পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

৪। সূরা আন নিসা (নারী)

ছবি
 ‘আর রহম’ (যার অর্থ গর্ভ) শব্দ হতে ‘আর রহমান’ শব্দটি এসেছে । সূরার ১ম আয়াতেই আল্লাহ ‘রহম’ (গর্ভ) কে ভয় করতে বলেছেন অর্থাৎ ঐ সম্পর্কের সাথে সতর্ক হয়ে চলতে বলেছেন। এই গর্ভ এর সাথে কয়েকটি বিষয় ও মানুষ জড়িত। বিবাহ, নারী, পুরুষ এবং সন্তান। এই সব বিষয়েই আল্লাহ অত্যন্ত সতর্ক হতে বলেছেন। ১৪, ৫৬ নং আয়াতে জাহান্নামের কিছু বর্ননা দেয়া হয়েছে। এর একটা কল্পিত প্রতিকী চিত্র আঁকার  চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও কুরআনের আরো কিছু সূরার আয়াতের সাহায্যে জাহান্নামের আরো কিছু আযাবের চিত্র এখানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।   মা বাবার সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ইহসান’ শব্দটি ব্যবহার করে হয়েছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই তবে একটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে ‘হুসন’ শব্দটি। আরবীতে শব্দের ক্ষেত্রে একই ধরনের শব্দে বর্ণ সংখ্যা বেশি হলে তার অর্থতেও সেই প্রভাব পড়ে, বেশি বর্ণ মানে বেশি প্রকট অর্থ বুঝায়। স্বাভাবিকভাবে  ২:৮৩ , ৪:৩৬ , ৬:১৫১, ১৭:২৩, ৪৬:১৫ আয়াতগুলোতে নেককার মা বাবা হওয়ায় তাদের প্রতি ইহসান বা সর্বোচ্চ সুন্দর ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ। অন্যদিকে ২৯:৮৮ আয়াতে সর্বোচ্চ সুন্দর ব্যবহারের চেয়ে কম মাত্র...

১০০। সূরা আল আদিয়াত (অভিযানকারী)

ছবি
সূরার সারসংক্ষেপঃ ১ম অংশে (আয়াত ১-৫) আল্লাহ বেপরোয়া কিছু মানুষের কর্মকান্ড (তীব্র গতিতে ঘোড়া ছুটিয়ে আক্রমন করা) তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন মুভির আগে ট্রেইলার বের হয়। অথবা কোন মুভি সম্পর্কে মানুষকে আকর্ষন করতে একটি সার সংক্ষেপ ভিডিও বের করা হয় ট্রেইলার হিসাবে। অ্যাকশন মুভিগুলোর ট্রেইলারগুলো সেই রকম থ্রিলিং হয়। এটা দেখে মানুষ মুভি দেখতে আগ্রহী হয়। আল্লাহও কুরআনের এই সূরার ১ম অংশে একটি অ্যাকশন মুভির ট্রেইলার দেখিয়েছেন। তারপর ক্লাইম্যাক্সে এসে বিষয় অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন। অসাধারন! অসাধারন!!! আরবের লোকেদের বিনোদন এর মধ্যে যুদ্ধ অনেকটা জায়গা দখল করে আছে। সেই সময়ের অন্যতম বাহন ছিলো ঘোড়া যা কিনা এখনকার নামী দামী গাড়ির মত। সূরা আল আদিয়াতে সেই ঘোড়া ও তা নিয়ে বেপরোয়া এর অভিযানের থ্রিলিং এক ট্রেইলারকে চিত্রিত করেছেন আল্লাহ। দেখুন সেই অসাধারন চিত্রটি। ১ নং আয়াতে দ্রুতগামী নারী ঘোড়া এর কথা বলা হয়েছে। পুরুষ ঘোড়ার চেয়ে নারী ঘোড়া সাধারনত বেশি জোরে দৌড়াতে পারে, তাই যুদ্ধ বা অভিযানে এই ঘোড়াকে প্রিফার করা হতো। সেই ঘোড়া দ্রুত দৌড়ানোর কারনে মুখ দিয়ে শব্দ বের হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সে বেপরোয়া ভাবে এগুচ্ছে।...

৩। সূরা আলে ইমরান (ইমরানের বংশধর)

ছবি
এই সূরার মূল বিষয় হলো ইসলাম। আগের সূরা আল বাকারার মূল বিষয় ছিল ঈমান। আয়াত ৩ (আংশিক) তে আল্লাহ বলছেনঃ তিনি তোমার ওপর এই সত্য সহকারে এই কিতাব বার বার নাযিল করেছেন..  এখানে نَزَّلَ দ্বারা মুহাম্মাদ (স) এর জীবনের ২৩ বছরে বারবার (১ম আসমান হতে পৃথিবীতে) নাযিল হওয়া বোঝানো হয়েছে। ২য় সূরা আল বাকারা এর আয়াত ১৮৫ (আংশিক) তে আল্লাহ বলছেনঃ রমযান মাস, এ মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে..  এখানে أُنزِلَ দ্বারা লাইলাতুল কদরে একবার (৭ম আসমান হতে ১ম আসমান) নাযিল হওয়া বোঝানো হয়েছে।  মূল কিতাবসমূহ বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ। মুসলিমরা আল্লাহর নাযিল করা ইঞ্জিল  বিশ্বাস করে তবে মূল কিতাবটি, কোন পরিবর্তিত কিতাব নয়। ইঞ্জিল এর উপর  মুসলিমদের ও খৃষ্টানদের বিশ্বাস এক নয়। খৃষ্টানরা ইঞ্জিল/বাইবেল বিশ্বাস  করে তবে যেটির অনেক ধরনের সংস্করন রয়েছে যা তারা স্বীকার করে। সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন, অনুবাদ ইত্যাদির কারনে এই ইঞ্জিল/বাইবেল আর আগের মূল ইঞ্জিল হিসাবে নেই।   আল কুরআন সর্বশেষ কিতাব, যার মধ্যে আগের কিতাবসমূহের সকল মূল শিক্ষাই রয়েছে। তাই আসমানী কিতাবসমূহের সর্বশেষ, নির্ভুল সংস্করনটিই বিশ...

১৬। সূরা আন নাহল (মৌমাছি)

ছবি
মানুষের সৃষ্টির সূচনা আল্লাহ নিখুঁতভাবে বর্ননা করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই তো জানেন কিভাবে এই সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি মানুশকে তার সৃষ্টি সম্পর্কে অন্ধকারে রাখেননি, বিভিন্ন আয়াতে বলে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি ‘নুতফাহ’(নগণ্য পরিমান তরল/শুক্রাণু) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটি পাওয়া যায় আল কুরআনের ১৬:৪ , ১৮:৩৭, ২২:৫, ২৩:১৩, ৩৫:১১, ৩৬:৭৭, ৪০:৬৭, ৫৩:৪৬, ৭৫:৩৭, ৮০:১৯ তে।   চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২ , ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)।  অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়।   রঙ শব্দের আরবি প্রতিশব্দ لون (লাওনুন)| বহুবচনে ألوان (আল ওয়ানুন) বা রংসমূহ। পবিত্র কুরআনে রঙ শব্দের বহুবচন ব্যবহৃত হয়েছে মোট সাত (৭) বার! (16:13, 16:69, 30:22, 35:27, 35:27, 35:28, 39:...