১২। সূরা ইউসুফ

 ১২ নম্বর সূরা ইউসুফ। ইউসুফ (আ) এর ঘটনাকে মোটা দাগে ১২ ভাগে ভাগ করা যায়। এই ১২ টি ভাগ অসাধারন সাদৃশ্যে সাজানো। পুরাই mind blowing!!! আল্লাহ কি নিপুন শিল্পি!!!     


১ম ভাগে আছে ইউসুফ (আ) এর স্বপ্ন দেখা, ২য় ভাগে ভাইদের অশুভ পরিকল্পনা, এরপর ৩য় ভাগে সম্ভ্রান্ত নারীর অশুভ পরিকল্পনা, ৪র্থ ভাগে অন্য কিছু নারীদের অশুভ পরিকল্পনা, ৫ম ভাগে ইউসুফ (আ) এর কারাবরণ এবং ৬ষ্ঠ ভাগে বাদশাহ এর স্বপ্ন দেখা। এরপর ঘটনাটি যেন আয়নার মত আগের অংশের সাথে পরের অংশের প্রতিবিম্ব! ৭ম ভাগে বাদশাহ এর স্বপ্ন এর বাস্তবতা, ৮ম ভাগে ইউসুফ (আ) এর কারামুক্তি, ৯ম ভাগে অন্য নারীরা অনুতপ্ত ও শিক্ষাপ্রাপ্ত, ১০ ভাগে সম্ভ্রান্ত নারী অনুতপ্ত ও শিক্ষাপ্রাপ্ত, ১১ তম ভাগে ভাইয়েরা অনুতপ্ত ও শিক্ষাপ্রাপ্ত এবং সবশেষ ১২ তম ভাগে উসুফ (আ) এর স্বপ্ন এর বাস্তবতা। 

আল্লাহ আল কুরআন এ বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন যেন তোমরা হতে পারো (লাআল্লাকুম)। এটা বলার মাধ্যমে তিনি মানুষের কাঙ্খিত মূল গুণাবলীগুলোর পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেছেন যেন তোমরা মুত্তাকী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২১, ১৮৩), কৃতজ্ঞ (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ৫২, ১৬ তম সূরা নাহল, আয়াত ৭৮), সঠিক পথপ্রাপ্ত (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ৫৩, ৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩), চিন্তা ভাবনাকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২১৯, ২৬৬), বিচক্ষণ (১২ সূরা ইউসুফ, আয়াত ২, ৪৩ তম সূরা জুখরুফ, আয়াত ৩), সফল (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩০, ২২ তম সূরা হজ্জ, আয়াত ৭৭), উপদেশ গ্রহণকারী  (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২২১, ১৬ তম সূরা নাহল, আয়াত ৯০), দয়া ও রহমতপ্রাপ্ত  (৬ষ্ঠ সূরা আনআম, আয়াত ১৫৫, ২৪ তম সূরা নুর, আয়াত ৫৬), 

আমাদের সেগুলো অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)। 

অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়। 

যে মহিলাটির ঘরে সে ছিল সে তাকে নিজের দিকে আকর্ষণ করতে থাকলো এবং একদিন সে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বললো, “চলে এসো”৷ (ইউসুফ) বললো, “আমি আল্লাহর আশ্রয় নিচ্ছি, আমার রব তো আমাকে ভালই মর্যাদা দিয়েছেন ৷ এ ধরনের জালেমরা কখনো কল্যাণ লাভ করতে পারে না৷”  


আল্লাহর বর্ননা শৈলী ও শব্দচয়ন কত সুন্দর! তিনি সুস্পষ্টভাবে না বলে ইঙ্গিতে কি সুন্দরভাবে বিষয়টা এখানে (আল কুরআন; সূরা ইউসুফ, আয়াত ২৩) তুলে ধরেছেন; এবং এর মাধ্যমে আমাদের শিখিয়েছেনঃ কিভাবে এমন অপ্রীতিকর দৃশ্য বর্ননা করতে হয় এবং এই অবস্থায় পড়লে কিভাবে কাজ করতে হয়। 

আরবী ভাষায় 'আম' এবং 'সানাহ' শব্দ দুটি দিয়ে বছর বোঝায়। তবে আম শব্দটি ব্যবহার হয় ভাল অর্থের ক্ষেত্রে ও সানাহ শব্দটি ব্যবহার হয় খারাপ অর্থের ক্ষেত্রে। 

স্বপ্নের ব্যাখ্যায় ইউসুফ (আ) বলেন, একাধারে ৭ বছর শস্য উৎপাদন করে সংগ্রহ করে শীষসহ রেখে দিতে, কিছু পরিমান খাওয়ার জন্য রেখে। এর পরবর্তি একাধারে কঠিন ৭ বছর পূর্বের সেই সংরক্ষিত শস্য হতে খেতে থাকবে ও কিছু পরিমান সংরক্ষন করবে। এরপর ১ টি বছর হবে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং স্বাচ্ছন্দ্যের বছর। 

চ্যলেঞ্জিং ১ম ৭ ও পরের ৭  বছরের ক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ও নেতিবাচক শব্দ সানাহ ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে পরের ইতিবাচক ১ বছরের ক্ষেত্রে ইতিবাচক শব্দ ‘আম’ ব্যবহার করা হয়েছে। কি অসাধারন সামঞ্জস্যপূর্ন শব্দচয়ন!

সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা আনআম, ইউসুফ, কাহাফ, হজ্জ, ইয়াসীন, রহমান, দাহরে এসেছে সবুজ শব্দটি। কালো শব্দটি কুরআনে এসেছে ৭ বার। জাহান্নামের দরজা ৭ টি। জাহান্নামের সাথে কালো শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নাহল, ফাতির, জুমার, জুখরুফ এ এসেছে কালো শব্দটি।

অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের দরজা মোট ১৫ টি। আল কুরআনে দরজা শব্দটির বহুবচনঃ দরজাসমূহও এসেছে ১৫ বার। এগুলো এসেছে বাকারা, আনআম, আরাফ, ইউসুফ, হিজর, নাহল, সোয়াদ, জুমার, মুমিন, জুখরুফ, কমার, নাবা তে। মজার ব্যাপার হলো, ৭ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জাহান্নামের দরজা সম্পর্কিত এবং ৮ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জান্নাতের দরজা সম্পর্কিত। কি দারুন মিল!



উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ