২৬। সূরা শুয়ারা

মূসা আলাইহিস সালাম-এর লাঠি সাপ হয়ে যাওয়া বিষয়ক যে আয়াতগুলো আছে, সেগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন সাপের জন্য কোথাও হাইয়াতুন (حية) আর কোথাও সু’বানুন (ثعبان) শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বাংলা অনুবাদ খুলে দেখুন সবখানে ‘সাপ’ লেখা আছে। সাপের আরবী শব্দ ব্যবহারের ভিন্নতার কারণে অর্থ ও মর্মতে যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে অনুবাদে সেটা প্রকাশিত হয়নি।

হাইয়াতুন মানে হলো ছোট সাপ। আর সু’বানুন মানে বিশাল বড় সাপ। দুইটাই তো সাপ। তবে সাপে সাপে পার্থক্য আছে। এবার আমরা এই শব্দ দু'টি যে আয়াতে ব্যবহার হয়েছে সে আয়াত দু’টি দেখি।

মূসা আলাইহিস সালাম যখন সপরিবারে রাতের বেলায় সফর করছিলেন এবং আগুনের প্রয়োজন হওয়ার কারণে এদিক-ওদিক তা খোঁজাখুঁজি করছিলেন সে সময় আল্লাহ তাঁকে ডাক দিয়ে বলেন,
قَالَ أَلْقِهَا يَا مُوسَى ۞ فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَى
“তিনি (আল্লাহ) বললেন, তুমি তা নিক্ষেপ করো হে মূসা। অতপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন এবং অমনি তা একটি সাপ হয়ে ছুটতে লাগল।” (২০ তম সূরা তহা, আয়াত ২০)

এই আয়াতে ‘হাইয়াতুন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এখানে মূসা আলাইহিস সালাম-কে শুধু লাঠি সাপ হয়ে যাবার মুজিযা দেখানো উদ্দেশ্য ছিল। বড় সাপ প্রদর্শন করে ভয় দেখানো উদ্দেশ্য ছিল না। তাই লাঠিটা নিক্ষেপ করার পর তা সাপে রূপান্তরিত হওয়াই যথেষ্ট ছিল।

এবার অন্য আয়াতটি দেখি। যেটি ২৬ তম সূরা আশ শুয়ারা এর আয়াত ৩২, যেখানে মূসা আলাইহিস সালাম যখন তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে ফিরআউনের দরবারে গেলেন তখন সে মূসা আলাইহিস সালাম-এর কাছে তাঁর নবুওয়তের প্রমাণ চাইল। তাই মূসা আলাইহিস সালাম নিজের হাতের লাঠিটি নিক্ষেপ করার সাথে সাথে তা বিরাটাকার ভয়ংকর একটি সাপের রূপ ধারণ করল। সেই ঘটনার কথাই কুরআন বর্ণনা করছে এভাবে,
قَالَ إِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِآيَةٍ فَأْتِ بِهَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ۞ فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ
“ফিরআউন বলল, তুমি যদি কোন নিদর্শন এনে থাক তাহলে তা পেশ করো, যদি তুমি সত্যবাদী হও। তখন মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করল অমনি তা একটি সাপে পরিণত হল।”

এই আয়াতে সাপের জন্য ব্যবহৃত শব্দটি হলো সু’বানুন। যার অর্থ হলো ভয়ংকর ও বিশালাকার সাপ। সাধারণ ছোটখাট কোন সাপ নয়। এই ক্ষেত্রে যেহেতু ফিরআউন তাঁর নবুওয়তকে অস্বীকার করে প্রমাণ চেয়েছিল, তাই প্রয়োজন ছিল এমন বড় কোন নিদর্শনের, যা দেখে সে ভয় পেয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলাও প্রয়োজনানুগ ব্যবস্থা নিলেন এবং লাঠিটাকে বিশাল বড় ভয়ংকর সাপে পরিণত করলেন।

এই দুই আয়াতের সাধারণ অনুবাদে আমরা দেখব, লাঠিটা শুধু সাপে রূপান্তরিত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সাপটা কেমন ছিল, এবং দুই সাপ দুই রকম হওয়ার কারণ কি ইত্যাদি অনুবাদ থেকে বোঝার কোন সুযোগ নেই। 

আল কুরআনের ২০ তম সূরা ত্বহা তে মূলত আল্লাহর সাথে মূসা (আঃ) এর ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্ননা করা হয়েছে।  ২৬ তম সূরা শুয়ারা তে মূলত মূসা (আঃ) এর সাথে ফেরাঊন এর ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্ননা করা হয়েছে।  ২৮ তম সূরা কাসাস এ মূলত মূসা (আঃ) এর ছোট ও কম বয়সের ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্ননা করা হয়েছে।  


নূহ (আঃ) , হুদ (আঃ), সালেহ (আঃ), শুয়াইব (আঃ), লূত (আঃ)  তাদের কওমের লোকদের বলেছেন,    আর আমি তোমাদের কাছ থেকে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আমার পুরস্কার তো সৃষ্টিকুলের রবের কাছেই আছে। অন্যান্য নবীগণ তাদের কওমের লোকদের কাছ থেকে প্রতিদান নেননি, তাদের ঘরে বা উপার্জনে বড় হননি। এজন্য কোন প্রতিদান চাই না বলা তাদের জন্য ঠিক আছে। 


ব্যতিক্রম ইব্রহিম (আঃ) ও মুসা (আঃ)। ইব্রহিম (আঃ) তার বাবাকেও দাওয়াত দিয়েছেন, মুসা (আঃ) ফেরাউনের বাড়িতে বড় হয়েছেন। অর্থাৎ ইব্রহিম (আঃ) ও মুসা (আঃ)  ইতোমধ্যে তারা তাদের পরিবারে থেকে  অবদান গ্রহণ করেছেন, সেটা তো অস্বীকার করেননি। তাই নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিদান চাই না ও বলেননি। 

উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সূরাসমূহের নোট

১৮। সূরা আল কাহাফ (গুহা)

১। সূরা আল ফাতিহা (সূচনা)