পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

৮৬। সূরা আত তরিক

আগের সূরার সাথে সম্পর্কঃ আগের ৮৫ নং সূরার সূরার শেষে (আয়াত ২২) লাওহে মাহফুয এর কথা বর্নিত আছে যা আকাশে অবস্থিত। পরের ৮৬ তম সূরা আত তরিক শুরু হয়েছে আকাশের কথা দিয়ে।      পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ  ৮৬ নং সূরা আত ত্বরিক এ আল্লাহর নাম ও পরিচিতি সরাসরি বলা হয়নি কিন্তু পরের সূরার (৮৭ নং সূরা আল আ’লা) শুরুতেই আল্লাহর নামের প্রশংসা করতে বলা হয়েছে। এ যেন আগের সূরার গ্যাপ পূরন।  আত ত্বরিক এর শুরুতে বড়, high আকাশ, তারা এর কথা এসেছে (আয়াত ১,৩) কিন্তু পরের সূরার শুরুতে সবচেয়ে বড়, highest আল্লাহ এর কথা এসেছে (আয়াত ১)। এছাড়া ৮৬ নং সূরা আত ত্বরিক এ আল্লাহকে ছোট, দূর্বল মনে করে ষড়যন্ত্র করতে থাকে (আয়াত ১৩, ১৪, ১৫)। কিন্তু তিনি আসলে তাদের ধরাছোয়ার বাইরে, অনেক high তা পরের ৮৭ নং সূরার ১ম আয়াতেই বলা হয়েছে।       ৮৬ নং সূরার শেষে আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসূল (সঃ) কে কাফেরদের প্ল্যান ও কর্মকান্ড জেনেও তাদের অবকাশ দেওয়ার জন্য আদেশ করেন। এবং তাদের দিকে মনোযোগ না দিয়ে পরের সূরায় তিনি বরং আল্লাহর প্রশংসা করার জন্য আদেশ দেন। অর্থাৎ আগের ৮৬ নং সূরার শেষ আয়াতের সাথে পরের ...

৮১। সূরা আত তাকবীর

ছবি
 আগের ও পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ  আগের ৮০ নং সূরা আবাসাতে আল কুরআন হতে দূরে সরে যাওয়া (আয়াত ১৭) এর বিষয়টি উঠে এসেছে। আল কুরআন সম্পর্কে গাফেল থেকে তা থেকে দূরে থাকার ফলে যার মাধ্যমে এই কুরআন মানুষের কাছে এসেছে সেই মহান মানব থেকেও মানুষ দূরে সরে গিয়েছে; যার বর্ননা এসেছে ৮১ নং সূরা আত তাকবীর এ (আয়াত ২৬)। আর আল কুরআন থেকে দূরে থাকার ফলে মুহাম্মাদ (স) থেকে দূরে থাকা হয়েছে যার চুড়ান্ত পরিনতি হিসাবে আল্লাহ থেকে দূরে থাকা হয়ে গেছে। ৮২ নং সূরা আল ইনফিতার এ সেটিই প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে (আয়াত ৬ এ)।         উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে  উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ  রিভাইভ ইয়োর হার্ট  ,  ডিভাইন স্পিচ ,  বাংলাঃ  উপমার শৈল্পিকতায় মুগ্ধময় কোরআন ,  কুরআন বোঝার মজা ,  আল ফাতিহা ,  পড়ো ,  পড়ো ২  ৩০ পারার ইলাস্ট্রেশন এর বই

২৮। সূরা কাসাস (কাহিনী)

ছবি
মূসা (আঃ) এর ঘটনা, নাম সবচেয়ে বেশি এসেছে আল কুরআনে।বিভিন্ন সূরায় বিভিন্ন ঘটনা, সময়কে প্রাধান্য দিয়ে এগুলো বর্নিত হয়েছে। আল কুরআনের ২০ তম সূরা ত্বহা তে মূলত আল্লাহর সাথে মূসা (আঃ) এর ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্ননা করা হয়েছে।  ২৬ তম সূরা শুয়ারা তে মূলত মূসা (আঃ) এর সাথে ফেরাঊন এর ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্ননা করা হয়েছে।  ২৮ তম সূরা কাসাস এ মূলত মূসা (আঃ) এর ছোট ও কম বয়সের ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্ননা করা হয়েছে।   সূরার কয়েকটি আয়াতে রব্বি শব্দটি এসেছে, যেমনঃ ১৬, ২৪। ‘রব্বি’ ও ‘রব্বানা’ শব্দটি মূলত দুটি করে শব্দ। ‘ইয়া রব্বি’ ও ‘ইয়া রব্বানা’। কিন্তু ‘ইয়া’ বা ‘হে’ শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে বিলুপ্ত করে ব্যবহার করা হয়। আল্লাহ  আমাদের খুবই কাছের, আপন বিধায় দূরবর্তি সংক্রান্ত শব্দ ‘হে’ বাদ দিয়ে শুধু রব্বি বা রব্বানা বলা হয়। সুবহানাল্লহ! উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে  উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ  রি...

২৬। সূরা শুয়ারা

ছবি
মূসা আলাইহিস সালাম-এর লাঠি সাপ হয়ে যাওয়া বিষয়ক যে আয়াতগুলো আছে, সেগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন সাপের জন্য কোথাও হাইয়াতুন (حية) আর কোথাও সু’বানুন (ثعبان) শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বাংলা অনুবাদ খুলে দেখুন সবখানে ‘সাপ’ লেখা আছে। সাপের আরবী শব্দ ব্যবহারের ভিন্নতার কারণে অর্থ ও মর্মতে যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে অনুবাদে সেটা প্রকাশিত হয়নি। হাইয়াতুন মানে হলো ছোট সাপ। আর সু’বানুন মানে বিশাল বড় সাপ। দুইটাই তো সাপ। তবে সাপে সাপে পার্থক্য আছে। এবার আমরা এই শব্দ দু'টি যে আয়াতে ব্যবহার হয়েছে সে আয়াত দু’টি দেখি। মূসা আলাইহিস সালাম যখন সপরিবারে রাতের বেলায় সফর করছিলেন এবং আগুনের প্রয়োজন হওয়ার কারণে এদিক-ওদিক তা খোঁজাখুঁজি করছিলেন সে সময় আল্লাহ তাঁকে ডাক দিয়ে বলেন, قَالَ أَلْقِهَا يَا مُوسَى ۞ فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَى “তিনি (আল্লাহ) বললেন, তুমি তা নিক্ষেপ করো হে মূসা। অতপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন এবং অমনি তা একটি সাপ হয়ে ছুটতে লাগল।” (২০ তম সূরা তহা, আয়াত ২০) এই আয়াতে ‘হাইয়াতুন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এখানে মূসা আলাইহিস সালাম-কে শুধু লাঠি সাপ হয়ে যাবার মুজিযা দেখানো উদ্দেশ্য...

৪৪। সূরা দুখান

ছবি
৪৩-৪৮ নং আয়াতে জাহান্নামের কিছু বর্ননা দেয়া হয়েছে। এর একটা কল্পিত প্রতিকী চিত্র আঁকার  চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও কুরআনের আরো কিছু সূরার আয়াতের সাহায্যে জাহান্নামের আরো কিছু আযাবের চিত্র এখানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।   উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে  উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ  রিভাইভ ইয়োর হার্ট  ,  ডিভাইন স্পিচ ,  বাংলাঃ  উপমার শৈল্পিকতায় মুগ্ধময় কোরআন ,  কুরআন বোঝার মজা ,  আল ফাতিহা ,  পড়ো ,  পড়ো ২  ৩০ পারার ইলাস্ট্রেশন এর বই

৩৯। সূরা ঝুমার

ছবি
পৃথিবীর মত সূর্যেরও নির্দিষ্ট কক্ষপথ ও গতি আছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এরপর এক সময় এগুলোর পরিসমাপ্তি হবে। বিজ্ঞানের এই আবিষ্কারের পূর্বেই আল কুরআন এর ইঙ্গিত দিয়েছে। বিভিন্ন সূরার আয়াতে।  যেমন আল কুরআন  ১৩ : ২, ৩৫ : ১৩, ৩৬ : ৩৮, ৩৯ : ৫   চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫ , ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)।  অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়।   আল্লাহ রাত দ্বারা দিনকে ও দিন দ্বারা রাতকে আচ্ছাদিত করেন। এখানেো আচ্ছাদিত করা বলতে ধীরে ধীরে ক্রমান্বয়ে রাত থেকে দিনে বা দিন থেকে রাতে রুপান্তরিত হওয়া বুঝায়। গোলাকার হলেই এমন হতে পারে। চ্যাপ্টা বা সমান হলে হঠাৎ করে রাত বা দিন হয়ে যেত,  ক্রমান্বয়ে না। সুতরাং এই আয়াত পৃথিবী গোলাকার হওয়ার ইঙ্গিত।  ত...

১৪। সূরা ইবরহীম

ছবি
  চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩ , ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)।  অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়।   হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর ২ বারের ২ দোয়াঃ    ১। “হে আমার রব! এই স্থানকে নিরাপত্তার শহর পরিণত করো”। Ya Rabb, Make this a peaceful city    (সূরা আল বাকারা আয়াত ১২৬)     ২। “হে আমার রব! এ শহরকে নিরাপত্তার শহরে পরিণত করো” Ya Rabb, Make this city peaceful. (সূরা ইবরাহীম আয়াত ৩৫)      প্রথমে যখন তিনি গিয়েছিলেন তখন সেখানে কোন জনবসতি ছিলো না মরুভুমি ছিলো।  তখন তিনি দোয়া করেছেন (সূরা বাকারায়) ঐ স্থানকে নিরাপত্তার শহরে পরিণত করার  জন্য। পরের বার যখন তিনি দোয়া করেছেন তখন ইতিমধ্যে ওখানে জনবসতি গড়ে উঠছে  তাই...

২২। সূরা হাজ্জ

ছবি
শুরুতেই কিয়ামতের ভয়াবহতা! জগতে মা সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে বেশি ভালবাসে, আগলে রাখে। দুগ্ধপোষ্য শিশুকে মা অন্য সবার চাইতে বেশি যত্ন করে, অন্যদিকে গর্ভের শিশুকে মা নিজের জীবনের চাইতে বেশি ভালবাসে;  কিন্তু কিয়ামত এর কম্পন যখন শুরু হবে তখন মা দুগ্ধপোষ্য শিশুকেই ফেলে দিবে! এবং অন্য মা এর গর্ভপাত ঘটে যাবে! কি ভয়াবহ। এই বর্ননা দেয়া হয়েছে ২য় আয়াতে এরপর খুব সুন্দর একটা তুলনা এর মধ্য দিয়ে গেছে কয়েকটি আয়াত মায়ের গর্ভ থেকে যেমন আমরা বের হয়ে এসেছি মাটির গর্ভ থেকেও তেমন আমরা বের হয়ে আসবো আবার শুষ্ক মাটি থেকে নানা রকম গাছ বের হয়ে আসে। ঠিক তেমনি শুষ্ক মাটি থেকে সব ধরনের মানুষ বের হয়ে আসবে মানুষের সৃষ্টির সূচনা আল্লাহ নিখুঁতভাবে বর্ননা করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই তো জানেন কিভাবে এই সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি মানুশকে তার সৃষ্টি সম্পর্কে অন্ধকারে রাখেননি, বিভিন্ন আয়াতে বলে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি ‘নুতফাহ’(নগণ্য পরিমান তরল/শুক্রাণু) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটি পাওয়া যায় আল কুরআনের ১৬:৪, ১৮:৩৭, ২২:৫ , ২৩:১৩, ৩৫:১১, ৩৬:৭৭, ৪০:৬৭, ৫৩:৪৬, ৭৫:৩৭, ৮০:১৯ তে।   চাঁদ (কমার) শব্দটি ...

৫১। সূরা আয যারিয়াত

ছবি
আমি নিজ হাতে আসমান সৃষ্টি করেছি আর আমি অবশ্যই তা প্রশস্তকারী। (৫১ তম সূরা আয যারিয়াত, আয়াত ৪৭)। আধুনিক বিজ্ঞান জানতে পেরেছে যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। ছায়াপথ, গ্রহ ইত্যাদি পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।  তবে আল কুরআন এই আবিষ্কারের আগেই এর বর্ণনা দিয়ে রেখেছে। আল্লাহই যেহেতু নিজেই এসব সৃষ্টি করেছেন তিনি তো সব জানবেন এটাই স্বাভাবিক।   ৪৯ তম আয়াতে আল্লাহ বলেছেন তিনি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ স্রষ্টা, একক, অদ্বিতীয়। স্রষ্টা এর সাথে সৃষ্টি আলাদা, ভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন করার জন্য হয়তো এভাবে জোড়া করেছেন।  আল্লাহ চলাচলের জন্য আল কুরআনে কয়েকটি শব্দ ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন সূরায়। ৬৭ নং সূরা আল মূলক এর  ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে "হাটো", এটা মূলত রিযিক অন্বেষণের জন্য অল্প গতির চলাচল। ৬২ নং সূরা আল জুমুয়া এর  ৯ নং আয়াতে নামাজে যাওয়ার ক্ষেত্রেঃ  “ধাবিত হও” বলা হয়েছে যা আরেকটু বেশি গতির চলাচল।  ৩ নং সূরা আলে ইমরান এর  ১৩৩ নং আয়াতে জান্নাত  লাভের  ক্ষেত্রেঃ “পাল্লা দিয়ে দৌড়াও” বলা হয়েছে যা আরো বেশি গতির চলাচল। ৫১ নং সূরা আয যা...

৮৯। সূরা আল ফাযর

ছবি
 ১৭ নং আয়াতে বলা হয়নি যে, তোমরা এতিমদের আশ্রয়, খাবার দাও না বা অন্য কিছু। আল্লাহ তাদের প্রতি এত দয়ালু যে তাদের সম্মান না দেওয়াটাকেও একটা বড় অপরাধ হিসাবে দেখেছেন। তখনকার কুরইশদের মত এখনও কিছু মানুষ আছে যারা ইয়াতীমদের অবজ্ঞা ও রাগান্বিত দৃষ্টিতে দেখে। তাদেরকে সতর্ক করে এই আয়াত।       ঢেলে দেওয়া শব্দটি اَفْرِغَ (এমনভাবে ঢেলে দেওয়া যার সাথে কোমলতা, আরাম, সুখ থাকে) আবার صَبٌّ (এমনভাবে ঢেলে দেওয়া যার সাথে কঠোরতা, কষ্ট, ব্যাথা থাকে ) শব্দ এর মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। এই দুটি শব্দ প্রায় সমার্থক ও ইন্টারচেঞ্জেবল শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হলেও আল্লাহ দুই জায়গায় পরিবেশ, আলোচনা, পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে সুন্দরভাবে শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন।  ধৈর্য্য ঢেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সূরা বাকারার ২৫০ নং আয়াতে কোমলতা, আরাম, সুখ সমৃদ্ধ ঢেলে দেওয়া শব্দ اَفْرِغَ এবং শাস্তির চাবুক ঢেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সূরা ফাযর এর ১৩ নং আয়াতে কঠোরতা, কষ্ট, ব্যাথা সমৃদ্ধ শব্দ صَبٌّ  ব্যবহার করেছেন। সুবহানাল্লহ! পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ ৮৯ তম সূরা আল ফাজর এর শেষে প্রশান্ত আত্মাকে আল্...

৮০। সূরা আবাসা (তিনি ভ্রুকুঞ্চিত করলেন)

ছবি
শুরুতেই ১ম আয়াতে নবী মুহাম্মাদ (স) এর অবস্থা বর্ননা করা হয়েছে। বলা হচ্ছেঃ তিনি ভ্রু কুচকালেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন।       তখন মুহাম্মাদ (স) মক্কার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে কথা বলছিলেন, যে সুযোগ সব সময় পাওয়া যেত না। তারা মাঝে মাঝে মন বলতো যে, মুহাম্মাদ, তুমি সাধারন, নিচু, দূর্বল, গরীব শ্রেনীর মানুষদের আশেপাশে রাখো তাই আমরা তোমার সাথে ঠিকভাবে বসতে পারি না, কথা বলতে পারি না। এজন্য তুমি আমাদের কাছে আসো। এমন এক পরিস্থিতিতে অন্ধ সাহাবী রাসুলুল্লাহ (স) এর কাছে আসেন এবং তার মনোযোগ আকর্ষনের চেষ্টা করে কিছু হেদায়াতের বানী শোনার জন্য আগ্রহী হন।       মুহাম্মাদ (স) হয়তো ভেবেছিলেন (আল্লাহ ভালো জানেন) মক্কার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সময় দেবার পর তিনি উক্ত সাহাবীকে সময় দিবেন। এই সাহাবী তার পরিচিত, আত্মীয়ও হন। এরপরও উক্ত সাহাবীর আগ্রহ ও দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টায় রাসূলুল্লাহ ভ্রু কুচকে ফেলেন। এখানে ‘আবাসা’ শব্দটি দ্বারা বিরক্তির সর্বনিম্ন পর্যায়কে বোঝায় যার কারনে এর ভাব শুধু চোখেই সীমাবদ্ধ থাকে, পুরা মুখ, দাত ইত্যাদিতে প্রকাশ পায় না। অর্থাৎ তিনি খুবই নগন্য মাত্রায় এ...