৫১। সূরা আয যারিয়াত
আমি নিজ হাতে আসমান সৃষ্টি করেছি আর আমি অবশ্যই তা প্রশস্তকারী। (৫১ তম সূরা আয যারিয়াত, আয়াত ৪৭)। আধুনিক বিজ্ঞান জানতে পেরেছে যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। ছায়াপথ, গ্রহ ইত্যাদি পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তবে আল কুরআন এই আবিষ্কারের আগেই এর বর্ণনা দিয়ে রেখেছে। আল্লাহই যেহেতু নিজেই এসব সৃষ্টি করেছেন তিনি তো সব জানবেন এটাই স্বাভাবিক।
৪৯ তম আয়াতে আল্লাহ বলেছেন তিনি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ স্রষ্টা, একক, অদ্বিতীয়। স্রষ্টা এর সাথে সৃষ্টি আলাদা, ভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন করার জন্য হয়তো এভাবে জোড়া করেছেন।
আল্লাহ চলাচলের জন্য আল কুরআনে কয়েকটি শব্দ ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন সূরায়। ৬৭ নং সূরা আল মূলক এর ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে "হাটো", এটা মূলত রিযিক অন্বেষণের জন্য অল্প গতির চলাচল। ৬২ নং সূরা আল জুমুয়া এর ৯ নং আয়াতে নামাজে যাওয়ার ক্ষেত্রেঃ “ধাবিত হও” বলা হয়েছে যা আরেকটু বেশি গতির চলাচল।
৩ নং সূরা আলে ইমরান এর ১৩৩ নং আয়াতে জান্নাত লাভের ক্ষেত্রেঃ “পাল্লা দিয়ে দৌড়াও” বলা হয়েছে যা আরো বেশি গতির চলাচল। ৫১ নং সূরা আয যারিয়াত এর ৫০ নং আয়াতে আল্লাহর দিকে চলার ক্ষেত্রেঃ “ছুটে চলো” বলা হয়েছে যা আগের সকল গতির বেশি গতির চলাচল। এভাবে আল্লাহ গুরুত্ব ও লক্ষ্য এর বিবেচনায় চলার গতি বাড়াতে বলেছেন খুব সুন্দরভাবে। সুবহানাল্লহ।
আল কুরআনে জ্বীন ও মানুষ দুটি শব্দ একই আয়াতে এসেছে এমন কয়েকটি আয়াত আছে। সবক্ষেত্রে একই ধারাবাহিকতায় সেটা আসেনি। কখনো জ্বীন শব্দটি আবার কখনো মানুষ শব্দটি আগে এসেছে। আসুন দেখি এই ধারাবাহিকতার পিছনে লুকিয়ে থাকা আল্লাহর প্রজ্ঞা ও সৌন্দর্য্য!!!
আমি সৃষ্টি করিনি জ্বীন ও মানুষকে এই কারন ছাড়া অন্য কোন কারনে যে, তারা আমার ইবাদাত করবে।(আল কুরআন, ৫১ তম সূরা আয যারিয়াত, আয়াত ৫৬) ১। এখানে শুরুতে জ্বীন শব্দটি এসেছে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো সৃষ্টি। আল্লাহ জ্বীন জাতিকে আগে সৃষ্টি করেছেন। ২। সৃষ্টির ধারাবাহিকতায় মানুষ জাতি জ্বীন জাতির পরে এসেছে তাই মানুষ শব্দটি এই আয়াতে জ্বীন শব্দটির পরে এসেছে।


.jpg)

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন