।   


কুরআন শব্দটি পড়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেহেতু কুরআন গ্রন্থটি পড়ার মাধ্যমে এসেছে ও পৃথিবীতে তা পড়া হয় এবং যা কাছে অবস্থিত এজন্য এক্ষেত্রে ‘হাযা’ (নিকটবাচক শব্দ) ব্যবহার করা হয়েছে।   

সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা আনআম, ইউসুফ, কাহাফ, হজ্জ, ইয়াসীন, রহমান, দাহরে এসেছে সবুজ শব্দটি। কালো শব্দটি কুরআনে এসেছে ৭ বার। জাহান্নামের দরজা ৭ টি। জাহান্নামের সাথে কালো শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নাহল, ফাতির, জুমার, জুখরুফ এ এসেছে কালো শব্দটি।

অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের দরজা মোট ১৫ টি। আল কুরআনে দরজা শব্দটির বহুবচনঃ দরজাসমূহও এসেছে ১৫ বার। এগুলো এসেছে বাকারা, আনআম, আরাফ, ইউসুফ, হিজর, নাহল, সোয়াদ, জুমার, মুমিন, জুখরুফ, কমার, নাবা তে। মজার ব্যাপার হলো, ৭ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জাহান্নামের দরজা সম্পর্কিত এবং ৮ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জান্নাতের দরজা সম্পর্কিত। কি দারুন মিল!

৭১ নং আয়াতে বলা হয়েছে জাহান্নামের দরজা বন্ধ অবস্থায় থাকবে, জাহান্নামীরা এলে তা খুলে দেয়া হবে। তারা কোন সম্মান বা অভ্যর্থনা পাবে না। 

অন্যদিকে ৭৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে জান্নাতের দরজা খোলা অবস্থাতেই থাকবে। যেন জান্নাতীদের সম্মান, অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দরজা আগে থেকেই খোলা থাকবে। এ যেন এমন যে বিশেষ মেহমানের জন্য আগে থেকেই দরজা খুলে এগিয়ে এসে অভিবাদন জানানো হচ্ছে। 

আরেকটি বিষয় বেশ সুন্দর তা হলো। ৭১ নং আয়াতে বলা হচ্ছে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে বা তাড়িয়ে নেয়া হবে জাহান্নামীদেরকে সেটা সহজে বুঝে আসে যে তারা শাস্তির ভয়ে সেদিকে যেতে চাইবে না। কিন্তু জান্নাতীদের ক্ষেত্রেও ৭৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। কেন? কারন জান্নাতে যাওয়ার পথই এমন সুন্দর হবে যে সেই পথ দেখেই মুগ্ধ হয়ে জান্নাতীরা সেটাকেই জান্নাত ভেবে বসবে হয়তো, তাই ফেরেশতারা হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে থাকবে ও জানাবে এটা জান্নাত নয়, মূল জান্নাত সামনে। সুবহানাল্লহ!

৪১ তম সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ২০ এ বর্ননা করা হয়েছে জাহান্নামের কথা। সেখানে আছে, শেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছবে, তখন তারা যা করত সে সম্পর্কে তাদের কান, তাদের চোখ আর তাদের চামড়া তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। এটি বেশি ভয়াবহ তাই এই পরিস্থিতি বুঝাতে ‘মা’ শব্দটি অতিরিক্ত এসেছে।

অন্যদিকে ৩৯ নং সূরা ঝুমার এর আয়াত ৭১ এও বর্ননা করা হয়েছে জাহান্নামের কথা। সেখানে আছে, শেষে যখন তারা সেখানে পোঁছবে, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। জাহান্নামের রক্ষীরা তাদের রাসূলের আগমন সম্পর্কে প্রশ্ন করবে এবং তারা স্বীকার করবে। এটি কম ভয়াবহ, তাই মা শব্দটি নেই।  

উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সূরাসমূহের নোট

১৮। সূরা আল কাহাফ (গুহা)

১। সূরা আল ফাতিহা (সূচনা)