৭। সূরা আল আরাফ

সূরার সারসংক্ষেপঃ 

 আয়াত ১১ এর ১ম অংশ তে বর্নিত আছে যে, আদম (আঃ) কে আল্লাহ সুন্দরভাবে সৃষ্টি করে আকৃতি দিয়ে তাঁকে মর্যাদাবান করেছেন। সাথে সাথে ফেরেশতাদের সিজদা করতে বললে তারা সিজদা করে।      

কিন্তু ইবলিশ বাদে। সে কেন আদম (আঃ) কে সিজদা করে নি? আয়াত ১২ তে আল্লাহ শয়তানের কথাকেই সরাসরি quote করেছেন। এই আয়াত হতে বোঝা যায় যে,  ইবলিশ মূলত অহংকার এবং হিংসা করেছিলো।  

১৪ নং আয়াত এ বর্নিত শয়তান এর প্রার্থনার পর ১৫ নং আয়াতে আল্লাহ তাঁকে মরন বা ধ্বংস না দিয়ে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত বেঁচে থাকার অবকাশ দিলেন। মানুষকে কুমন্ত্রনা দেয়ার ক্ষমতাও বহাল রাখলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি আমাদের (মানুষদের) পরীক্ষা করারও একটি পদ্ধতি রেখে দিলেন।      

আদম (আঃ) ও ফেরেশতাদের সামনে ইবলিশ লাঞ্চিত, অবনমিত ও অপমানিত হয়। ১৬ নং আয়াতের বর্ননা মতে তখন সে নিজের দোষ স্বীকার না করে বরং আল্লাহকে দোষারোপ করে এবং আল্লাহকেই তার গোমরাহ হওয়ার কারন হিসাবে তুলে ধরে! সাথে সাথে ১৭ নং আয়াতে সে আদম (আঃ) তথা মানবজাতির প্রতি হিংসা ও রাগের বশবর্তি হয়ে ক্ষতি করার জন্য দাম্ভিকতা সহকারে ঘোষনা দেয়। 

১৭ নং আয়াতে শয়তান সব দিক দিয়ে আক্রমনের কথা বললেও উপর দিকের কথা বলেনি; কারন উপর দিক থেকে আসে আল্লাহর সাহায্য। তাই উপর থেকে আসা আল্লাহর কিতাব ও শিখিয়ে দেয়া দোয়ার সাহায্যে শয়তানের মুকাবেলা করতে হবে।      

আয়াত ২২ তে আল্লাহ বলছেনঃ এভাবে সে তাদের দুজনকে ধীরে ধীরে প্ররোচিত করলো।   
এই আয়াতে ‘দাল্লা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে; যার অর্থঃ আস্তে আস্তে, ক্রমান্বয়ে। শয়তান মানুষকে একবারে, জোর করে খারাপ পথে নেয় না। সে আস্তে আস্তে বারে বারে চেষ্টা করতে থাকে। নানারকম ভাবে ভুলিয়ে, সুন্দর সব যুক্তি দিয়ে বিপথে নিয়ে যায়। ঠিক যেমনটি নিয়েছিলো আমাদের আদি পিতা ও মাতাকে।       


সূরার ২৩ আয়াতে রব্বানা শব্দটি এসেছে। ‘রব্বি’ ও ‘রব্বানা’ শব্দটি মূলত দুটি করে শব্দ। ‘ইয়া রব্বি’ ও ‘ইয়া রব্বানা’। কিন্তু ‘ইয়া’ বা ‘হে’ শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে বিলুপ্ত করে ব্যবহার করা হয়। আল্লাহ  আমাদের খুবই কাছের, আপন বিধায় দূরবর্তি সংক্রান্ত শব্দ ‘হে’ বাদ দিয়ে শুধু রব্বি বা রব্বানা বলা হয়। সুবহানাল্লহ!

সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা আনআম, ইউসুফ, কাহাফ, হজ্জ, ইয়াসীন, রহমান, দাহরে এসেছে সবুজ শব্দটি। কালো শব্দটি কুরআনে এসেছে ৭ বার। জাহান্নামের দরজা ৭ টি। জাহান্নামের সাথে কালো শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নাহল, ফাতির, জুমার, জুখরুফ এ এসেছে কালো শব্দটি।

অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের দরজা মোট ১৫ টি। আল কুরআনে দরজা শব্দটির বহুবচনঃ দরজাসমূহও এসেছে ১৫ বার। এগুলো এসেছে বাকারা, আনআম, আরাফ, ইউসুফ, হিজর, নাহল, সোয়াদ, জুমার, মুমিন, জুখরুফ, কমার, নাবা তে। মজার ব্যাপার হলো, ৭ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জাহান্নামের দরজা সম্পর্কিত এবং ৮ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জান্নাতের দরজা সম্পর্কিত। কি দারুন মিল!

আয়াত ৪৪ অনুযায়ী, জান্নাতে গিয়ে জান্নাতিরা জাহান্নামিদের উদ্দেশ্য করে বলবে আমাদের রব আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা সত্য, তোমাদের রব যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা কি সত্য পেয়েছ? এখানে লক্ষণীয় যে, জান্নাতিরা কিছুটা ব্যঙ্গ করে বা উপহাস করে জাহান্নামীদের এ কথা বলবে। হতে পারে দুনিয়ায় যারা মুমিনদের ব্যঙ্গ করে বা উপহাস করে কথা বলতো জান্নাতে গিয়ে সেই মুমিনরাই সেই অপরাধিদের এমন প্রশ্ন করবে। 

আরেকটি বিষয় এখানে উল্লেখযোগ্য তা হল, এখানে রব জান্নাতিদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বর্ননা করতে গিয়ে জান্নাতিরা বলবে, আমাদের রব আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অন্যদিকে জাহান্নামীদের বেলায় তোমাদের রব তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন না বলে বলবে, তোমাদের রব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অর্থাৎ আল্লাহ চান না কাউকে জাহান্নামে পাঠাতে এজন্য তিনি নির্দিষ্ট করে কাউকে জাহান্নামের প্রতিশ্রুতিও দেন না। আবার জাহান্নামে গেলে তাদের নাম বা তাদের উল্লেখ ও তিনি করতে চান না, সেই হিসাবেও তাদেরকে বর্ননা করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে। 

চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)। 

অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়।  

আল কুরআনের আলোকে ২ ধরনের বাতাসের পার্থক্যঃ  বহুবচনের বাতাস ‘রিয়াহ’  এই বাতাস নিয়ামত হিসাবে আসে। হেলেদুলে প্রবাহিত হয়, কখনও এদিক থেকে কখনও  ওদিক থেকে বিক্ষিপ্তাকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বইতে থাকে; কেমন যেন সেখানে অনেকগুলো বাতাস থাকে । এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ ২:১৬৪, ৭:৫৭, ১৫:২২, ১৮:৪৫, ২৫:৪৮, ২৭:৬৩, ৩০:৪৬, ৩৫:০৯, ৪৫:০৫

অপরদিকে এক বচনের বাতাস ‘রীহ’। এই বাতাস আযাব হিসাবে আসে। বজ্রকঠিন ও একে অন্যের সাথে লাগোয়া। অনেক বেশি জমাটবাঁধা, ঘনীভূত ও সঙ্ঘত; কেমন যেন একটাই মাত্র তাবাস থাকে। এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ  ৩:১১৭, ১৪:১৮, ১৭:৬৯, ২২:৩১, ৩০:৫১, ৩৩:৯, ৪২:৩৩, ৪৬:২৪ সাধারনভাবে একবচন ও বহুবচন নেকই ধরনের অর্থ প্রকাশ করলেও আল কুরআন এখানে বহুবচনে নিয়ামত ও একবচনে আযাব প্রকাশ করেছে।    

সূরা আল আরাফ এর ৬০ নং আয়াতটি নুহ (আ) সম্পর্কে বলা হয়েছে। তিনি অনেক বছর ধরে দাওয়াত দিলেও তার সম্প্রদায়ের সকল সর্দাররাই তার বিরোধিতা করে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে তার পরীক্ষা অপেক্ষাকৃত বেশি কঠিন ছিল। আল্লাহর বর্ননার perfectness বোঝা যায় যেহেতু তারা সকলেই এতে যুক্ত ছিল তাই সকলকেই তিনি অন্তর্ভুক্ত করে বর্ননা করেছেন। 

অন্যদিকে ৬৬ নং আয়াতটি হুদ (আ) সম্পর্কে বলা হয়েছে। তিনি দাওয়াত দিলে তা সম্প্রদায়ের শুধু কুফরি করা সর্দাররা তার বিরোধিতা করে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে তার পরীক্ষা অপেক্ষাকৃত কম কঠিন ছিল।  আল্লাহর বর্ননার perfectness বোঝা যায় যেহেতু তারা কিছু নির্দিষ্ট মানুষ এতে যুক্ত ছিল তাই শুধু তাদেরকেই তিনি অন্তর্ভুক্ত করে বর্ননা করেছেন। 

অন্যদিকে সূরা আন নাজম, আয়াত ৫২; এই আয়াতটিতে নুহ (আ) এর সম্প্রদায়ের সম্পর্কে বলা হয়েছে। তারা অন্য নবীর সম্প্রদায়ের চাইতে বেশি জালিম ও  অবাধ্য। 

অর্থাৎ নুহ (আ) তার সম্প্রদায়কে অনেক বছর ধরে দাওয়াত দিলেও তারা বিরোধিতা করেছে বেশি সংখ্যায়, বেশি ব্যাপ্তিতে, বেশি তীব্রতায়। 

মূসা আলাইহিস সালাম-এর লাঠি সাপ হয়ে যাওয়া বিষয়ক যে আয়াতগুলো আছে, সেগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন সাপের জন্য কোথাও হাইয়াতুন (حية) আর কোথাও সু’বানুন (ثعبان) শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বাংলা অনুবাদ খুলে দেখুন সবখানে ‘সাপ’ লেখা আছে। সাপের আরবী শব্দ ব্যবহারের ভিন্নতার কারণে অর্থ ও মর্মতে যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে অনুবাদে সেটা প্রকাশিত হয়নি।

হাইয়াতুন মানে হলো ছোট সাপ। আর সু’বানুন মানে বিশাল বড় সাপ। দুইটাই তো সাপ। তবে সাপে সাপে পার্থক্য আছে। এবার আমরা এই শব্দ দু'টি যে আয়াতে ব্যবহার হয়েছে সে আয়াত দু’টি দেখি।

মূসা আলাইহিস সালাম যখন সপরিবারে রাতের বেলায় সফর করছিলেন এবং আগুনের প্রয়োজন হওয়ার কারণে এদিক-ওদিক তা খোঁজাখুঁজি করছিলেন সে সময় আল্লাহ তাঁকে ডাক দিয়ে বলেন,
قَالَ أَلْقِهَا يَا مُوسَى ۞ فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَى
“তিনি (আল্লাহ) বললেন, তুমি তা নিক্ষেপ করো হে মূসা। অতপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন এবং অমনি তা একটি সাপ হয়ে ছুটতে লাগল।”

এই আয়াতে ‘হাইয়াতুন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এখানে মূসা আলাইহিস সালাম-কে শুধু লাঠি সাপ হয়ে যাবার মুজিযা দেখানো উদ্দেশ্য ছিল। বড় সাপ প্রদর্শন করে ভয় দেখানো উদ্দেশ্য ছিল না। তাই লাঠিটা নিক্ষেপ করার পর তা সাপে রূপান্তরিত হওয়াই যথেষ্ট ছিল।

এবার অন্য আয়াতটি দেখি। মূসা আলাইহিস সালাম যখন তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে ফিরআউনের দরবারে গেলেন তখন সে মূসা আলাইহিস সালাম-এর কাছে তাঁর নবুওয়তের প্রমাণ চাইল। তাই মূসা আলাইহিস সালাম নিজের হাতের লাঠিটি নিক্ষেপ করার সাথে সাথে তা বিরাটাকার ভয়ংকর একটি সাপের রূপ ধারণ করল। সেই ঘটনার কথাই কুরআন বর্ণনা করছে এভাবে,
قَالَ إِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِآيَةٍ فَأْتِ بِهَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ۞ فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ
“ফিরআউন বলল, তুমি যদি কোন নিদর্শন এনে থাক তাহলে তা পেশ করো, যদি তুমি সত্যবাদী হও। তখন মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করল অমনি তা একটি সাপে পরিণত হল।”

এই আয়াতে সাপের জন্য ব্যবহৃত শব্দটি হলো সু’বানুন। যার অর্থ হলো ভয়ংকর ও বিশালাকার সাপ। সাধারণ ছোটখাট কোন সাপ নয়। এই ক্ষেত্রে যেহেতু ফিরআউন তাঁর নবুওয়তকে অস্বীকার করে প্রমাণ চেয়েছিল, তাই প্রয়োজন ছিল এমন বড় কোন নিদর্শনের, যা দেখে সে ভয় পেয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলাও প্রয়োজনানুগ ব্যবস্থা নিলেন এবং লাঠিটাকে বিশাল বড় ভয়ংকর সাপে পরিণত করলেন।

এই দুই আয়াতের সাধারণ অনুবাদে আমরা দেখব, লাঠিটা শুধু সাপে রূপান্তরিত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সাপটা কেমন ছিল, এবং দুই সাপ দুই রকম হওয়ার কারণ কি ইত্যাদি অনুবাদ থেকে বোঝার কোন সুযোগ নেই। যদি আরবি জানা থাকে, তখন সহজেই বিষয়টি বুঝে নেওয়া সম্ভব। এসব কারণেই কেউ যদি শুধু অনুবাদের সাহায্য নিয়ে কুরআনকে পুরোপুরি অনুধাবন করতে চায় তা কখনও সম্ভব না।

১৩৩ নং আয়াত অনুসারে হযরত মুসা (আ.)-এর যুগে অবাধ্য ফেরাউন এবং তার কিবতী (মিশরীয়) সম্প্রদায়ের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ধারাবাহিক প্রাকৃতিক আযাব বা মহামারী এসেছিল, যার মধ্যে ছিল তুফানের আযাব (জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়-বৃষ্টি)। এটার কারনে সৃষ্ট বন্যা কমে যাওয়ার পর যখন নতুন ফসল গজাতে শুরু করে, তখন আকাশ অন্ধকার করে কোটি কোটি রাক্ষুসে পঙ্গপালের ঝাঁক ধেয়ে আসে। এই পঙ্গপালের দল মাঠের সবুজ ফসল, গাছের ফল, লতাপাতা এমনকি গাছের ছাল পর্যন্ত খেয়ে উজাড় করে ফেলে। ফসলের এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে পুরো মিশর জুড়ে তীব্র খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। পঙ্গপাল (Locusts) হলো প্রকৃতির সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক এবং শক্তিশালী কীটপতঙ্গগুলোর একটি। আপাতদৃষ্টিতে এদের একটি সাধারণ ফড়িং মনে হলেও, যখন এরা দলবদ্ধ রূপ নেয়, তখন এরা এক জীবন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পঙ্গপালের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো এদের "ফেজ ট্রান্সফর্মেশন" (Phase Transformation) বা রূপান্তর প্রক্রিয়া। স্বাভাবিক অবস্থায় এরা অত্যন্ত লাজুক, নিরীহ এবং একা একা থাকতে পছন্দ করে। তখন এদের গায়ের রঙ থাকে সবুজ বা বাদামী। এরা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। যখন খরা বা বিশেষ আবহাওয়ার কারণে এদের খাদ্য কমে যায় এবং এরা বাধ্য হয়ে অল্প জায়গায় অনেক ফড়িং একসাথে জড়ো হয়, তখন এদের শরীরে এক অলৌকিক পরিবর্তন ঘটে। একে অপরের শরীরের স্পর্শের কারণে এদের মগজে সেকেরোটোনিন (Serotonin) নামক হরমোনের নিঃসরণ হু হু করে বেড়ে যায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এদের গায়ের রঙ বদলে উজ্জ্বল হলুদ বা কালচে হয়ে যায়, পেশী শক্তিশালী হয়, ডানা বড় হয় এবং এদের লাজুক স্বভাব দূর হয়ে চরম আক্রমণাত্মক রূপ নেয়। এরা তখন কোটি কোটির বিশাল ঝাঁক তৈরি করে উড়তে শুরু করে।

পঙ্গপালের বংশবৃদ্ধি এবং খাওয়ার গতি কোনো আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের চেয়ে কম নয়। একটি স্ত্রী পঙ্গপাল মাটির নিচে একবারে প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি ডিম পাড়ে। অনুকূল আবহাওয়ায় মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এদের সংখ্যা প্রায় ২০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। একটি পূর্ণবয়স্ক পঙ্গপাল প্রতিদিন তার নিজের ওজনের সমপরিমাণ (প্রায় ২ গ্রাম) কাঁচা খাবার খেতে পারে। একটি মাঝারি আকারের পঙ্গপালের ঝাঁকে প্রায় ৪ থেকে ৮ কোটি পঙ্গপাল থাকে। এই ছোট্ট একটি ঝাঁক মাত্র একদিনে প্রায় ৩৫,০০০ মানুষের পুরো এক বছরের খাবার সাবাড় করে দিতে পারে! এরা গাছের পাতা, ফুল, ফল, কচি ডাল, এমনকি গাছের ছাল পর্যন্ত খেয়ে উজাড় করে ফেলে, যার ফলে মুহূর্তেই বিঘার পর বিঘা সবুজ ফসল মরুভূমিতে পরিণত হয়। পঙ্গপালের ঝাঁক যেকোনো সবুজ রঙের প্রতি তীব্রভাবে আকৃষ্ট হয়। দূর থেকে কোনো সবুজ ফসলের মাঠ দেখলেই এদের পুরো ঝাঁকটি বিমান হামলার মতো সেটির ওপর আছড়ে পড়ে।

পঙ্গপালের ঝাঁক বাতাসের গতিকে কাজে লাগিয়ে দিনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পথ অনায়াসে পাড়ি দিতে পারে। কোটি কোটি পঙ্গপাল যখন আকাশে ওড়ে, তখন তারা নিজেদের মধ্যে কোনো প্রকার সংঘর্ষ (Collision) ছাড়াই নিখুঁত শৃঙ্খলার সাথে ওড়ে। এদের এই বিশেষ দৃষ্টিশক্তি এবং সংঘর্ষ এড়ানোর মেকানিজম নিয়ে বর্তমানে গাড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো স্বয়ংক্রিয় "অ্যান্টি-ক্র্যাশ" (Anti-crash) প্রযুক্তি তৈরিতে গবেষণা করছে।

মুসা (আ.)-এর যুগে অবাধ্য ফেরাউন এবং তার কিবতী (মিশরীয়) সম্প্রদায়ের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ধারাবাহিক প্রাকৃতিক আযাবের মধ্যে অন্যতম আর একটি ছিল উকুন। উকুনগুলো শুধু মানুষের মাথায় নয়, বরং তাদের পুরো শরীর, জামাকাপড়, বিছানা এবং ঘরের আনাচে-কানাচে ছেয়ে যায়। মানুষেরা দিন-রাত শান্তিতে ঘুমাতে বা বসতে পারত না।

উকুনের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হলো মানুষের রক্ত। উকুনের কারনে বৈজ্ঞানিক তথ্যমতে যে সকল সমস্যা হয়। রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া: একটি উকুন দিনে ৪ থেকে ৫ বার মানুষের রক্ত চোষে। মাথায় যদি অতিরিক্ত পরিমাণে উকুনের উপদ্রব হয়, তবে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে। তীব্র চুলকানি ও অ্যালার্জি: উকুন যখন রক্ত চোষার জন্য কামড়ায়, তখন তারা তাদের লালা (Saliva) মানুষের ত্বকে প্রবেশ করায়। উকুনের লালায় এমন এক ধরণের উপাদান থাকে যা রক্তকে জমাট বাঁধতে দেয় না। এই লালার প্রতিক্রিয়ায় ত্বকে তীব্র চুলকানি এবং অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। সেকেন্ডারি ইনফেকশন: উকুনের কামড়ের কারণে মানুষ যখন নখ দিয়ে অনবরত চুলকায়, তখন মাথার চামড়া ছিলে যায়। এই ক্ষতের মধ্য দিয়ে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে মাথায় পুঁজ বা মারাত্মক ইনফেকশন (যেমন: Impetigo) তৈরি করতে পারে। মহামারী রোগ ছড়ানো (শুধু কাপড়ের উকুন বা Body Lice): মাথার উকুন রোগ না ছড়ালেও, কাপড়ের উকুন টাইফাস (Typhus) এবং ট্রেঞ্চ ফিভারের মতো মারাত্মক মহামারী রোগ ছড়াতে পারে, যা ইতিহাসে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।

উকুনের এই ক্ষতিকারক দিক গুলোর পিছনে রয়েছে এর কিছু অসাধারন বৈশিষ্ট্য।
উকুনের পুরো শরীরের গঠনটি এমনভাবে ডিজাইন করা যা মানুষের চুলে বা কাপড়ে টিকে থাকার জন্য শতভাগ নিখুঁত। চুল আঁকড়ে ধরার বিশেষ নখর: এদের ৬টি পায়ে বিশেষ ধরণের হুক বা নখর (Claws) থাকে। এই নখরগুলোর বাঁক এবং আকার মানুষের চুলের ব্যাসের (Thickness) সাথে একদম নিখুঁতভাবে মিলে যায়, যার ফলে এরা চুলকে সাঁড়াশির মতো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে চুলে দ্রুত চলাচল করতে পারে। নির্দিষ্ট হোস্টের প্রতি আনুগত্য (Host Specificity): উকুন অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরজীবী। মানুষের মাথার উকুন কেবল মানুষের মাথাতেই বাঁচতে পারে। এরা বিড়াল, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণীর শরীরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। মানুষের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হলে এরা মাত্র ১ থেকে ২ দিন বাঁচতে পারে। অবিনাশী 'সুপার গ্লু' (Indestructible Glue) স্ত্রী উকুন চুলের গোড়ায় যে ডিম পাড়ে (যাকে আমরা 'নিকি' বলি), তা চুলের সাথে এমন এক ধরণের তরল আঠা দিয়ে আটকে দেয় যা আধুনিক বিজ্ঞানের যেকোনো সুপার গ্লু-কে হার মানায়। এই আঠাটি মূলত এক ধরণের বিশেষ প্রোটিন। এটি বাতাসে সংস্পর্শে আসামাত্রই শক্ত হয়ে যায়। এটি এতটাই শক্তিশালী যে সাধারণ পানি, সাবান, শ্যাম্পু বা কোনো কেমিক্যাল দিয়েও এই আঠা গলানো বা চুল থেকে আলাদা করা যায় না। চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলা ছাড়া একে সহজে সরানো অসম্ভব। পানির নিচে দম বন্ধ করে বেঁচে থাকাঃ অনেকে মনে করেন মাথায় পানি ঢাললে বা সাঁতার কাটলে উকুন মারা যাবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। উকুনের শরীরে শ্বাস নেওয়ার জন্য বিশেষ কিছু ছিদ্র বা স্পাইরাকল (Spiracles) থাকে। পানিতে নিমজ্জিত হওয়া মাত্রই উকুন এক অলৌকিক উপায়ে এই শ্বাস-ছিদ্রগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এরা কোনো অক্সিজেন ছাড়াই পানির নিচে টানা ৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারে। এই সময়ে এরা এক ধরণের হাইবারনেশন বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে যায়।

কিছু কুরআন গবেষকদের মতে, এখানে ‘কুম্মাল’ শব্দটির দুটি অর্থ হতে পারে—মাথার উকুন অথবা শস্যখেতের এক ধরণের ক্ষুদ্র উঁইপোকা বা কীট। যদি এটি উঁইপোকা বা ক্ষুদ্র কীট হয়ে থাকে, তবে পঙ্গপালের আযাব থেকে বেঁচে যাওয়া অবশিষ্ট সমস্ত ফসল, ফলমূল এবং গুদামজাত শস্যকে এই ক্ষুদ্র পোকাগুলো খেয়ে বালিতে পরিণত করে দিয়েছিল। এর ফলে মিশরে তীব্র খাদ্যসংকট এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তারা কোনো খাবার খেতে গেলে খাবারের পাত্রেও শুধু পোকা আর উকুন কিলবিল করত।

১৩৩ নং আয়াত অনুযায়ী পুরো মিশর অসংখ্য ব্যাঙের উপদ্রবে ভরে যায়। নদী-নালা থেকে ব্যাঙ বের হয়ে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল যে মানুষের বিছানা, জামাকাপড়, রান্নার পাত্র এবং খাবারের ভেতরেও ব্যাঙ কিলবিল করতে শুরু করে। কেউ ঘুমাতে গেলে বা কথা বলতে মুখ খুললে আক্ষরিক অর্থেই মুখের ভেতর ব্যাঙ ঢুকে যাওয়ার উপক্রম হতো। ব্যাঙের অনবরত ডাক এবং উপস্থিতিতে তাদের জীবন বিষাদময় হয়ে উঠেছিল।

অতিরিক্ত ব্যাঙের উৎপাতের কারণে স্থানীয় অন্যান্য ছোট ছোট পোকা-মাকড় ও উপকারী জীব বিলুপ্তির মুখে পড়ে, যা পুরো কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।

একটি প্রাণী হিসেবে ব্যাঙের জীবনযাপন, প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা এবং তাদের শরীরের গঠনশৈলীর পেছনে রয়েছে চরম কিছু অবাক করা এবং অবিশ্বাস্য বৈজ্ঞানিক সত্য। যা এই ধরনের ভয়াবহ আযাব এর পিছনে কিছুটা হলেও ভূমিকা রেখেছে।

কিছু প্রজাতির ব্যাঙ কানের পেছনে বিশেষ বিষাক্ত গ্রন্থি থাকে। এদের কামড়ালে বা স্পর্শ করলে যেকোনো শিকারী প্রাণী তাৎক্ষণিক মারা যায়।
তাপমাত্রা যখন মাইনাসের নিচে নেমে যায়, তখন এক প্রজাতির ব্যাঙগুলোর শরীরের রক্ত এবং ভেতরের প্রায় ৬৫% পানি সম্পূর্ণ বরফে পরিণত হয়। এদের হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এদের লিভার বা যকৃৎ তখন প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ বা শর্করা তৈরি করে কোষের ভেতর ছড়িয়ে দেয়, যা এক ধরণের প্রাকৃতিক 'অ্যান্টি-ফ্রিজ' হিসেবে কাজ করে ভেতরের কোষগুলোকে ফেটে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। বসন্তকালে বরফ গললে এরা আবার অলৌকিক উপায়ে জীবিত হয়ে লাফাতে শুরু করে।

ব্যাঙ যখন কোনো শিকার বা পোকা মুখে পুরে নেয়, তখন তারা মানুষের মতো দাঁত দিয়ে চিবিয়ে বা শুধু গলা দিয়ে তা গিলতে পারে না। খাবারটি পেটে পাঠানোর জন্য এরা এক অদ্ভুত পদ্ধতি ব্যবহার করে: এরা এদের চোখ দুটিকে মাথার ভেতরের দিকে বা নিচের দিকে জোরে চাপ দেয়। চোখের এই নিচের দিকের চাপটি সরাসরি তাদের মুখের ভেতরের খাবারকে ধাক্কা দিয়ে গলাধকরণ করতে বা পেটের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে। ব্যাঙ বড় কোনো কিছু গিলার সময় সবসময় চোখ বন্ধ করে ফেলে।

মরুভূমির শুষ্ক পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এক প্রজাতির ব্যাঙ এক চরম পথ বেছে নেয়। যখন বছরের পর বছর খরা চলে, তখন এরা মাটির অনেক গভীরে চলে যায় এবং নিজেদের শরীর থেকে এক ধরণের বিশেষ ককুন বা খোলস তৈরি করে নিজেদের মুড়িয়ে নেয়, যা শরীরের পানি বাষ্প হতে দেয় না। এরা কোনো খাবার বা অতিরিক্ত পানি ছাড়াই মাটির নিচে প্রায় ৫ বছর পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় বা সুপ্ত অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে। যখনই বৃষ্টি হয়, এরা মাটি ফুঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।

ব্যাঙের বেঁচে থাকার জন্য সরাসরি মুখ দিয়ে পানি পান করার প্রয়োজন হয় না। এদের পেটের নিচের চামড়া অত্যন্ত পাতলা ও ভেদ্য (Permeable)। এরা ভেজা মাটি বা পানিতে বসে থাকলে এদের চামড়া স্পঞ্জের মতো চারপাশের পানি সরাসরি শরীরে শুষে নেয়। এমনকি পানির নিচে থাকার সময় এরা ফুসফুস ছাড়াই সরাসরি নিজেদের আর্দ্র চামড়ার মাধ্যমে পানির অক্সিজেন রক্তের সাথে মিশিয়ে নিতে পারে।

৭ম সূরা আল আরাফ, আয়াত ১৬০ এ এসেছে পবিত্র আসমানি খাবার যা নাযিল হয়েছিল বনী ইসরাঈলদের জন্য। নাম মান্না ও সালওয়া। মান্না এক প্রকার খাবার যা উদ্ভিদের উপর নাযিল হতো। আর সালওয়া এক প্রকার পাখী যা সহজে ধরা যেত। এর দ্বারা আল্লাহর দেয়া খাদ্য নেয়ামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা ছিল সহজলভ্য, উপকারি। 

১৭৮ নং আয়াতে হিদায়াত প্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম ও আল্লাহর প্রিয় বিধায় একবচনে ও নিকটবর্তি সর্বনামে (সে) উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে পথভ্রষ্ট মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি ও আল্লাহর অপ্রিয় বিধায় বহুবচনে ও দূরবর্তি সর্বনামে (ওরা) উল্লেখ করা হয়েছে। কি বিজ্ঞতাপূর্ন ভাষা, শব্দের ব্যবহার!


স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ঘনিষ্ঠতা বোঝাতে আল-কুরআনে সাতটি আলাদা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ এর একটি শব্দও কাজটির সরাসরি আক্ষরিক নয়। দেখুন সেগুলো

মাসসা (مَسَّ): স্পর্শ করা — সূরা আল-ইমরান (৩:৪৭), সূরা আল-বাকারা (২:২৩৬, ২:২৩৭)।
কারাবা (قَرَبَ): নিকটবর্তী হওয়া — সূরা আল-বাকারা (২:২২২, ২:১৮৭)।
আতা (أَتَى): আসা বা গমন করা — সূরা আল-বাকারা (২:২২২, ২:২২৩)।
বাশারা (بَاشَرَ): চামড়ার সাথে চামড়ার স্পর্শ হওয়া বা মেলামেশা করা — সূরা আল-বাকারা (২:১৮৭)।
দুখুল (دَخَلَ): প্রবেশ করা — সূরা আন-নিসা (৪:২৩)।
তাগাশ্শা (تَغَشَّى): ঢেকে নেওয়া বা আচ্ছাদিত করা — সূরা আল-আ'রাফ (৭:১৮৯)
রাফাস (الرَّفَثُ): স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ কথা বা কাজ — সূরা আল-বাকারা (২:১৮৭)।
এগুলো গোপনীয় বিষয় এজন্য আল্লাহ সরাসরি বলেন নি। বুদ্ধিমান মানুষের জন্য এই ইশারাই যথেষ্ট। কি অসাধারন আল্লাহর প্রজ্ঞা, প্রকাশভঙ্গী, উচ্চমান।


৭ তম সূরা আরাফ, আয়াত ২০০ তে বলা হয়েছে শয়ত্বানের পক্ষ থেকে যদি তুমি কুমন্ত্রণা অনুভব কর, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ। প্রায় একই শব্দ বিশিষ্ট আরেকটি আয়াত আছে ৪১ তম সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৩৬ এ। সেখানে বলা হচ্ছে শয়ত্বানের পক্ষ থেকে যদি তুমি কুমন্ত্রণা অনুভব কর, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনিই সেই যিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ। অর্থাৎ একই রকম প্রায় কিন্তু এখানে শেষের দিকে হুয়া শব্দটি বেশি আছে। এর কারন কি

এর কারন আগের আয়াত। সূরা আরাফে বলা হয়েছে জাহেলদের এড়িয়ে চলতে যা তুলনামুলক সহজ সূরা ফুসসিলাত এর শত্রুদের বন্ধু বানানোর চাইতে। এই জন্য অধিকতর কঠিন কাজ আল্লাহ বেশি ভালভাবে দেখেন ও জানেন যা হুয়া শব্দটি বেশি ব্যবহার করে আল্লাহ চোখে আঙ্গুল দিয়ে ভাষাগতভাবেও বুঝিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লহ।  


উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সূরাসমূহের নোট

১৮। সূরা আল কাহাফ (গুহা)

১। সূরা আল ফাতিহা (সূচনা)