২১। সূরা আল আম্বিয়া

২১ তম সূরা আম্বিয়া, আয়াত ৪ এ আল্লাহ বলছেন, বল : ‘তা তিনিই নাযিল করেছেন যিনি (সাত) আসমান-যমীনের যাবতীয় গোপন কথা জানেন। তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। ‘আস সামাওয়াত’ শব্দটি বহুবচন হলেও এটি শুধুমাত্র সাত আসমান-যমীন বোঝায়। ‘আস সির’ শব্দটি দিয়ে কথাসমূহের মধ্যে শুধুমাত্র গোপন কথা বোঝায়। অল্প সংখ্যক গোপন কথা এর সাথে আল্লাহ তুলনামুলক অল্প জায়গার সাত আসমান-যমীনের উল্লেখ করেছেন। 

অন্যদিকে ২৫ তম সূরা ফুরকন, আয়াত ৬ এ আল্লাহ বলছেন, বল, ‘আমার প্রতিপালক (সকল) আসমান ও যমীনের প্রতিটি কথাই জানেন, আর তিনি সব কিছু শোনেন, সব কিছু জানেন।’‘আস সামা’ শব্দটি একবচন হলেও এটি সকল আসমান-যমীন বোঝায়। ‘আল কওল’ শব্দটি দিয়ে সকল ধরনের কথাসমূহকে বোঝায় যার মধ্যে গোপন কথাও আছে। বেশি সংখ্যক সকল কথা এর সাথে আল্লাহ তুলনামুলক বেশি জায়গার সকল আসমান-যমীনের উল্লেখ করেছেন। কি সুন্দর আল্লাহর কথার সামঞ্জস্যতা, মিল। এ যেন গনিতের সেট আর সাব সেটের মত। সেট হলো (সকল) আসমান ও যমীন আর তার সাবসেট হলো (সাত) আসমান ও যমীন। অন্যদিকে সেট হলো সকল কথা আর তার সাবসেট হলো গোপন কথা। 

Big bang, মহাবিশ্বের সূচনা সংক্রান্ত এ তত্ত্বটি ২০শ শতাব্দীতে আবিষ্কার হলেও এর ইঙ্গিত দেওয়া আছে আল কুরআনে।  অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশ আর যমীন এক সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে আলাদা করে দিলাম, আর প্রাণসম্পন্ন সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না? (২১ তম সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত ৩০)

পৃথিবীর মত সূর্যেরও নির্দিষ্ট কক্ষপথ ও গতি আছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এরপর এক সময় এগুলোর পরিসমাপ্তি হবে। বিজ্ঞানের এই আবিষ্কারের পূর্বেই আল কুরআন এর ইঙ্গিত দিয়েছে। বিভিন্ন সূরার আয়াতে।  যেমন আল কুরআন  ১৩ : ২, ৩৫ : ১৩, ৩৬ : ৩৮, ৩৯ : ৫, ২১: ৩৩

চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)। 

অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়। 

হযরত ইউনুস (আঃ) এর জীবনে যে ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছিলো তার তুলনায় আমাদের অন্ধকার, বিপদ তো খুবই নগন্য। তিনি রাতের অন্ধকারে, গভীর সমূদ্রের অন্ধকারের মধ্যে মাছের পেটের অন্ধকারে ছিলেন। অর্থাৎ ৩ স্তরের অন্ধকার/বিপদের মধ্যে ছিলেন। এই অবস্থায় তিনি দোয়া করলেনঃ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ। অর্থাৎঃ “তুমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, পবিত্র তোমার সত্তা, অবশ্যই আমি জুলুম/অপরাধ করেছি৷” । (২১ নং সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত ৮৭)। পরের আয়াতে (২১ নং সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত ৮৭) আল্লাহ বলেনঃ তখন আমি তার দোয়া কবুল করেছিলাম এবং দুঃখ থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছিলাম, আর এভাবেই আমি মুমিনদেরকে উদ্ধার করে থাকি৷ সুতরাং আসুন আমরা বিপদে, আপদে, কঠিন মুহূর্তে এই দোয়া (দোয়ায়ে ইউনুস নামে পরিচিত) পড়ি।     

মূর্তি বানানো ও মূর্তিপূজক অবিশ্বাসীরা ও তাদের বানানো মূর্তি, পাথর, মাবুদ সবাই একসাথে জাহান্নামের আযাব ভোগ করতে থাকবে।  মূর্তি, পাথর ও মানুষ আগুনে পুড়ে একে অপরকে বেশি জ্বলতে সাহায্য করবে। (দেখুন আল কুরআন ২:২৪, ২১:৯৮)। তাই হে মানুষ, আর মূর্তি বানিয়ো না, তার পূজা করো না, শিরক করো না। 



উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সূরাসমূহের নোট

১৮। সূরা আল কাহাফ (গুহা)

১। সূরা আল ফাতিহা (সূচনা)