৫৪। সূরা আল ক্বমার
বিষয়বস্তুঃ সূরার শুরুতেই একটা আলৌকিক ঘটনার অবতারনা করা হয়েছে। মুহাম্মাদ (স) এর দেখানো নিদর্শন, কাফেরদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ও তাদের পরিনতি সম্পর্কে বলা হয়েছে ১-৮ আয়াতে। বলা হয়েছে যে অবিশ্বাসীরা যে নিদর্শনই দেখে, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এটা তাদের চিরন্তন স্বভাব। এটার প্রমান দিতে আল্লাহ ইতিহাসে চলে গিয়েছেন। একে এক বর্ননা করেছেন নূহ(আঃ) এর জাতি, আদ জাতি, সামূদ জাতি, লুত (আ) এর জাতি, ফেরাউন এর জাতির অস্বীকার করা ও তাদের পরিনতির কথা। বিভিন্ন জাতিকে শাস্তি প্রদান করেছেন আল্লাহ বিভিন্ন উপায়ে। বেশিরভাগই প্রাকৃতিক শক্তি দিয়ে। এক এক জাতির পরিনতির কাহিনী বর্ননা করার পর পরই আল্লাহ “আমি এ কুরআনকে উপদেশ লাভের সহজ উৎস বানিয়ে দিয়েছি। এমতাবস্থায় উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?” একথার পুনরাবৃত্তি করেছেন (১৭, ২২, ৩২, ৪০ আয়াতে)। এরপর আল্লাহ পূর্বের জাতিদের সাথে বর্তমানের তুলনা ও আখিরাতে খারাপ পরিনতির কথা বর্ননা করেছেন। আল্লাহর কাছে সবার কর্মকান্ডের সবই লিপিবদ্ধ আছে যার দ্বারা তাদের পরিনতি সহজভাবে নির্ধারন করা যায়। বিশ্বাসীদের ভালো পরিনতির কথা দিয়ে সূরার ইতি টেনেছেন।
শুরু ও শেষের সম্পর্কঃ শুরুতে কিয়ামতের কথা দিয়ে শুরু এবং শেষেও কিয়ামতের কথা দিয়ে শেষ করার মাধ্যমে সুন্দর একটা মিল দেখা এই সূরায়। গুরুত্বপূর্ন কয়টি ভাগে ভাগে করা যায় এই সূরাকে যা এই ছবি দেখলে এক নজরে মনে থাকবে।
পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ এর পরের সূরা আর রহমান এ আল্লাহ তার রহমান নামটি কেন ব্যবহার করেছেন? ঐ সূরার পরের আয়াতগুলোর সাথে ছন্দ মেলাতে? এটা একটা কারন হতে পারে তবে আরেকটা কারন রয়েছে। আগের সূরা আল ক্বমারের বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে কন্টিনিউএশন এর কারনে আল্লাহর এই নামটিই এখানে পারফেক্ট। আগের সূরায় অন্য নবীদের তাদের জাতিরা অমান্য করেছে। নবীদের message অমান্য এবং miracle দেখেও আনুগত্য না করার কারনে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। শেষ নবী মুহাম্মাদ (স) এর উপর নাযিলকৃত কুরআন একই সাথে message ও miracle। আল্লাহ তার শেষ উম্মত অর্থাৎ কুরইশ ও আমাদের মত নাদান কিছু উম্মাতের উপর এতটাই রহমতের ছায়া বিস্তার করেছেন যে, এই কুরআন এর অবাধ্য হলেও তিনি আমাদের সমূলে ধংস করেন নি বা করছেন না। তিনি কত বড় রহমান। এটা ঐ সূরার নামকরনের একটা স্বার্থকতা।
এই সূরায় শুরুতে ছোট miracle হিসাবে চাঁদ এর দ্বিখণ্ডিত হওয়ার কথা এসেছে আর পরের সূরার শুরুতে সবচেয়ে বড় miracle আল কুরআনের কথা এসেছে।
সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা আনআম, ইউসুফ, কাহাফ, হজ্জ, ইয়াসীন, রহমান, দাহরে এসেছে সবুজ শব্দটি। কালো শব্দটি কুরআনে এসেছে ৭ বার। জাহান্নামের দরজা ৭ টি। জাহান্নামের সাথে কালো শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নাহল, ফাতির, জুমার, জুখরুফ এ এসেছে কালো শব্দটি।
অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের দরজা মোট ১৫ টি। আল কুরআনে দরজা শব্দটির বহুবচনঃ দরজাসমূহও এসেছে ১৫ বার। এগুলো এসেছে বাকারা, আনআম, আরাফ, ইউসুফ, হিজর, নাহল, সোয়াদ, জুমার, মুমিন, জুখরুফ, কমার, নাবা তে। মজার ব্যাপার হলো, ৭ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জাহান্নামের দরজা সম্পর্কিত এবং ৮ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জান্নাতের দরজা সম্পর্কিত। কি দারুন মিল!
বদরের যুদ্ধে কাফিররা যে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হবে, এবং পালাবে তার স্পষ্ট ভবিষ্যৎবাণী বদরের যুদ্ধের কয়েক বছর আগেই মক্কায় নাযিল হওয়া সূরা আল-ক্বামার-এর ৪৫ নং আয়াতে দেওয়া হয়েছিল।
রেফারেন্স ও কৃতজ্ঞতাঃ বিভিন্ন তাফসীর, বিশেষ করে Nouman Ali Khan এর তাফসীর, বিভিন্ন লেকচার, ভিডিও ইত্যাদি।





মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন