৯১। সূরা আশ শামছ (সূর্য)
বর্ননাঃ ১ম আয়াতে সূর্যের শপথ করা হয়েছে এবং পরে আলাদাভাবে সূর্যের রোদের শপথ করা হয়েছে; যা তার (সূর্যের) বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করতে ও ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। অর্থাৎ সূর্যের আলো সূর্যকে তাঁর বৈশিষ্ট্য পূর্নাঙ্গরুপে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করছে।
২য় আয়াতে চাঁদের শপথ করার মাধ্যমে তাঁর আলাদা বৈশিষ্ট্য এর কথা বলা হয়েছে; এবং যখন তা (সূর্যের) পিছনে পিছনে আসে বলার মাধ্যমে সূর্যের (আলোর) সাহায্য নেওয়া ও চাঁদ থাকার দ্বারা সূর্যকে আলো দেয়ার সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে সূর্যকে পরিপূর্নতা দানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।৪র্থ আয়াতে বলা হয়েছেঃ দিনের বেলায় সূর্য অনেক বেশি আলোকোজ্জ্বল হওয়া সত্ত্বেও দিন শেষে এক সময় রাত আসে। তখন আস্তে আস্তে অন্ধকার নেমে আসে এবং রাত তখন সূর্যকে পুরাপুরি ঢেকে দেয়।
৩য় আয়াতে দিনের প্রকাশ করা ক্রিয়াটি অতীত কালের গঠনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ৪র্থ আয়াতে রাতের ঢেকে ফেলা ক্রিয়াটি বর্তমান অতীত কালের গঠনে ব্যবহৃত হয়েছে। অতীতকাল টি নিঃসন্দেহ ও স্থায়ী কিন্তু বর্তমান কালটি পুরাপুরি সন্দেহ্মুক্ত ও স্থায়ী নয়। রাত যেহেতু আস্তে আস্তে ছেয়ে যায় এবং পুরাপুরি সব কিছু ঢেকে ফেলতে পারে না (যেমন রাতে সূর্য না থাকলেও চাঁদ থাকে, আল্লাহর দৃষ্টি অন্ধকারেও থাকে) তাই এখানে বর্তমান কালের গঠন এবং দিনের আলো খুবই অল্প সময়ে কিছুকেই আলোকিত করে, কিছুই গোপন রাখে না (যেমন আল্লাহ সব কিছু দেখেন) তাই এখানে অতীত কালের গঠন ব্যবহার করা হয়েছে। কি অসাধারন আল্লাহর ভাষা ব্যবহার!
৫ম ও ৬ষ্ঠ আয়াতে যথাক্রমে আকাশ ও পৃথিবীর কথা বলা হয়েছে। আকাশের সৃষ্টির নৈপূন্যের কথা বলা হয়েছে এবং পরে পৃথিবীর কথা বলা হয়েছে; কত সুন্দর করে তাঁকে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই দুটি জিনিস আলাদা কিন্তু একসাথে ভারসাম্যপূর্ন থেকে আমাদেরকে এই সূর্য, চাঁদ, দিন, রাত অবলোকন করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এছাড়াও মানব দেহ এর অংশ মাটি (যা পৃথিবীর উপাদান) ও রুহ (আকাশ/উপর হতে অবতীর্ন) এর সমন্বয়ে তৈরি যে বিষয়টিও বেশ গুরুতবপূর্ন।
৭ম আয়াতে আল্লাহ নাফস এর কসম করেছেন। এখানে ‘নাফস’ আল ব্যবহার করা হয়নি। অন্য সবগুলোতে (আয়াত ১-৬ এর সূর্য, চাঁদ, দিন, রাত, আকাশ, পৃথিবী) আল বলে নির্দিষ্ট করা হয়েছে কিন্তু এখানে বৃহত্তর অর্থে আল বলা হয়নি। সব নাফসকেই উদ্দেশ্য করে এখানে বলা হয়েছে। সূর্য ও চাঁদ, দিন ও রাত, আকাশ ও পৃথিবী ২ টি ভিন্ন বস্তু এবং ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারী হলেও একে অপরকে সহায়তার মাধ্যমে এবং অবদান রাখার মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্নভাবে তারা কাজ করে যাচ্ছে। তেমনি নাফসের বিষয়টিও আল্লাহ তুলে ধরেছেন।
নাফস এর কসমের সাথে সাথে নাফসকে যিনি ভারসাম্যপূর্ন করে, নিখুঁতভাবে তৈরি করেছেন সেই সত্ত্বা আল্লাহর কসমও এখানে তিনি করেছেন। যদিও নাফসের ভালো ও খারাপ দুদিকে চাওয়ার প্রবনতা আছে তবুও সেই প্রবনতাকে আল্লাহ সুন্দরভাবে ভারসাম্যপূর্ন ও নিয়ন্ত্রনাধীন করেছেন। এভাবে আগের সব শপথের সাথে নাফসের শপথের যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছে।
৮ম আয়াতের মূল বিষয় হলোঃ নফসকে খুবই ভারসাম্যপূর্ন করে তৈরি করেছেন। অন্যান্য উন্নত সৃষ্টির চেয়ে মানুষের আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের স্বাধীন নফস আছে। এখানে ‘আলহামা’ শব্দটি ইলহাম শব্দ থেকে এসেছে এর অর্থ কোন কিছুর মধ্যে যা ছিলো না তা প্রবেশ করানো বা ঢোকানো। এখানে আল্লাহ আমাদের পাশবিক সত্তার মধ্যে নফসের বিশেষ গুনাবলী ঢুকিয়ে দিয়েছেন। পাপ (খারাপ) ও পাপ থেকে বেঁচে থাকা (তাকওয়া) এর ভালো জ্ঞান দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ দেখতে চেয়েছেন যে এই নফস কোন দিকে বেশি ঝুঁকে যায়, কোনটা বেশি গ্রহন করে। এখানে লক্ষ্যনীয় যে আল্লাহ আগে (আয়াত ৭) নাফসকে খুবই ভারসাম্যপূর্ন করে তৈরি করার কথা বলেছেন এবং পরে (৮ম আয়াত) তাঁর দুইটি ভিন্ন দিকে যাওয়ার প্রবনতার কথা বলেছেন। অর্থাৎ নাফসের যে কোন একদিকে ঝুঁকে যাওয়ার চাইতে ভারসাম্যপূর্নতার বৈশিষ্ট্যটি প্রবল।৯ম আয়াতে আল্লাহ নফসকে আলাদা একটি বিষয়/সত্ত্বা (কারন এটি মাঝে মাঝে নিজের কাছেই অপরিচিত ও ভিন্ন একটা সত্ত্বা মনে হয়) হিসাবে মর্যাদা দান করে সেই মানুষকেই সফল বলেছেন যে নফসকে পরিশুদ্ধ করতে থেকেছে। অর্থাৎ এই পরিশুদ্ধ করার কাজ একটি চলমান কাজ। আমার নফস পুরাপুরি পরিশুদ্ধ এমন মনে করা ঠিক হবে না কারন আল্লাহ এখানে এটিকে চলমান একটি কাজ বুঝিয়েছেন। যেহেতু নফস পুরাপুরি পরিশুদ্ধ করা কঠিন কাজ তাই পরিশুদ্ধ করার প্রক্রিয়াতে অংশগ্রহনেও সফলতা রেখে আল্লাহ আমাদের উপর রহম করেছেন। ৮ম আয়াতে যেহেতু আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন যে নাফস নেগেটিভ দিকে যেতে পারে তাই সফলতার জন্য এই কাজে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হবে। পুরাপুরি শুদ্ধ, পবিত্র নাফস না হলেও এটাকে শুদ্ধ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কারনে আমরা সফল হতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
অর্থাৎ অপবিত্রতা, ময়লা, পাপ থেকে নাফসকে পরিশুদ্ধ রাখতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং নাফসকে ধুয়ে মুছে পরিশুদ্ধ রাখার অবিরাম চেষ্টার ফলে তা একসময় পরিশুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ।
সূরার শুরুতে সূর্যের শপথ করা হয়েছে (আয়াত ১)। এরপর চাঁদের কথা বলা হয়েছে (আয়াত ২), দিনের (আয়াত ৩) ও রাতের (আয়াত ৪) কথা বলা হয়েছে। এই সূরার মূল বিষয় হলো নফসের পরিশুদ্ধি (আয়াত ৯)। এই নফসের সাথে সূর্যের শপথের অন্তর্নিহিত কারন হচ্ছেঃ পরিশুদ্ধ নাফস সূর্যের মতই নিজেকে আলোকিত থাকে, সাথে সাথে অন্যকে (চাঁদ/অন্য নাফস) আলোকিত করে ও পুরা পরিবেশকে (দিন/পৃথিবী/মানব সমাজ) আলোকিত রাখে। কি অসাধারন আল্লাহর প্রজ্ঞা, কি বিজ্ঞতাপূর্ন তার শপথ!!!
১০ম আয়াতের ‘দাসসা’ শব্দ দ্বারা ধুলায় ফেলে দেওয়া, অবজ্ঞা, অবমাননা করা বোঝায়; ভিতরের ভালো সম্ভাবনাকে ব্যবহার না করাকে বোঝায়। অর্থাৎ এখানে সেই ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে যে নফসের ভালো সম্ভাবনাকে কাজে না লাগিয়ে তাঁকে ধুলায় ফেলে, অবজ্ঞা, অবমাননা করে। সেই ব্যক্তিকে এই আয়াতে ব্যর্থ বলা হয়েছে।
এরপর ১১ তম আয়াতে সেই ধরনের মানুষদের বাস্তব উদাহরন দেয়া হয়েছে যারা তাদের নাফসকে অবজ্ঞা, অবমাননা করেছে, কন্ট্রোল করতে পারে নাই। সামুদ জাতির কথা আল্লাহ বর্ননা করেছেন কারন তারা এই কাজের বড় উদাহরন ছিলো এবং আরবরা তখন তাদের কাহিনী খুব ভালো ভাবে জানতো।
১২ তম আয়াতে বলা হয়েছে যে, সামুদ জাতির অধিকাংশ মানুষই অবাধ্য ছিলো এবং তাদের সবচেয়ে বড় হতভাগ্য লোকটি ক্ষেপে গিয়ে, নিজেই ক্রোধে ফেটে পড়েছিলো তার অহংকার ও বিদ্রোহী মনোভাব এর কারনে। আল্লাহ নাফসকে ভারসাম্যপূর্ন করে তৈরি করলেও সে আসলে তার নাফসের উপর কন্ট্রোল রাখতে পারে নাই, খারাপের দিকে খুব বেশি ঝুঁকে গিয়েছিলো। এজন্য আল্লাহ তাঁকে ‘সবচেয়ে হতভাগ্য’ বলেছেন।
১৩ তম আয়াতে ‘আল্লাহর নবী’ বলার মাধ্যমে নবীকে আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট করে নবী ও তার কথার গুরুত্বকে বাড়ানো হয়েছে। আবার উটনীটি সাধারন কোন উটনী নয় বোঝাতে ‘আল্লাহর উটনী’ বলা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সেই উটনী, তার পানি পান ও তার জায়গা সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।আগের আয়াতে নবী ও উটনীর কথা বলার পর আয়াত ১৪ তে বলা হয়েছে অতপর তারা নবীর কথা না মেনে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো এবং শুধু তাই নয়, তারা আল্লাহর সুস্পষ্ট নিদর্শন (মোজেজা) কেও অমান্য করে সেই উটনীকে হত্যা করে ফেললো! আল্লাহর নবী ও তার মোজেজাকে অমান্য করার ফলাফল হিসাবে আল্লাহর অবশ্যম্ভাবী আযাব ও ধ্বংস তাদের উপর নেমে আসলো। আল্লাহ তাদের মাটির সাথে মিশিয়ে দেন।
৭ম আয়াতে আল্লাহ নাফসকে ভারসাম্যপূর্ন করে গড়েছেন তা বলেছেন এবং আল্লাহ ‘সাওওয়াহা’ শব্দটি ব্যহহার করেছেন। এখানে ১৪ তম আয়াতের শেষেও আল্লাহ ‘সাওওয়াহা’ ব্যহহার করেছেন যার অর্থ সমান করে দেওয়া, ভারসাম্যপূর্ন করে দেওয়া। এখানে আল্লাহ সামূদ জাতির বিশৃঙ্খলা, অবাধ্যতা ইত্যাদিকে মিটিয়ে দিয়ে, ধ্বংস করে জমীনে শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য নিয়ে এসেছেন এমনটি বুঝিয়েছেন।
শেষ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন যে, তিনি তাদের পরিনতি ও ফলাফলের বিষয়ে কোন ভয় করেননা। যা আগের আয়াতগুলোর সাথে খুব বেশি সঙ্গতিপূর্ন। সামুদ জাতির লোকেরা ও তাদের হতভাগ্য সেই লোকটি আল্লাহর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং উটনীকে হত্যা করা ও তার ফলাফল সম্পর্কে কোন ভয় করেনি। তাই আল্লাহও তাদের প্রতি প্রতিশোধ নিয়ে আল্লাহ প্রমান করে দিয়েছেন যে ভয়ের উর্ধে শুধু থাকতে পারেন আল্লাহ। ফলাফল আমাদের চোখে যতবড়ই হোক না কেন ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ ভয়হীন ভাবে তার কাজ করে যান।
সূরার সারসংক্ষেপঃ সূরাটিকে মোটা দাগে ৪ টি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। ১ম অংশ (আয়াত ১-৬) তে বিভিন্ন জিনিস/বিষয় (সূর্য, চাঁদ, দিন, রাত, আকাশ, পৃথিবী) র শপথ করা হয়েছে। ২য় অংশ (আয়াত ৭-৮) এ আগের জিনিস/বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত নাফসের শপথ ও তার বৈশিষ্ট্য বর্ননা করা হয়েছে। ৩য় অংশ (আয়াত ৯-১০) এ নাফসের পরিশুদ্ধির কারনে সফলতা ও ব্যর্থতার কথা বলা হয়েছে। ৪র্থ অংশ (আয়াত ১১-১৪) তে নাফসের পরিশুদ্ধিতে ব্যর্থ মানুষদের বৈশিষ্ট্য, কার্যক্রম ও পরিনতির বাস্তব উদাহরন দেয়া হয়েছে।আগের সূরার সাথে সম্পর্কঃ আগের (৯০ তম) সূরা আল বালাদ (goo.gl/VjmHbk) এর ১০ নম্বর আয়াতে দুটি সুস্পষ্ট ভিন্ন পথের কথা উল্লেখ রয়েছে। এবং ১৮ ও ১৯ নম্বর আয়াতে ই ২ পথের পথিকদের ২ টি (ডান ও বাম) পন্থী হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ঐ সূরার ৮ ও ৯ নম্বর আয়াতে সবারই চোখ, জিহবা ও ঠোট থাকার পরও কেন ভিন্ন ২ পথে তারা যায় তার বিবরন ও ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে এই সূরা (৯১ তম সূরা আশ শামছ) তে। মূলত নাফসের ২ টি ভিন্ন প্রবনতার কারনেই মানুষের পথ চলা ভিন্ন হয় যা সুন্দরভাবে বর্নিত হয়েছে আয়াত ৮ এ।
আগের সূরার শেষে ভুল পথে চলার পরকালীন পরিনতির কথা বলা হয়েছে (২০, শেষ আয়াত) এবং এই সূরার শেষ দিকে (আয়াত ১৪) বলা হয়েছে যে, (শুধু পরকালে নয়) দুনিয়াতেও এর পরিনতি ভয়াবহ।
পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ এই সূরার শুরুর দিকে দিনের প্রকাশ হওয়া ও রাতের ঢেকে যাওয়া বিষয়টা এসেছে। পরের (৯২ তম) সূরা আল লাইল এও প্রায় একই ভাবে বিষয়দুটি এসেছে একটু ভিন্নভাবে এবং বিপরিত সিকুয়েন্স/ধারাবাহিকতায়। এই সূরায় দিনে সূর্যের প্রকাশ ও রাতে সূর্যের ঢেকে যাওয়ার কথা বর্নিত হয়েছে; অর্থাৎ সূর্য এখানে Object (বিধেয়) এবং প্রকাশ পাওয়া ও ঢেকে যাওয়া হলো Verb (ক্রিয়া)। পরের সূরায় প্রকাশ পাওয়া ও ঢেকে যাওয়া এর কথা বর্নিত হলেও Object (বিধেয়) হিসাবে সূর্যের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ যেন এমন যে আগের সূরায় যেহেতু এটা বলা হয়েছে তাই পরের সূরায় আর বলার প্রয়োজন নেই।
এই সূরায় আকাশ ও পৃথিবী এর কথা এসেছে কিন্তু পরের সূরায় পুরুষ ও নারীর কথা এসেছে। এই দুই ধরনের বিষয়ের মধ্যে বেশ মিল বিদ্যমান। আকাশ হতে বৃষ্টি আকারে পানি পড়ে এবং তার কারনে পৃথিবীতে জীবন (মানুষ ও গাছপালা) এর ধারা চলতে থাকে। অর্থাৎ আকাশ ও পৃথিবী একসাথে কাজ করে জীবন এর ধারাকে চালিয়ে নিয়ে যায়। তেমনিভাবে পুরুষ ও নারী একসাথে কাজ করে জীবন এর ধারাকে চালিয়ে নিয়ে যায়।
এই সূরায় 3rd person এ বিষয়গুলো বর্নিত হয়েছে এবং পরের সূরায় 2nd person এ বিষয়গুলো বর্নিত হয়েছে। অর্থাৎ সাধারন থেকে বিশেষভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে ভালোভাবে Address করার জন্য।
এই সূরার ৯ নং আয়াতে নাফসের পরিশুদ্ধির কারনে সফলতার কথা বলা হয়েছে এবং পরের সূরায় সেই পরিশুদ্ধি কারীদের বৈশিষ্ট্য ও ফলাফল বর্নিত হয়েছে (আয়াত ৫,৬,৭)। এই সূরার ১০ নং আয়াতে নাফস্কে সঠিকভাবে ব্যবহার না করার কারনে ব্যর্থতার কথা বলা হয়েছে এবং পরের সূরায় সেই ব্যর্থতার কারন বিস্তারিতভাবে বর্নিত হয়েছে ৮,৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে।
এই সূরায় অবাধ্যতা, বিদ্রোহ পতনের অন্যতম কারন হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে (আয়াত ১১) এবং পরের সূরায় অর্থ লোভ পতনের অন্যতম কারন হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে (আয়াত ১১)।
এই সূরায় আল্লাহর নিদর্শন (উটনী) থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে কিন্তু অপরাধীরা কাছে এসে তা লঙ্ঘন করেছে। আর পরের সূরায় আল্লাহর নিদর্শন (আল কুরআন/হেদায়াত) এর কাছে আসতে বলা হয়েছে কিন্তু অপরাধীরা দূরে চলে গিয়ে তা লঙ্ঘন করেছে। এই সূরায় আল্লাহর নবী সামূদ জাতির অপরাধীদের সতর্ক করেছেন (আয়াত ১৩) আর পরের সূরায় আল্লাহ নিজেই মুহাম্মাদ (সঃ) ও তার পরবর্তি জাতিদের সতর্ক করেছেন (আয়াত ১৪)।
এই সূরায় হতভাগ্য ব্যাক্তির চরিত্র বর্নিত হয়েছে (আয়াত ১২) এবং দুনিয়ায় তার পরিনতির কথা বলা হয়েছে (আয়াত ১৪)। পরের সূরায় হতভাগ্য ব্যাক্তির চরিত্র ও আখিরাতে পরিনতির কথা বর্নিত হয়েছে (আয়াত ১৫, ১৬)
এই সূরার শেষে আল্লাহ শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছেন ক্ষোভের সাথে (আয়াত ১৪,১৫) কিন্তু পরের সুরায় আল্লাহ শাস্তি থেকে দূরে রাখার ফলে বাঁচিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন সন্তুষ্টির সাথে (আয়াত ১৮)। অর্থাৎ এই সূরায় আল্লাহর Destructive attitude ও পরের সূরায় আল্লাহর Protective attitude প্রকাশিত হয়েছে। এই সূরায় আল্লাহর শাস্তির ক্ষেত্রে পরিমান ও ভয়াবহতার কথা বলা হয়েছে (আয়াত ১৪) কিন্তু পরের সূরায় পুরষ্কারের ক্ষেত্রে কোন পরিমান এর কথা বলা হয়নি, অর্থাৎ মানুষ আসলে চিন্তাও করতে পারে না সেই পুরষাক্রের পরিমানের কথা কারন অশেষ পুরষ্কার দানকারী। অর্থাৎ এই সূরায় আল্লাহর Limited punishment ও পরের সূরায় আল্লাহর Unlimited reward এর কথা প্রকাশিত হয়েছে।
উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে


















মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন