৫৭। সূরা আল হাদীদ (লোহা)
আল কুরআন এ মোট ১১৪ টি সূরা আছে। ১১৪ এর অর্ধেক হলো ৫৭। এই সূরাটির নাম কি? হ্যা, সূরা আল হাদীদ যার অর্থ লোহা। পৃথিবীর কয়েকটি স্তর রয়েছে। একদম মাঝের স্তরটির মূল উপাদান হলো লোহা সুবহানাল্লহ, বিস্ময়কর!
সাধারন মানুষ ও জীন জাতিকে আল্লাহ সার্বক্ষনিক একটানা তাসবিহ পাঠকারী (মুসাব্বিহুন) হিসাবে বিশেষ্যবাচক শব্দে উল্লেখ করেননি বরং তাসবিহ পাঠ করা সংক্রান্ত ক্রিয়া বাচক শব্দে (সাব্বাহা) উল্লেখ করেছেন। কারন তারা দিনের কিছু সময় তাসবিহ পাঠ করলেও সারাক্ষন একটানা তাসবিহ পাঠ করা হয়ে ওঠে না। এই সূরার শুরু হয়েছে এভাবে।
তবে ব্যতিক্রম হযরত ইউনুস (আ), তিনি মাছের পেটে চলে যাওয়ার পর মুসাব্বিহুন হয়ে একটানা তাসবিহ পাঠ করতে থাকেন, যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাকে উদ্ধার করেন। (সূরা আস সফফাত আয়াত ১৪৩ )
সেই সাথে ফেরেশতারাও একটানা তাসবিহ পাঠকারী (মুসাব্বিহুন) যার প্রমান মেলে সূরা আস সফফাত এর ১৬৬ নং আয়াতে
৫৭ তম সূরা হাদিদ, আয়াত ২০ এ আল্লাহ দুনিয়ার জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ প্রকৃত স্বরূপ বর্ননা করেছেন। দুনিয়ার জীবন কেবল খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, জাঁকজমক, পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্য লাভের প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এর উপমা তিনি দিয়েছেন কৃষকের ফসল ফলানোর সাথে। উপমা হল বৃষ্টির মতো, যার উৎপন্ন শস্য কৃষকদের আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, হলুদ বর্ণ হয়ে, অবশেষে তা খড়কুটোয় পরিণত হয়। অর্থাৎ তার সকল আশা, আনন্দ প্রচেষ্টা এক সময় ফুরিয়ে যায়, ঠিক যেন দুনিয়ার সকল খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, জাঁকজমক, পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি এক সময় ফুরিয়ে যায়।
৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩৩ এ বর্নিত জান্নাতের আকার বা বিস্তৃতি ঃ সাত আসমান-যমীন অনুরূপ। ‘আস সামাওয়াত’ শব্দটি বহুবচন হলেও এটি শুধুমাত্র সাত আসমান-যমীন বোঝায়। এই জান্নাত তাদের জন্য যারা তাকওয়া সমৃদ্ধ, দান কারী, ক্রোধের সময় সংযত ও ক্ষমাশীল। একসাথে এত গুন সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা নিঃসন্দেহে কম বিধায় তাদের জন্য জান্নাতের জায়গাও কম লাগবে। এজন্য এই আয়াতে বর্নিত জান্নাতের আকার বা বিস্তৃতি কম।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার কাল মোট ৩ টি হলেও আরবীতে ২ টি শব্দে তা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। মাদ্বী দ্বারা অতীত আর মুদ্বারি দ্বারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয়ই বুঝায়। সূরা হাদীদ, হাশর ও সফ এর শুরুতে তাসবীহ পাঠ করার মাদ্বী তথা অতীত এর ক্রিয়া আবার সূরা জুমুয়াহ ও তাগাবুন এর শুরুতে তাসবীহ পাঠ করার মুদ্বারি তথা বর্তমান ও ভবিষ্যত এর ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে।
সূরাগুলোর মূল বিষয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটা খুবই সঙ্গতিপূর্ণ। সূরা হাদীদ, হাশর ও সফ এর মূল বিষয় সূরার অতীত সংশ্লিষ্ট এবং সূরা জুমুয়াহ ও তাগাবুন এর মূল বিষয় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সংশ্লিষ্ট। মাশা আল্লাহ, সুন্দর, প্রজ্ঞাপূর্ণ মিল
সূরা হাশর, সফ, জুমুয়া এবং তাগাবুন এর শুরু হয়েছে আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর তাসবিহ করে দিয়ে। এরপর আয়াতে এসেছে যমীনের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তাই শুরুর আয়াতে পরের আয়াতগুলোর সাথে মিল রেখে আলাদা করে যমীনের বর্ননার সময় অতিরিক্ত وَمَا فِى শব্দ এসেছে।
অন্যদিকে সূরা হাদিদ এ আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর তাসবিহ করে দিয়ে শুরু হয়েছে। এরপর কয়েকটি আয়াতে এসেছে আল্লাহর গুনগান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বর্ণনা।যেহেতু পরের আয়াতগুলোতে যমীনের বিষয় কম বর্ননা তাই শুরুর আয়াতে অতিরিক্ত শব্দ নাই। কি দারুন মিল। পরবর্তি প্রেক্ষাপটের সাথে পুর্ববর্তি শব্দের অপূর্ব সামঞ্জস্যতা







মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন