পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

৯৮। সূরা আল বায়্যিনাহ (সুস্পষ্ট প্রমান)

ছবি
  সারকথাঃ সূরার ১ম আয়াতে আল্লাহ বলছেন, আহলে কিতাব (যারা কিতাব পেয়েছে; অর্থাৎ ইহুদী, খ্রীষ্টান) ও মুশরিকরা যারা কুফরী করছে তারা বিরত হবে না/ আলাদা হয়ে যাবে না যতক্ষন না পর্যন্ত সুস্পষ্ট প্রমান না আসে। এখানে আল্লাজিনা কাফারু শব্দটি তাদের প্রতি বলা হয়েছে যারা ওহী আসার আগেও কুফরী করেছে। অর্থাৎ কিছু মানুষ থাকে যারা ওহী আসার আগেও কুফরী করতে থাকে স্বভাবগত ভাবেই। কিন্তু যখন ওহী চলে আসে তখন আগে থেকেই ভাল মানুষ ও খারাপ মানুষ আলাদা হয়ে যায়। ভাল মানুষগুলো সুস্পষ্ট প্রমান দেখে আলোর পথে, ইসলামের পথে এসে যায়। ২য় আয়াতে আল্লাহ ‘ বায়্যিনাহ ’ এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা মহৎ, অসাধারন রসূল এবং তাঁর পাঠ করা পবিত্র কিতাব। এখানে ‘ রসূলুল্লহ ’ (আল্লাহর রসূল) না বলে বলা হয়েছে ‘ রসূলুম মিনাল্লহ ’ (আল্লহর পক্ষ থেকে আসা), অর্থাৎ এখানে আল্লাহর সাথে সেই রসূলের অসাধারন ও ঘনিষ্টতা প্রকাশ পেয়েছে। আবার শুধু ‘ সুহুফান ’ (কিতাব) বলা হয়নি বরং বলা হয়েছে সুহুফাম মুতহহারহ (পবিত্র কিতাব)। এই কিতাব যার কাছ থেকে এসেছে তিনি (আল্লহ) পবিত্র, এর মধ্যে যা আছে তা, সন্দেহাতীত পবিত্র, যেখানে এর মূল কপি ...

৯৭। সূরা আল ক্বদর (মহিমান্বিত)

ছবি
  সূরার সারসংক্ষেপঃ শুরুতেই (১ম আয়াতে) বলা হয়েছে অবশ্যই আমি একে নাযিল করেছি কদর (মর্যাদাপূর্ন) রাতে। কদর শব্দটির সাথে ক্যালকুলেশন/হিসাব জড়িত। তার মানে হলো ‘ তাকদীর ’ বা ভাগ্য বিষয়টিও জড়িত। আল্লাহ এখানে ‘ আমরা ’ নামক রাজসিক বহুবচনের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেছেন যা আসলে উচ্চতর, ভাষার সৌন্দর্য্যের রাজসিক বহুবচন (Royal Plural) যা এক প্রকার একবচন। আল্লাহ নিজের নাম ব্যবহার না করে সর্বনাম ব্যবহার করেছেন এবং এর মাধ্যমে আল কুরআনের সাথে নিজের সম্পর্কের ঘনিষ্টতা বেশি প্রবলভাবে প্রকাশ করেছেন। এখানে আল কুরআন নাযিলের ব্যাপারে আল্লাহ ‘ আনঝালনা ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ একবার নাযিল হওয়া। এটি ঐ সময়ে ৭ম আসমান হতে ১ম আসমানে নাযিল হয়। অন্য জায়গায় (৩য় সূরা আলে ইমরান এর ৩ নং আয়াতে) এসেছে ‘ নাঝঝালা ’ অর্থ বার বার নাযিল হওয়া, এটি দ্বারা মুহাম্মাদ (স) এর উপর ২৩ বছরে ধাপে ধাপে আল কুরআন নাযিল হওয়ার বিষয়টি এসেছে। এর পরই (২য় আয়াতে) প্রশ্ন করা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে যে, আপনি কি জানেন এই কদরের রাত সম্পর্কে? যেহেতু নবী মুহাম্মাদ (সঃ) ও তাঁর পরবর্তি সকল মানুষকে জানিয়ে দেওয়া না হলে তারা জানতে পারেন না...

৯৬। সূরা আল আলাক্ব (জমাটবাঁধা রক্ত)

ছবি
সূরার মূল বিষয়বস্তুঃ ১ম-৫ম আয়াতে মানুষের প্রতি আল্লাহর দান, অনুগ্রহ এর কথা বর্নিত হয়েছে। ৬ষ্ঠ-৮ম আয়াতে আল্লাহর অনুগ্রহকে যথাযথ সম্মান না করে বরং বিরুদ্ধাচরন করার প্রবনতাকে তুলে ধরা হয়েছে। ৯ম-১৩ তম আয়াতে স্পেসিফিকভাবে উদাহরনের মাধ্যমে ঐ বিরুদ্ধাচরন করার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। ১৪- ১৮ তম আয়াতে আল্লাহ ঐ বিরুদ্ধাচরনকারী/ কারীদের পরিনতির কথা বলেছেন। ১৯ তম আয়াতে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরন না করে বরং তার অনুগত, নিকটবর্তী বান্দা হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে সূরার সমাপ্তি হয়েছে বর্ননাঃ সূরা আল আলাক্ব এর ১ম আয়াতটিই মহান আল্লাহ এর কাছে থেকে জীবরাঈল (আঃ) এর আনা মুহাম্মাদ (স) এর উপর নাযিলকৃত ১ম আয়াত। এই আয়াত থেকে কয়েকটি বিষয় জানতে পারিঃ ‘পড়’ বলা হয়েছে শুরুতেই যার অর্থ এটি কোন বই/কিছু থেকে পড়তে বলা হয়েছে। লাওহে মাহফুযে রক্ষিত আল কুরআনের লিখিত রুপ থেকেই এই বাক্যগুলো এসেছে যা পড়তে বলা হয়েছে। যদিও তখন জীবরাঈল (আঃ) মুখে মুখেই পড়তে/আবৃত্তি করতে বলেছেন, কোন লিখিত কিছু নিয়ে আসেন নাই।মুহাম্মাদ (স) নিরক্ষর হলেও আল্লাহ তাঁকে পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং মুহাম্মাদ (স) পড়েছেনও। রব ও স্রষ্টার নামে পড়তে বলা হয়েছে কারন অজা...