২। সূরা আল বাকারা (গাভি)
সূরার সারসংক্ষেপঃ সূরা বাকারাকে মোটা দাগে ৯ ভাগে ভাগ করা যায়। ১ম ভাগঃ ঈমান থাকা, না থাকা । (আয়াত ১-২০) ২য় ভাগঃ সৃষ্টি ও জ্ঞান। (আয়াত ২১-৩৯) ৩য় ভাগঃ বনী ইসরাঈল জাতির প্রতি প্রেরিত আইনকানুন। (আয়াত ৪০-১০৩) ৪র্থ ভাগঃ ইবরাহীম (আঃ) এর উপর পরীক্ষা ও তাঁর জাতি। (আয়াত ১০৪-১৪১) ৫ম ভাগঃ নামাজের দিক পরিবর্তন। (আয়াত ১৪২-১৫২) ৬ষ্ঠ ভাগঃ মুসলিম জাতির উপর পরীক্ষা। (আয়াত ১৫৩-১৭৭) ৭ম ভাগঃ মুসলিম জাতির প্রতি প্রেরিত আইনকানুন। (আয়াত ১৭৮-২৫৩) ৮ম ভাগঃ সৃষ্টি ও জ্ঞান। (আয়াত ২৫৪-২৮৪) ৯ম ভাগঃ ঈমান থাকা, না থাকা। (আয়াত ২৮৫-২৮৬)
একটু খেয়াল করলে দেখা যায় যে, ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ ভাগ এর প্রতিবিম্ব হলো ৯ম, ৮ম, ৭ম, ৬ষ্ঠ ভাগ। এ যেন এক বৃত্তাকার/প্রতিসম গঠন।
১ম ভাগঃ শুরুর দিকে আল্লাহ আল কুরআনকে হেদায়াত/সঠিক দিক নির্দেশনা হিসাবে মানব জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন (আয়াত ২)। এই হেদায়াতকে যারা গ্রহন করে তারা মুমিন; যারা হেদায়াতকে অস্বীকার করে বর্জন করে তারা কাফির এবং যারা অল্প কিছুটা হেদায়াত গ্রহন করে কিন্তু নিজেদের হীন স্বার্থে কাজে লাগায় তারা মুনাফিক।
সূরার শুরুর দিকে আল্লাহ ৩ প্রকার মানুষের বর্ননা দিয়েছেন। বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী ও মুনাফিক। ৩ আয়াতে (আয়াত ৩-৫) তিনি অল্প কথায় বিশ্বাসীদের বর্ননা দিয়েছেন। ২ আয়াতে (আয়াত ৬-৭) তিনি আরো অল্প কথায় অবিশ্বাসীদের বর্ননা দিয়েছেন। এরপর মুনাফিকদের পরিচয় দিতে তিনি ১৪ আয়াত (আয়াত ৮-২০) ব্যবহার করেছেন! যেহেতু মুনাফিকরা তাদের চিন্তাধারা গোপন রাখে, তাদের চিনতে কষ্ট হয় তাই আল্লাহ এভাবে বিশদ বর্ননা করে তাদের পরিচয় দিয়েছেন। আল্লাহ কত প্রজ্ঞাবান!! এরপর ২১ নং আয়াতে আল্লহ এই ৩ শ্রেনীর মানুষকে একসাথে ডেকে তাঁর নিজের পরিচয় দিয়েছেন।২য় ভাগঃ ১ম ভাগে বর্নিত ঈমান, কুফরী ও মুনাফেকি এই বিষয়গুলো আসলে আল্লাহর সৃষ্টির শুরুর দিক থেকেই ছিলো। এই ভাগে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কথা বলেছেন এবং মানব সৃষ্টির শুরুতে অন্য সব সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে মানুষ আদম (আঃ) এর সময়কার ঘটনা বর্ননা করেছেন এবং আল্লাহর নেয়া পরীক্ষায় তিনি যথাযথ ভাবে পাশ করতে না পারায় তাঁর পরিনতির (পৃথিবীতে নেমে আসার ও পরে আল্লাহর অনুগ্রহ পাওয়ার) কথা বর্নিত হয়েছে।
৩য় ভাগঃ ২য় ভাগে আল্লাহ যেমন অন্যান্য সৃষ্টির মধ্যে মানুষকে select/choose করে আদম (আঃ) এর মাধ্যমে দুনিয়ায় আল্লাহর খলিফা বানিয়েছেন তেমনি আস্তে আস্তে পৃথিবীতে অনেক মানুষ হওয়ার ফলে শুধু একজন মানুষ নয় একটা জাতিকে আল্লাহ select/choose/শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন যারা হলো বনী ইসরাঈল। যারা আল্লাহর guidance পেয়ে অন্য সব জাতিকে পথ দেখাতে পারে। এই বড় ভাগে তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ননা করেন এবং তা সত্ত্বেও যে তারা তাদের অনুগ্রহের প্রতি সুবিচার করতে পারে নাই তা বর্ননা করেন। আল্লাহ তাদের উপর বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়েছেন যাতে তারা বেশিরভাগই পাশ করতে পারে নাই এবং সেই ধারা অব্যাহত আছে। এই ভাগে আল্লাহ বেশ কিছু উপদেশ ও জ্ঞান দিয়েছেন।
৪র্থ ভাগঃ বনী ইসরাইলীরা ধারনা ও দাবী করতে থাকে যে তাদের উপর আল্লাহর যে অনুগ্রহ ছিলো তাঁর ধারাবাহিকতায় সব নবীই ইসরাঈলী হবে। আরব থেকে কেন নবী (মুহাম্মাদ (সঃ)) হবেন? এর জবাবে আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ) এর কথা তুলে ধরেন এবং ইবরাহীম (আঃ) কে পরীক্ষার কথা বলেন। ইবরাহীম (আঃ) সকল পরীক্ষায় পাশ করেন এবং তাকে মুসলিম জাতির পিতা হিসাবে বর্ননা করা হয়। এরপর ইবরাহীম (আঃ) এর ছেলে ইসমাঈল (আঃ) ও পৌত্র ইয়াকুব (আঃ) (ইসরাঈল) এর কথা বর্ননা করে আল্লাহ বোঝাতে চেয়েছেন যে দুই বংশেরই মূল পিতা ইবরাহীম (আঃ) এবং তারা সকলেই ছিলেন ‘মুসলিম’। সুতরাং আরবদের মধ্য হতে নবী আসতে পারবে না এই দাবি ভিত্তিহীন।
৫ম ভাগঃ ৪র্থ ভাগে বর্নিত ইবরাহিম (আঃ) এর দোয়ার জবাবে মুহাম্মাদ (সঃ) আরব জাতির মধ্য হতে নবী হয়ে আসেন। এবং ইবরাহীম (আঃ) এর তৈরি করা কাবার দিকেই কিবলা (এবং রাজধানী) নির্ধারন কর হয় এবং এর মাধ্যমে মধ্যমপন্থি জাতি হিসাবে এখানে মুসলিমদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আল্লাহ এই জাতির উপর তাঁর নিয়ামত পূর্ন করে দিয়েছেন (বনী ইসরাঈলদের চেয়েও শ্রেষ্ঠত্য দান করেছেন) বলে অন্য সকলকে বিভেদ ও অহংকার ভুলে এই কিবলা ও জাতিকে মেনে নেওয়ার আহবান জানানো হয়।
৬ষ্ঠ ভাগঃ ২য় ভাগে আদম (আঃ) এর উপর পরীক্ষা, ৩য় ভাগে বনী ইসরাঈল এর উপর পরীক্ষা, ৪র্থ ভাগে ইবরাহীম (আঃ) এর উপর পরীক্ষা বর্ননা করার পর এই ভাগে মূলত মুসলিম জাতির উপর পরীক্ষার বিষয়টি রয়েছে। উল্লেখ্য যে, আদম (আঃ) এর উপর পরীক্ষায় তিনি সফল হননি, বনী ইসরাঈল জাতির উপর পরীক্ষায় তারা বেশিরভাগ সময়েই সফল হয়নি, ইবরাহীম (আঃ) এর উপর পরীক্ষায় তিনি ১০০% সফল হয়েছেন, মুসলিম জাতির উপরও আল্লাহ পরীক্ষা নিচ্ছেন ও নিবেন, যেন তিনি দেখে নিতে পারেন তারা পাশ করে নাকি ফেল করে বা করতে থাকে যার উদাহরন তিনি আগে দিয়েছেন।
৭ম ভাগঃ ৬ষ্ঠ ভাগ এ আল্লাহ বলেছেন তিনি পরীক্ষা নিবেন, আর এই ৭ম ভাগে এসে তিনি বর্ননা করেছেন কি কি আইনকানুনের মাধ্যম তিনি পরীক্ষা নিবেন। এই আইনকানুন এর মধ্যে এই অংশে তিনি কেসাস, উত্তরাধিকার, রোযা, হজ্জ, ব্যয়, জিহাদ, মদ, জুয়া, বিবাহ, নারী ও পরিবার, তালাক, নামাজ ইত্যাদি সম্পর্কিত আইনকানুন বর্ননা করেছেন। ৫ম ভাগে মুসলিমদের রাজধানী দেওয়ার পর আলাদা জাতি হিসাবে সবীক্ররতি প্রদান করার পর আল্লাহ এই ভাগে সে সবাধীনতা দিবসের সাথে সাথে সবাধীনতার মাস; রমাদন দিয়েছেন।
৮ম ভাগঃ এই অংশে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কথা বলেন। এরপর মূলত এই অংশে ৭ম ভাগেরই Continuation করে পরীক্ষার অংশ হিসাবে অর্থ ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে। অর্থ কিভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে আয়, ব্যয় করা যায় (আল্লাহর পথে) এবং কোন আয়, ব্যয় সবচেয়ে খারাপ (সুদ) তা আল্লাহ এখানে বলে দিয়েছেন। অর্থলোভ এর বিষয়টিও এখানে উঠে এসেছে। ২য় ভাগে আদম (আঃ) কে যেমন শয়তান লোভ দেখিয়ে, কুমন্ত্রনা দিয়েছিলো তেমনি এখানে শয়তানের দেয়া কুমন্ত্রনা ও লোভের কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ আল্লাহ এখানে মানুষকে বেশ কিছু জ্ঞান দিয়েছেন। ৯ম ভাগঃ এই অংশ আসলে উপসংহার। এটি আগের সব ভাগের Summary হিসাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ১ম ভাগের ঈমান, ২য় ভাগের সৃষ্টি ও উপদেশ, ৩য় ভাগের পূর্ববর্তি জাতির কথা, ৪র্থ ভাগের নবীর কথা, ৫ম ভাগের মুসলিম জাতি (আমরা), ৬ষ্ঠ ভাগের পরীক্ষা, ৭ম ভাগের আইনকানুন, ৮ম ভাগের উপদেশ!। অসাধারনভাবে আল্লাহ শেষ করেছেন।
বিস্তারিত কিছু বিষয়ঃ আলিফ লাম মীম। এভাবে আলাদা আলাদা বর্ন কেউ বলে না যতক্ষন না কেউ পড়তে বা লিখতে শুরু করে। এই বর্নগুলো শুনে তখনকার মানুষ অবাক হয়ে ভাবতে থাকে, এই নিরক্ষর মুহাম্মাদ (স) কার কাছ থেকে, কি শিখছে? আগের সূরা আল ফাতিহায় আমাদের পথ প্রদর্শনের জন্য দোয়া করার কথা শিখিয়ে দিয়েছেন। এই সূরার শুরুর আয়াতেই আল্লাহ এমন কথা দিয়ে শুরু করেছেন যার জ্ঞান আমাদের নেই। এরপরে তিনি পথ প্রদর্শনের কথা বলেছেন। অর্থাৎ পথ পেতে হলে শুরুতেই নিজের জ্ঞানের স্বল্পতার বিষয়টি মেনে নিতে হবে। গর্ব করা যাবে না। এই বই থেকে জ্ঞান নিতে হলে মেনে নিতে হবে যে সব জ্ঞান আমার নেই। পথ তাঁর কাছেই চাইতে হবে। তবেই তিনি দিবেন।
২য় আয়াতে রয়েছেঃ 'যালিকাল কিতাব' অর্থাৎ ঐ কিতাব (বই)। আল কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় 'হাযাল কুরআন' অর্থাৎ এই কুরআন বলা হয়েছে। এর কারন কি?
কিতাব শব্দটি লেখার সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেহেতু মূল গ্রন্থটি লিখিত অবস্থায় লাওহে মাহফুয এ আছে যা দূরে অবস্থিত এজন্য এক্ষেত্রে ‘যালিকা’ (দূরবর্তীবাচক শব্দ) ব্যবহার করা হয়েছে।আয়াত ১৪ তে মুনাফিকদের দ্বিমুখীতার বিবরন আল্লাহ খুব নিখুঁতভাবে দিয়েছেন। মুমিনদের সামনে তাদের দূর্বল ঈমান আনার বিষয়টি অস্থায়ী ক্রিয়াবাচক শব্দ ‘আমান্না’ দিয়ে এবং শয়তানের কাছে অস্থায়ী বিশেষ্যবাচক শব্দ মজাকারী দিয়ে প্রকাশ করে আল্লাহ তাদের শয়তাদের দিকে ঝুঁকে থাকার বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন
এ আয়াতে বলা হয়েছে; আল কুরআন এমন একটা গ্রন্থ যেখানে কোন সন্দেহ নাই (আয়াত ২)। আল কুরআন শুধু একটি সন্দেহমুক্ত গ্রন্থই নয় বরং ঐ সূরায় একটু পরেই সম পর্যায়ের আরেকটি গ্রন্থ রচনা করে দেখানোর জন্য এটি সর্বকালের সকলের কাছে ওপেন চ্যালেঞ্জও দিয়ে রেখেছে!!! (আয়াত ২৩)
আরেকটি সুন্দর বিষয় হলোঃ সূরা বাকারায় আল কুরআনের মত ১ টি সূরা তৈরির চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। ২য় সূরা বাকারার আগে সূরা আছে ১ টি। আবার সূরা হুদে আল কুরআনের মত ১০ টি সূরা তৈরির চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। ১১ তম সূরা হুদের আগে সূরা আছে ১০ টি। কি সুন্দর সূরার পজিশনিং এবং সংখ্যাগত মিল!!! মাশা আল্লাহ।
৩য় আয়াতে আল্লাহ বলেছেনঃ রিযিক তিনি দিয়েছেন, আমরা নিজেরা অর্জন করতে পারি নাই। সবই আল্লাহর দেওয়া। রিযিক দেওয়ার ক্রিয়াটিতে (رَزَقْنَاهُمْ) তিনি অতীতকাল ব্যবহার করেছেন। তার মানে তিনি রিযিক দিবেন বা দিচ্ছেন এমন নয় বরং ইতোমধ্যেই রিযিক দিয়েছেন। সুতরাং রিযিক পেলে তারপর দিবো এমন বলার কোন অধিকার আমাদের নাই। রিযিক বলতে শুধু অর্থ-সম্পদ বা খাদ্য খাবার বোঝায় না। আল্লাহর দেয়া নেয়ামত বোঝায়। তা হতে পারে আমাদের মেধা, শক্তি, সময় বা অন্য কিছুও।
১৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন, তারা কালা, বোবা, অন্ধ; তারা আর ফিরে আসবে না। তারা (মূলত এখানে মুনাফিকদের কথা বলা হয়েছে) আল কুরআন, হেদায়াতের কথা শোনার পর তা বুঝেও আর শোনে না; যেন তারা কালা। আল কুরআন, হেদায়াতের কথা শুনে, বুঝেও অন্যের সামনে প্রকাশ করে না; যেন তারা বোবা। আল কুরআন, হেদায়াতের কথা শুনে, বুঝেও প্রকাশ না করার পরও তারা দেখতে পায় যে, এর প্রভাব সুস্পষ্ট দৃশ্যমান। চাক্ষুস প্রমান দেখার পরও চোখ বন্ধ রাখে; যেন তারা অন্ধ। কি সুন্দর সিকুয়েন্স !!!এই (২১ নং) আয়াতেই আল্লাহ সর্বপ্রথম সকল মানুষকে সম্বোধন করে কথা বলেছেন। তাই এই কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ন। মানুষকে ইবাদাত করতে হবে এবং কি কারনে ইবাদাত করতে হবে তার একটা সার সংক্ষেপ এই আয়াতে বলা হয়েছে।
আল্লাহ আল কুরআন এ বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন যেন তোমরা হতে পারো (লাআল্লাকুম)। এটা বলার মাধ্যমে তিনি মানুষের কাঙ্খিত মূল গুণাবলীগুলোর পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেছেন যেন তোমরা মুত্তাকী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২১, ১৮৩), কৃতজ্ঞ (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ৫২, ১৬ তম সূরা নাহল, আয়াত ৭৮), সঠিক পথপ্রাপ্ত (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ৫৩, ৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩), চিন্তা ভাবনাকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২১৯, ২৬৬), বিচক্ষণ (১২ সূরা ইউসুফ, আয়াত ২, ৪৩ তম সূরা জুখরুফ, আয়াত ৩), সফল (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩০, ২২ তম সূরা হজ্জ, আয়াত ৭৭), উপদেশ গ্রহণকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২২১, ১৬ তম সূরা নাহল, আয়াত ৯০), দয়া ও রহমতপ্রাপ্ত (৬ষ্ঠ সূরা আনআম, আয়াত ১৫৫, ২৪ তম সূরা নুর, আয়াত ৫৬),
আমাদের সেগুলো অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।মানুষকে ইবাদাত করতে বলা হয়েছে তার রবের। রব হলেন সেই মালিক যিনি পরিপূর্ন কর্তৃত্বশীল থেকে অস্তিত্ব রক্ষা করে লালন-পালন করে বৃদ্ধি নিশ্চিত করা সহ পূর্ণতায় পৌঁছান এবং পুরষ্কার দেন। তাই ইবাদাত হলো তার হক। যেহেতু আল্লাহই আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাই অন্য কেউ বা কোন বস্তু নয় বরং ইবাদাত পাওয়ার একমাত্র হকদার হলেন তিনিই। স্রষ্টাই সবচাইতে ভালো জানেন যে, সৃষ্টি কিভাবে চললে তার মঙ্গল হয়। তাকওয়া হলো আল্লাহভীতি এর মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নেয়া ও সুরক্ষিত রাখা। নিজের কল্যান ও সফলতা অর্জনের জন্যই আসলে আল্লাহর ইবাদাত করা একান্ত জরুরী।
মূর্তি বানানো ও মূর্তিপূজক অবিশ্বাসীরা ও তাদের বানানো মূর্তি, পাথর, মাবুদ সবাই একসাথে জাহান্নামের আযাব ভোগ করতে থাকবে। মূর্তি, পাথর ও মানুষ আগুনে পুড়ে একে অপরকে বেশি জ্বলতে সাহায্য করবে। (দেখুন আল কুরআন ২:২৪, ২১:৯৮)। তাই হে মানুষ, আর মূর্তি বানিয়ো না, তার পূজা করো না, শিরক করো না।আয়াত ২৬ এ মশার উদাহরন দেয়া হয়েছে। আসুন দেখি মশার কিছু অনাক করা তথ্য। সব মশা কিন্তু মানুষের রক্ত চোষে না। পুরুষ মশারা বেশ নিরীহ প্রকৃতির হয়, তারা মূলত গাছের রস বা ফুলের মধু খেয়ে বেঁচে থাকে। কেবল স্ত্রী মশারাই মানুষকে কামড়ায় এবং রক্ত পান করে। ডিমের পুষ্টিসাধন এবং তা ফুটিয়ে বাচ্চা জন্ম দেওয়ার জন্য তাদের রক্তের প্রোটিন ও আয়রনের প্রয়োজন হয়।
মশার হুলের ভেতরে ৬টি আলাদা সুইয়ের মতো সূক্ষ্ম নল থাকে। ৪টি সুই চামড়া কাটতে এবং ভেতরে সুড়ঙ্গ তৈরি করতে সাহায্য করে। ১টি সুই মানুষের শরীরে লালা প্রবেশ করায়, যাতে রক্ত জমাট না বাঁধে (এই লালার কারণেই কামড়ানোর পর চামড়া চুলকায়)। ১টি সুই দিয়ে তারা রক্ত শুষে নিজের শরীরে নিয়ে নেয়। এদের হুল বা ডঙ্কের (Proboscis) শেষ প্রান্তে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র করাতের মতো ৪৭টি ধারালো দাঁতের মতো অংশ (Denticles) থাকে। এই সূক্ষ্ম দাঁতগুলোর সাহায্যেই তারা মানুষের চামড়া সহজে কেটে ভেতরে হুল ফুটিয়ে দিতে পারে। নিজের শরীরের ওজনের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বেশি রক্ত চুষে নিতে পারে।
মশারা মানুষের নিঃশ্বাসের সাথে বের হওয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস প্রায় ৭৫ ফুট দূর থেকেই সনাক্ত করতে পারে। এছাড়া মানুষের শরীরের তাপমাত্রা, ঘামে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড এর প্রতি স্ত্রী মশার আকর্ষণ থাকে।
বাঘ, সিংহ বা হাঙর নয় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী বা বিপজ্জনক জীব হলো মশা। মশার কামড়ে ছড়ানো ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, এবং ইয়েলো ফিভারের মতো রোগের কারণে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৭ থেকে ১০ লাখ মানুষ মারা যায়।
২৬ নং আয়াতের ১ম দিকে আল্লাহ বলেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা বা তার চেয়েও ছোট/ তার উপরের কিছুর উদাহরন দিতে লজ্জাবোধ করেন না”। 'ফাওকহা' শব্দ দ্বারা কোন কিছুর চেয়ে ছোট বুঝায় আবার কোন কিছুর উপরের কিছুও বোঝায়। সুতরাং organism/ parasite/ পরজীবি ছোট হোক বা মশার উপরে হোক ঐ ফাওকহা শব্দ দ্বারা ১ টি, ২ টি বা উভয় বৈশিষ্ট্য ই বোঝায়।
মাইক্রোস্কোপ দিয়ে মডার্ন সাইন্স মশার উপরেও ছোট যা দেখতে পেয়েছে, তাঁর কথা বহু আগেই সর্বকালের মডার্ন বই আল কুরআনে লিখে দিয়েছেন মহা বিজ্ঞানী আল্লাহ।
৩৪ নং আয়াতে ফেরেশতারা আদমকে সিজদা করে তা বর্ননা করা হয়েছে।
কিন্তু ইবলিশ শয়তান শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে মেতে ওঠে এবং নাফরমানদের অন্তরভুক্ত হয়
বনী ইসরাঈলদের কথা আল কুরআনে কেন বার বার বর্নিত হয়েছে?
# মূসা (আঃ) উম্মাতের সাথে উম্মাতে মুহাম্মাদ (সঃ) এর বহু মিল রয়েছে। মূসা (আঃ) এর কথা আল কুরআনে সবচেয়ে বেশি এসেছে কারন মূসা (আঃ) এর উপর আসা অনেক নির্দেশনাই মুহাম্মাদ (সঃ) এর উপরও এসেছে। এজন্য তাদের সূক্ষভাবে পর্যবেক্ষন করা হয়েছে।
# বনী ইসরাঈলদের নেয়ামতঃ নবী মূসা (আঃ), তাওরাত ও অন্যান্য। তারা নবী ও কিতাবের মর্যাদা রক্ষা করতে পারে নাই। আমরা পেয়েছি মুহাম্মাদ (সঃ), আল কুরআন ও অন্যন্য নিয়ামত। তাদের করা ভুল যেন আমরা না করি এজন্য আল্লাহ বার বার তাদের কথা বর্ননা করেছেন। এজন্য সূরা আল বাকারা, আয়াত ৪০ এর মত অনেক আয়াতেই আল্লাহ বনী ইসরাঈলদের কথা বলেছেন এবং তার মাধ্যমে আমাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন।
২য় সূরা আল বাকারা, আয়াত ৫৭; এ এসেছে পবিত্র আসমানি খাবার যা নাযিল হয়েছিল বনী ইসরাঈলদের জন্য। নাম মান্না ও সালওয়া। মান্না এক প্রকার খাবার যা উদ্ভিদের উপর নাযিল হতো। আর সালওয়া এক প্রকার পাখী যা সহজে ধরা যেত। এর দ্বারা আল্লাহর দেয়া খাদ্য নেয়ামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা ছিল সহজলভ্য, উপকারি।
৩ ধরনের হৃদয়ের মানুষঃ ৭৪ নং আয়াতে আল্লাহ ৩ ধরনের পাথরের উদাহরন দিয়ে সুন্দরভাবে ৩ ধরনের হৃদয়ের মানুষের কথা বর্ননা করেছেন। এখানে পানি দ্বারা ঈমান বা আল্লাহর হেদায়াত বোঝানো হয়েছে। ১ম ধরনের পাথর, যার মধ্য দিয়ে ঝরণাধারা প্রবাহিত হয় প্রকৃতিগত ভাবেই; অর্থাৎ হৃদয় প্রকৃতিগত ভাবেই ঈমান গ্রহন করে (যেমন হযরত আবু বকর (র))। ২য় ধরনের পাথর হতে পানি বের হতে আঘাত/চেষ্টা লাগে; অর্থাৎ ঈমান প্রবেশ করতে চেষ্টা/মাধ্যম লাগে (যেমন হযরত ঊমার (র))। ৩য় ধরনের পাথর যার মধ্য পানি নেই অর্থাৎ ইসলামে প্রবেশ করলেও হৃদয়ে প্রকৃত ঈমান নেই (যেমন কুরআনের সূরা হুজুরাতে বর্নিত আরব বেদুঈন)।
বনী ইসরাইল জাতির একটি ভ্রান্ত ধারনা ছিল যে তারা স্পেশাল, chosen জাতি। তারা খারাপ না, খারাপ কাজ করলেও তাদেরকে আল্লাহ জাহান্নামে দিবেন না। যদি একান্ত দেনই তাহলে খুবই অল্প সময়ের জন্য বা অল্প দিনের জন্য।
৩য় সূরা আলে ইমরান আয়াত ২৪ এ বলা হয়েছে اَيَّامًا مَّعۡدُوۡدٰتٍ বা অল্প কিছু সময়। সূরা আলে ইমরানে উল্লেখিত বনী ইসরাইলগন কম অপরাধের সাথে জড়িত। তাই তারা জাহান্নামে অল্প সময় কাটানোর চিন্তায় উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে ২য় সূরা বাকারা আয়াত ৮০ তে প্রায় একই রকম শব্দ কিন্তু একটু আলাদা করে বলা হয়েছে اَيَّامًا مَّعۡدُوۡدَةً মাত্র কয়েকদিন। সূরা বাকারায় উল্লেখিত বনী ইসরাইলগন বেশি অপরাধের সাথে জড়িত। তাই তারা জাহান্নামে কিছুটা বেশি সময় কাটানোর চিন্তায় উদ্বিগ্ন।
মা বাবার সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ইহসান’ শব্দটি ব্যবহার করে হয়েছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই তবে একটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে ‘হুসন’ শব্দটি। আরবীতে শব্দের ক্ষেত্রে একই ধরনের শব্দে বর্ণ সংখ্যা বেশি হলে তার অর্থতেও সেই প্রভাব পড়ে, বেশি বর্ণ মানে বেশি প্রকট অর্থ বুঝায়। স্বাভাবিকভাবে ২:৮৩, ৪:৩৬, ৬:১৫১, ১৭:২৩, ৪৬:১৫ আয়াতগুলোতে নেককার মা বাবা হওয়ায় তাদের প্রতি ইহসান বা সর্বোচ্চ সুন্দর ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ। অন্যদিকে ২৯:৮৮ আয়াতে সর্বোচ্চ সুন্দর ব্যবহারের চেয়ে কম মাত্রার অর্থবহ ‘হুসন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে সেই সকল মা বাবার প্রতি যারা শিরক করার জন্য চাপ দেয়। আল্লাহর শব্দ ব্যবহার কত যুক্তিপূর্ণ ও নিখুঁত!
কিছু মানুষ একটি বিষয়ে খুব যত্নবান কিন্তু অন্য বিষয়ে খুবই উদাসীন। যেমন কেউ খাবার হালাল কিনা সে বিষয়ে খুব সচেতন কিন্তু তাঁর উপার্জনই হালাল নয়। আবার কেউ হয়তো নামাজের বিষয়ে খুব যত্নবান কিন্তু পরিবার বা মানুষের সাথে ব্যবহার খুবই খারাপ।
এমন কথাই বলেছেন আল্লাহ: “তাহলে কি তোমরা কিতাবের একটি অংশের ওপর ঈমান আনছো এবং অন্য অংশের সাথে কুফরী করছো”? - সূরা আল বাকারা, আয়াত ৮৫ (আংশিক)
তাদের এই নীতির কারনটি আল্লাহ পরের আয়াতে (৮৬ নং) সুন্দরভাবে বলে দিয়েছেন। যারা কিতাবের একটি অংশের ওপর ঈমান আনে এবং অন্য অংশের সাথে কুফরী করে তারাই মূলত অতি মূল্যবান আখিরাতকে বিক্রি করে দেয় নগন্য দুনিয়ার বিনিময়ে। তারা নিজেদের নফসের ধোঁকায় পড়ে আল্লাহর নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে নিজের কাছে যেটা ভাল মনে হয় সেটা গ্রহন করে।
আমাদের মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) যখন সব পরীক্ষায় পাস করলেন তখন আল্লাহ খুশি হয়ে তাঁকে আমাদের নেতা বানিয়ে দিলেন। কি সুন্দর করে আল্লাহ তা বলেছেন ২য় সূরা আল বাকারার ১২৪ নং আয়াতে। যখনই কোন পরীক্ষা এসেছে , তিনি বিভিন্ন যুক্তি দেখাননি, বিনা বাক্য ব্যয়ে আল্লাহর নির্দেশ মেনে নিয়েছেন। নিজে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার পরীক্ষায়, পরিবারকে জনমানবহীন মরুভূমিতে রেখে আসার পরীক্ষায়, নিজের সন্তানকে কুরবানী করার পরীক্ষায় তিনি পাশ করেছেন।
যখন তাঁর রব তাঁকে (ইবরাহীম (আঃ) কে) বললেন, অনুগত হও; তখনই তিনি বলে উঠলেন, আমি বিশ্ব জাহানের প্রভুর অনুগত হয়ে গেলাম। (আয়াত ১৩১)।
যখন আমাদের রব আমাদের প্রতি বলেনঃ অনুগত হও, মেনে নাও; তখন অযুহাত ও যুক্তি দেওয়া যাবে না বরং ইবরাহীম (আঃ) এর মত আল্লাহর প্রজ্ঞার উপর ভরসা করে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিয়ে আল্লাহর অনুগত হতে হবে।
কিবলা পরিবর্তনঃ মক্কায় থাকা অবস্থায় কাবা ও মসজিদুল আকসা একই দিক বরাবর ছিলো। মুহাম্মাদ (স) মদীনায় গেলে ২ মসজিদ ২ দিকে হয়ে যায়। এরপর আল্লাহ ক্বিবলা পরিবর্তন করে দেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ মদীনায় বাস করা ইহুহী জাতি হতে মুসলিম জাতির স্বাতন্ত্র ভালোভাবে প্রকাশ করে দেন। এ বিষয়টি আছে সূরার মাঝখানে। আয়াত ১৪২-১৫২ এর মধ্যে।
সূরা আল বাকারার একটি আয়াতের অংশঃ "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি ‘মধ্যপন্থী’ উম্মাতে পরিণত করেছি, যাতে তোমরা দুনিয়াবাসীদের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রসূল হতে পারেন তোমাদের ওপর সাক্ষী।......"
বনী ইসরাঈল মনে করতো তারা খুব সম্মানিত, নির্বাচিত। মর্যাদার সাথে রয়েছে দায়িত্ব; কিন্তু বনী ইসরাঈল শুধু মর্যাদা নিয়েই গর্ব করেছে, দায়িত্ব নেয়নি। এজন্য আল্লাহ বনী ইসরাঈল জাতির শ্রেষ্ঠত্বকে হটিয়ে মুসলমানদের ‘মধ্যপন্থী উম্মাহ’র মর্যাদা দিয়েছেন ।
এরই সাথে দুনিয়াবাসীদের ও রসূল (স) এর মধ্যকার সাক্ষী হওয়ার দায়িত্বও দিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহর দেয়া বানী মুহাম্মাদ (স) এর দেখানো পথে অন্য সকল মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য মুসলমান জাতিকে মাঝের মাধ্যম হিসাবে রাখা হয়েছে; অর্থাৎ ‘মধ্যপন্থী উম্মাহ’ তে পরিনত করা হয়েছে।
সূরা আল বাকারার মোট আয়াত ২৮৬। 'মধ্য' কথাটি কোন আয়াতে থাকলে পারফেক্ট হয়? ১৪৩ নম্বর আয়াতে। হ্যা, উপরের ঐ আয়াতটি ১৪৩ নম্বর আয়াতই!!!
সুবহানাল্লহ... কুরআন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সূরার বিভিন্ন আয়াত অবতীর্ন হওয়ার মাধ্যমে পূর্নাঙ্গতা লাভ করে যার পুরাটাই আল্লাহ নির্দেশিত। তিনিই ঐ আয়াতটিকে ঐ স্থানে নির্ধারিত করেছেন। নতুন রাজধানী (কাবা) দেওয়ার পর এভাবে আল্লাহ নতুন জাতি হিসাবে মুসলিমদের মর্যাদা দান করলেন।
বনী ইসরঈলরা জানতো যে একজন নবী আসবেন। মুহাম্মাদ (স) আসার পর তাঁকে দেখে তারা চিনতে পারে এবং নিশ্চিত হয়ে যায় যে তিনিই সেই প্রতিশ্রুত নবী কিন্তু তবুও তাদের একটি দল সেই সত্য গোপন করে
তারা কিতাবের অনেক কিছুই বদলে ফেলেছিলো। মুহাম্মাদ (স) কে না মেনে এ বিষয়টিও তারা বদলাতে চেয়েছিলো।
২য় সূরা আল বাকারা, আয়াত ১৪৭ তে কিবলা পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে ইহুদিদের পক্ষ থেকে আসা ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক আক্রমন এর কারনে সৃষ্ট সন্দেহ এর কথা আলোচনা করা হয়েছে যা বেশি তীব্র সন্দেহ এজন্য বাক্যের শব্দে নুন ن বেশি।
অন্যদিকে ৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৬০ তে আদম ও ঈসা (আ) সংক্রান্ত বিষয়ে খ্রিষ্টানদের পক্ষ থেকে আসা ইমোশনাল বা আবেগময় আক্রমন এর কারনে সৃষ্ট সন্দেহ এর কথা আলোচনা করা হয়েছে যা কম তীব্র সন্দেহ এজন্য বাক্যের শব্দে নুন ن কম। কি দারুন আল্লাহর প্রকাশভঙ্গি, বাস্তবতার সাথে মিল রেখে শব্দচয়ন।
আল্লাহ আমাদের জন্য বেশিরভাগ খাওয়ার বস্তু বা পানীয়ই পাক পবিত্র করেছেন। শুধুমাত্র অল্প কয়েকটি খাদ্য ও পানীয় হারাম করা হয়েছে। এর দ্বারা আল্লাহ অনেক মেহেরবানীর পরিচয় দিয়েছেন। কিছু মানুষ আল্লাহর দেয়া অসংখ্য হালাল খাদ্য ও পানীয় এর নিয়ামতকে গ্রহন করেও অল্প কিছু হারাম থেকে দূরে থাকতে পারে না; বরং অনেক হালালকে পিছনে ফেলে হারাম গ্রহন করে অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেয়।
কিছু মানুষ আছে যারা নৈতিকতায় খুব ভালো কিন্তু ধর্মীয় কাজে উদাসীন। আবার কিছু মানুষ আছে ধর্মীয় অনুশাসন পালনে খুব ভালো কিন্তু নৈতিকতায় উদাসীন। এমন না হয়ে ২ ধরনের ভালো কাজই করার জন্য বলছেন আল্লাহ।
সূরা বাকারার কয়েকটি আয়াতে রব্বানা শব্দটি এসেছে, যেমনঃ ১২৭, ১২৮, ২০১। ‘রব্বি’ ও ‘রব্বানা’ শব্দটি মূলত দুটি করে শব্দ। ‘ইয়া রব্বি’ ও ‘ইয়া রব্বানা’। কিন্তু ‘ইয়া’ বা ‘হে’ শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে বিলুপ্ত করে ব্যবহার করা হয়। আল্লাহ আমাদের খুবই কাছের, আপন বিধায় দূরবর্তি সংক্রান্ত শব্দ ‘হে’ বাদ দিয়ে শুধু রব্বি বা রব্বানা বলা হয়। সুবহানাল্লহ!
হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর ২ বারের ২ দোয়াঃ
১। “হে আমার রব! এই স্থানকে নিরাপত্তার শহর পরিণত করো”। Ya Rabb, Make this a peaceful city (সূরা আল বাকারা আয়াত ১২৬)
২। “হে আমার রব! এ শহরকে নিরাপত্তার শহরে পরিণত করো” Ya Rabb, Make this city peaceful. (সূরা ইবরাহীম আয়াত ৩৫)
প্রথমে যখন তিনি গিয়েছিলেন তখন সেখানে কোন জনবসতি ছিলো না মরুভুমি ছিলো। তখন তিনি দোয়া করেছেন (সূরা বাকারায়) ঐ স্থানকে নিরাপত্তার শহরে পরিণত করার জন্য। পরের বার যখন তিনি দোয়া করেছেন তখন ইতিমধ্যে ওখানে জনবসতি গড়ে উঠছে তাই তাঁর দোয়াও (সূরা ইবরাহীমে) পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তিনি তখন ঐ বিদ্যমান শহরকে নিরাপত্তা দানের জন্য দোয়া করেছেন। দোয়ার শব্দে সামান্য পার্থক্য থাকলেও অর্থ আলাদা। কত নিখুত তাঁর দোয়া!!! আল্লাহু আকবার!!! প্রথমে যখন তিনি গিয়েছিলেন তখন সেখানে কোন জনবসতি ছিলো না, মরুভুমি ছিলো। তখন তিনি দোয়া করেছেন (সূরা বাকারায়) ঐ স্থানকে নিরাপত্তার শহরে পরিণত করার জন্য। পরের বার যখন তিনি দোয়া করেছেন তখন ইতিমধ্যে ওখানে জনবসতি গড়ে উঠছে; তাই তাঁর দোয়াও (সূরা ইবরাহীমে) পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তিনি তখন ঐ স্থানকে আর শুধু স্থান বলেননি বরং বিদ্যমান শহর হিসাবে বর্ননা করে ঐ শহরকে নিরাপত্তা দানের জন্য দোয়া করেছেন। দোয়ার শব্দে সামান্য পার্থক্য থাকলেও অর্থ আলাদা। কত নিখুত তাঁর দোয়া!!! আল্লাহু আকবার!!!
আল্লাহ আল কুরআন এ বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন যেন তোমরা হতে পারো (লাআল্লাকুম)। এটা বলার মাধ্যমে তিনি মানুষের কাঙ্খিত মূল গুণাবলীগুলোর পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যেন তোমরা মুত্তাকী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২১, ১৮৩), কৃতজ্ঞ (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ৫২, ১৬ তম সূরা নাহল, আয়াত ৭৮), সঠিক পথপ্রাপ্ত (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ৫৩, ৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩), চিন্তা ভাবনাকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২১৯, ২৬৬), বিচক্ষণ (১২ সূরা ইউসুফ, আয়াত ২, ৪৩ তম সূরা জুখরুফ, আয়াত ৩), সফল (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩০, ২২ তম সূরা হজ্জ, আয়াত ৭৭), উপদেশ গ্রহণকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২২১, ১৬ তম সূরা নাহল, আয়াত ৯০), দয়া ও রহমতপ্রাপ্ত (৬ষ্ঠ সূরা আনআম, আয়াত ১৫৫, ২৪ তম সূরা নুর, আয়াত ৫৬),
সূরা আল বাকারার ১৮৩ নং আয়াতে মুহাম্মাদ (স) এর আগের নবীদের আমলের রোযার কথা যখন একমাস রোযা ফরয ছিল না। এজন্য ১৮৪ নং আয়াতে ‘আইয়ামাম মা’দুদাত’ বলা হয়েছে যা দশ দিনের কম দিন বোঝায়।
১৮৫ নং আয়াতে আল কুরআন অবতরনের কথা এসেছে।এই আয়াতে ‘আইয়ামাম মা’দুদাত’ (অল্প কয়েকদিন) এর বদলে বেশি হয়ে ‘শাহরুন’ (মাস) এ পরিবর্তিত হয়ে গেল অর্থাৎ আল্লাহ এক মাস রোযা ফরয করে দিলেন।
আয়াত ১৮৪ তে আল্লাহ আগের নবীদের উম্মতদের রোযা ভাঙার ফিদিয়ায় ২ টি অপশন রেখেছেন। অপশন ১: রোযা রাখা ও অপশন ২: মিসকিনের খাবার দান। এরপর ১৮৫ আয়াতে মুহাম্মাদ (স) এর উম্মতদের প্রতি ১ মাস রোযা ফরয করে দিয়ে রোযা ভাঙার ফিদিয়ায় ২ টি অপশন এর জায়গায় একটি কমিয়ে মাত্র ১ টিই অপশন রেখেছেন।
পূর্ববর্তি উম্মতদের উপরও রোযা ফরয ছিলো কিন্তু যেহেতু নবী মুহাম্মাদ (সঃ) এর পর আর নবী আসবেন না তাই আমাদের উপর দায়িত্ব বেশি; এজন্য ট্রেনিং এর মেয়াদ ও গুরুত্বও বেশি। রমাদনের কঠিন ট্রেনিং শেষে মানুষের অবস্থা এমন হওয়া উচিৎ যে, সে তাকওয়া (সুরক্ষা ব্যবস্থা) অর্জন করে ফেলে ও অন্যান্য সময়ের তুলনামূলক কঠিন বাস্তব পরিবেশ/পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে পারে।
রোযা ঢাল স্বরূপ (আল হাদীস)। এর দ্বারা আক্রমন হতে রক্ষা পাওয়া যায়। রোযা তাকওয়া অর্জনে সহায়তা করে যা শয়তান ও অন্যান্য শত্রু হতে নিরাপদ রাখে।
এই তাকওয়া কিভাবে রোযার মাধ্যমে অর্জিত হবে তা বোঝার সহয়তার জন্য শরীর ও মন এর কিছু সম্পর্কও বোঝা দরকার। দেহ চায় রোযার সময়েও খাবার খেতে ও পান করতে কিন্তু হৃদয় এ থাকে তাকওয়া (আল্লাহর ভয়), যা দেহকে তা থেকে বাঁধা দেয়। দেহ ও হৃদয় এর মধ্যে কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ চলতে থাকে। হৃদয়ে ‘তাকওয়া’ থাকার কারনে তা দেহকে কন্ট্রোল করে ও ইফতার পর্যন্ত দেহকে বিরত রাখে। এভাবে সারা বছর দেহকে কন্ট্রোলে রাখার ট্রেনিং দেয় রোযা।দেহ প্রলুব্ধ হতে চায় কিন্তু রোযাদার এর হৃদয়ে তাকওয়া (আল্লাহর ভয়) থাকায় তা দেহকে বিরত রাখে। হৃদয়ে ‘তাকওয়া’ থাকার কারনে তা চোখসহ পুরা দেহকে বিরত রাখে। এভাবে দেহকে ও আবেগকে কন্ট্রোলে রাখার ট্রেনিং দেয় রোযা।
এই রমাদন মাসে আল কুরআন নাযিল করা হয়েছে যা হলো রুহের খাদ্য। এই দেহ পৃথিবীতেই তৈরি তাই পৃথিবীর খাদ্য খেয়েই তা বড় হয়। রুহ আল্লাহ উপর থেকে দান (নাযিল) করেন। আর আল কুরআন ও উপর থেকে নাযিল হয়েছে। তাই পৃথিবীর কিছু এই রুহের চাহিদা মেটাতে পারে না। রুহের খাদ্য হলো আল্লাহর বানী (আল কুরআন)। এজন্য রমাদন মাসে দেহকে না খাইয়ে রেখে রুহকে বেশি বেশি খাদ্য (আল কুরআন) যোগান দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ দেহের উপর রুহের কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠা করার ট্রেনিং দেন।রোযা থাকা অবস্থায় হালাল চাহিদাকেও কন্ট্রোল করা হয় তাই হারাম চাহিদাকে কন্ট্রোল না করার প্রশ্নই আসে না। এই সময়ে রুহ শক্তিশালী থাকে বলে না খাওয়া ও জৈবিক চাহিদা পূরন করতে না পারা দূর্বল দেহকে কন্ট্রোল করে। আল্লাহ এটাই চান। দেহ তার খাদ্য বঞ্চিত থাকুক আর রুহ তার খাদ্য পাক। রুহের খাদ্য হলো আল কুরআন। তাই রমাদনে না খেয়ে আল কুরআন পড়ে রুহকে শক্তিশালী করার ট্রেনিং দেওয়া হয়। ১৮৫ নং আয়াতে রমাদন মাসে নাযিলকৃত আল কুরআনকে মানবজাতির জন্য guidance (পথ প্রদর্শক) বলা হয়েছে।
হেদায়াত এর আলো আল্লাহ যে শুধু অতি উত্তম সৎকর্মশীলদের জন্য (৩১ তম সূরা লুকমান, আয়াত ২,৩) তা নয়, বরং সাধারন মুমিন, মুত্তাকী পর্যন্ত বিস্তৃত (১০ তম সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৭ ২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২)। শুধু তাই নয়, আসলে এই হেদায়াত সকল মানুষের উপরই আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন। (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৬)
মুহাম্মাদ (স) এর কাছে আল কুরআন নাযিল হওয়ার আগে বনী ইসরাঈল বংশে অনেক নবী ও ওহী/কিতাব এসেছিল। একসময় তারা মনে করতে থাকে যে নবী ও ওহী তাদেরই পাওনা, তাদেরই একান্ত নিজেদের সম্পত্তি। কিন্তু আল কুরআন এসে সে ভুল ভেঙ্গে দেয়। এখানে হুদাল্লী আরব বা হুদাল্লী বনী ইসমাঈল বলা হয়নি; এখানে হুদাল্লী বনী ইসরাঈল বা হুদাল্লী বনী ইবরাহীম বলা হয়নি। বলা হয়েছে “হুদাল্লীন নাস”। অর্থাৎ সমগ্র মানবজাতির জন্য। আল কুরআন বনী ইসরাঈল বংশে নাযিল না হয়ে বনী ইসমাঈলের মুহাম্মাদ (স) এর উপর নাযিল হলেও তা শুধু বনী ইসমাঈলের জন্য নয় বরং তা নাযিল হয় সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়াত হিসাবে।
আল কুরআন নাযিল হয়েছে এই রমাদন মাসে যা সব ধর্মের মানুষের জন্যই পথ প্রদর্শক। এই সময়ে শয়তানও শৃংখলাবদ্ধ থাকে তাই অন্য ধর্মের মানুষেরাও ইসলাম সম্পর্কে কম আক্রমনাত্মক থাকে, তাদের মন নরম থাকে, মনে কম ঘৃনার উদ্রেক হয়। তাই রমাদন মাসই সকল ধর্মের মানুষের প্রতি ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। মুহাম্মাদ (সঃ) সকল ধর্মের মানুষের জন্যই এসেছেন; সকল ধর্মের মানুষের পথ প্রদর্শক আল কুরআন নিয়ে। তিনি আল কুরআন এর সৌন্দর্য্য দিয়েই তিনি মানুষকে ইসলাম গ্রহন করতে সাহায্য করেছেন। তাই আসুন, মুহাম্মাদ (সঃ) এর উম্মত হিসাবে এবং অন্য মানুষের শুভাকাঙ্খি হিসাবে রমাদন মাসে আমাদের প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধি করি, মানুষকে ইসলামের আলো পেতে সহায়তা করি।এই আয়াতে হেদায়াতের মধ্যে হয়েছে দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত নিদর্শন (মোজেজা) অংশটি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। আল্লাহ তা’আলা অনেক নবীকেই মোজেজা (বিস্ময়কর নিদর্শন) দান করেছেন। ঐসব নবীরা যখন বেঁচে ছিলেন তখন তাদের আশেপাশের মানুষেরা সেই মোজেজা দেখেছে এবং তা দেখে অবাক হয়ে তা মোজেজা হিসাবে মেনে নিয়েছে। কিন্তু নবীরা মারা যাবার পর নবীদের সাথে সাথে মোজেজাও চলে গেছে তাই তখন মানুষেরা তা কাহিনী বা গল্প হিসাবে মেনে নিয়েছে।
অন্যান্য নবীদের মোজেজা আশেপাশের মানুষেরা দেখেছে কিন্তু তারা যখন তা বলেছে এবং অন্যরা শুনেছে তখন শ্রোতাদের নিকট তা আর মোজেজা থাকেনি। এর কারন তা মানুষ কেউ চাইলে বিশ্বাস করেছে কেউ চাইলে বিশ্বাস করেনি। অর্থাৎ আগের নবীদের মোজেজা ছিলো চোখে দেখার মোজেজা। কিন্তু মুহাম্মাদ (সঃ) এর মোজেজা হলো জীবন্ত মোজেজা, কানে শোনার মোজেজা; যা আজীবন অপরিবর্তিত থাকবে। এই মোজেজা আল কুরআন যেমন চোখের সামনেই দেখার মোজেজা হিসাবে আছে তেমনি এটি শোনার মোজেজাও বটে কারন মানুষ শোনার পর তা নিজেই দেখে মিলিয়ে নিতে পারছে।অর্থাৎ অন্যান্য রসূলদের কিতাব বা হেদায়াত এবং মোজেজা আলাদা ছিল। কিন্তু মুহাম্মাদ (স) এর মোজেজা তাঁর কিতাব এর মধ্যেই নিহিত। এজন্য বলা হয়েছে বাইয়িনাতিম (মোজেজা) মিনাল হুদা (কিতাব)
মক্কায় থাকা অবস্থায় কাবা ও মসজিদুল আকসা একই দিক বরাবর ছিলো। মুহাম্মাদ (স) মদীনায় গেলে ২ মসজিদ ২ দিকে হয়ে যায়। এরপর আল্লাহ ক্বিবলা পরিবর্তন করে দেন (আয়াত ১৪২); মক্কা হয় নতুন রাজধানী। নতুন রাজধানী হওয়ায় সবাই বুঝতে পারে এই জাতি ও উম্মাত একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ন নতুন জাতি/উম্মাত; যাকে আল্লাহ মধ্যমপন্থী জাতি বলেছেন (সূরা আল বাকারা আয়াত ১৪৩)। নতুন জাতি এর জন্য দরকার নতুন স্বাধীনতা দিবস (লাইলাতুল কদর) /মাস (রমাদন) যেটির কথা আল্লাহ কিছুক্ষন পরেই বলেছেন (সূরা আল বাকারা আয়াত ১৮৫) এবং এর পরেই যেটা অতি দরকারী হয়ে পড়ে তা হলো নতুন সংবিধান। আর সেই সংবিধানের কথা আল্লাহ বলেছেন সেই আয়াতেই।এভাবেই আল্লাহ উম্মাতে মুহাম্মাদীকে নতুনভাবে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করে উপস্থাপন করেছেন।নামাজরত ব্যক্তি নামাজে মশগুল হয়ে অল্প সময়ের জন্য পানাহার ও জৈবিক চাহিদা হতে বিরত থাকে; তেমনি রোযাদার ব্যক্তি রোযায় মশগুল হয়ে পুরোটা দিনই পানাহার ও জৈবিক চাহিদা হতে বিরত থাকে! মানুষ সাধারনত মোজেজা, অলৌকিক, বিস্ময়কর বস্তু চোখ দিয়ে দেখে। তখন হতভম্ভ হয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। নিজের তীব্র চাহিদাগুলোও ম্লান হয়ে যায় এবং মশগুল হয়ে দেখতে থাকে। অর্থাৎ আগের নবীদের উম্মাতদের মত তারা নিজ চোখে মোজেজা দেখতে থাকার মত অবস্থায় উপনীত হয়।
ঠিক যেন নামাজের মত। নামাজরত ব্যক্তি নামাজে মশগুল হয়ে অল্প সময়ের জন্য পানাহার ও জৈবিক চাহিদা হতে বিরত থাকে; তেমনি রোযাদার ব্যক্তি রোযায় মশগুল হয়ে পুরোটা দিনই পানাহার ও জৈবিক চাহিদা হতে বিরত থাকে!
১৮৬ নং আয়াতের ১ম অংশে আল্লাহ বলছেন, "যখন আমার বান্দা তোমাকে আমার সম্পর্কে প্রশ্ন করে; নিশ্চয়ই আমি নিকটেই"। (আল কুরআন; ২:১৮৬)। প্রতিটি শব্দ বিশ্লেষণ করলে এর সৌন্দর্য্য ভালোভাবে বোঝা যায়।# আল্লাহ এখানে বলেননি যে, ‘যদি’ বরং বলেছেন ‘যখন’। অর্থাৎ আল্লাহ চান আমরা তাঁর সম্পর্কে জানি।
# এখানে বান্দা নিজেকে তুচ্ছ মনে করে হতাশ হয়ে আল্লাহ থেকে দূরে ভেবেছে তাই অন্যকে আল্লাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। তবে আল্লাহ অতি নিকটেই যা তিনি পরে বলেছেন।
# তিনি বিশেষত্ব এর ব্যাপার রাখেননি। তিনি বলেননি; মুমিন, নামাজী, হাজী, সত্যবাদী বা অন্যকিছু - শুধু বলেছেন আল্লাহর বান্দা। এখানে নিজেকে সম্পৃক্ত করে তিনি তাঁর ভালোবাসাও প্রকাশ করেছেন # আল্লাহ এখানে স্পেসিফিক বলেনননি যে বান্দা কোন বিষয়ে জানতে চায়, তিনি এখানে ওপেনভাবে প্রশ্ন করার ও জানার সুযোগ দিয়েছেন।
# বান্দা অন্যকে প্রশ্ন করেছে কিন্তু আল্লাহ অন্যের মাধ্যমে উত্তর না দিয়ে বান্দার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরুপ নিজেই সরাসরি উত্তর দিয়েছেন।
# বান্দা নিজেকে আল্লাহ থেকে দূরে ভাবলেও তিনি আসলে অতি নিকটে। সকল চাহিদা, প্রশ্ন তিনি জানেন। তাঁর সাথে যোগাযোগের জন্য সময় ক্ষেপন বা কোন মাধ্যম এর প্রয়োজন পড়ে না। আল্লাহ এই মাসে তাঁর কথা আমাদের কাছে পেশ করেছেন আল কুরআন এর মাধ্যমে (আয়াত ১৮৫)। কিন্তু তিনি শুধু ওয়ান ওয়ে কমিউনিকেশন এ থামে থাকেননি। তিনি আমাদেরও বলার সুযোগ দিয়েছেন, Two Way Communication (দ্বিমুখী যোগাযোগ) এর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আয়াত ১৮৬ থেকে বলা যায় যে, আল কুরআন মানুষকে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হতে সাহায্য করে। দোয়া আল্লাহকে মানুষের দিকে অগ্রসর হতে সাহায্য করে।
আল্লাহ রোযার রাতে স্বামী-স্ত্রীর Intimacy (অন্তরঙ্গতা) কে হালাল করে দিয়েছেন। শুধু হালাল করে দিয়েই তিনি থেমে থাকেননি বরং হালাল রোমান্টিসিজম এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বর্ননা সূরা আল বাকারার ১৮৭ নং আয়াতে তিনি দিয়েছেন। এর দ্বারা বোঝা যায়, ইসলাম কোন সন্ন্যাসবাদ নয় বরং শুদ্ধ পারিবারিক বন্ধনের মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণতা দেয়ার এক মহান বিধান।
রমাদনের রাতে স্বামী-স্ত্রীর অন্তরঙ্গতা হালাল করা হলেও আল্লাহর ঘরে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা এক দিকে মানুষের ঘরের সাথে আল্লাহর ঘরের মর্যাদা ও অন্যান্য সময়ের চেয়ে ইতকাফের মর্যাদা এর পার্থক্যকে বোঝানো হয়েছে।২য় সূরা আল বাকারা, আয়াত ১৯৩ এ আল্লাহ বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না ফিতনা খতম হয়ে যায় আর দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। অতঃপর যদি তারা বিরত হয় তবে যালিমদের উপরে ছাড়া কোনও প্রকারের কঠোরতা অবলম্বন জায়িয হবে না। বদর যুদ্ধ এর আগে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য হিসাবে ফিতনা খতম আর দ্বীন আল্লাহর জন্য হওয়াকে নির্ধারন করা হয়। তাই এখানে শিক্ষা হলো; শুরুতে সহজ লক্ষ্য নিয়ে এগুলে লক্ষ্য অর্জনে মনোবল ঠিক থাকে।
অন্যদিকে ৮ম সূরা আল আনফাল, আয়াত ৩৯ এ তিনি বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না ফিতনা খতম হয়ে যায় আর দ্বীন পুরোপুরিভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। অতঃপর তারা যদি বিরত হয় তাহলে তারা যা করে আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। বদর যুদ্ধ এর পরে তুলনামূলক কঠিন লক্ষ্য হিসাবে ফিতনা খতম আর দ্বীন পুরোপুরিভাবে আল্লাহর জন্য হওয়াকে নির্ধারন করা হয়। তাই এখানে শিক্ষা হলো; শুরুর সহজ লক্ষ্য অর্জিত হলে বৃহৎ লক্ষ্যে এগুতে হয়।
আল্লাহর প্রিয় মানুষদের বৈশিষ্ট্য আল্লাহ বিভিন্ন জায়গায় বর্ণনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সৎকর্মশীল (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ১৯৫, ৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩৪, ১৪৮), , তাওবাকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২২২), পবিত্রতা অর্জনকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২২২, ৯ম সূরা আত তাওবা, আয়াত ১০৮), মুত্তাকী (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৭৬, ৯ম সূরা আত তাওবা, আয়াত ৪, ৭), ধৈর্যশীল (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৪৬), তাওয়াক্কুলকারী (ভরসাকারী) (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৫৯), ন্যায় বিচারক (৫ম সূরা আল মায়িদাহ ৪২, ৪৯ তম সূরা আল হুজুরত আয়াত ৯), আল্লাহর পথে সুশৃঙ্খল লড়াকু (৬১ তম সূরা আস সফ, আয়াত ৪)। এই গুনগুলো মানুষের মৌলিক সুন্দর গুণাবলী। আল্লাহ চান আমরা এসব গুণাবলী অর্জন করি। এগুলো অর্জন করার জন্য আল্লাহ বিভিন্ন ইবাদত, নিয়ম নীতি দিয়েছেন।
২ টি শব্দের অদল-বদলঃ ২য় সূরা আল বাকারার ৭ম আয়াতে আল্লাহ বলছেনঃ "আল্লাহ তাদের হৃদয়ে ও কানে মোহর মেরে দিয়েছেন" আবার ৪৫ নং সূরা আল জাসিয়াহ এর ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলছেনঃ "তার কানে ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন"
এই ২ টা শব্দ 'হৃদয়' ও 'কান' অদল বদল হয়ে গেলো; এটা কি শুধু বলার খাতিরে বা শ্রুতিমধুরতার কারনে? না। আল্লাহ অনেক বড় ও নিখুঁত রচয়িতা। এর ২ টা শব্দ অদল বদল এর মূল কারন জানতে হলে আগের কয়েকটি আয়াত পড়তে হবে। আল বাকারার ২য় আয়াতের সন্দেহ, হিদায়াত ও তাকওয়া এগুলোও হৃদয় সংশ্লিষ্ট। ৩য়, ৪র্থ আয়াতের ঈমান, ৫ম আয়াতের হিদায়াত, ৬ষ্ঠ আয়াতের কুফরী সবই হৃদয় সংশ্লিষ্ট। এজন্য তিনি হৃদয়ের কথা আগে বলেছেন সূরা আল বাকারায়। অন্যদিকে সূরা আল জাসিয়াহর ৮ম আয়াতে আল্লাহ বলছেনঃ "যার সামনে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় এবং সে তা শোনে তারপর পুরো অহংকার নিয়ে কুফরীকে এমনভাবে আঁকড়ে থাকে যেন সে ঐগুলো শোনেইনি। এ রকম লোককে কষ্টদায়ক আযাবের সুখবর শুনিয়ে দাও"। এখানে তাদের শোনার ক্ষেত্রে আপত্তি/অসবীকার করার বিষয়টা উঠে এসেছে তাই সূরা আল জাসিয়াহ তে আল্লাহ আগে কানের কথা বলেছেন পরে হৃদয়ের কথা বলেছেন। আল্লাহু আকবার। অসাধারন, নিখুঁত তাঁর সৃষ্টি।
সবচেয়ে বড় এই সূরায় আল্লাহ ইসলামের ৫ টি ভিত্তি/খুঁটি এর বিষয়ই ক্রমিকভাবে নিয়ে এসেছেন এবং মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য মৌলিক বিষয় হিসাবে এই ভিত্তি/খুঁটিগুলোর বর্ননার মাধ্যমে মৌলিক ও অপরিহার্য হেদায়াত দিয়ে দিয়েছেন।
২০১ নং আয়াতে আল্লাহ দোয়া শিখিয়ে দিচ্ছেনঃ “হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর, আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আগুনের আযাব হতে আমাদের রক্ষা করো”। ক্ষনস্থায়ী দুনিয়ার সম্পদ হলো পয়সা, ধন, দৌলত আর চিরস্থায়ী আখিরাতের সম্পদ হলো পূণ্য বা নেকি।
যেহেতু আমাদেরকে ক্ষনস্থায়ী দুনিয়া ও চিরস্থায়ী আখিরাত উভয় জায়গায়ই থাকতে হবে তাই আসুন দুটোই সংগ্রহ করি। তবে আখিরাত চিরস্থায়ী হওয়ায় পূণ্য সংগ্রহে অনেক বেশি মনোযোগী হই।
শয়তান নিজের ইচ্ছামত নির্দেশ অমান্য করে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে। তাই সে সেদিকেই প্ররোচনা দেয়।
২০৮ নং আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোন অংশকে বাদ না দিয়ে সকল কিছু গ্রহন করেই পরিপূর্নভাবে ইসলামে প্রবেশ করতে হবে। জীবনের কিছু অংশে ইসলাম এর অনুসরন না করে চললে দুশমন শয়তানের অনুসরন করা হয়। এছাড়া ইসলামের সুরক্ষা বলয়ে পুরাপুরি প্রবেশ না করলে নানা দিক থেকে শয়তানের আক্রমন করতে থাকে। সুতরাং পুরোপুরি ইসলামে প্রবেশ না করলে ক্ষতি থেকে বাঁচা যায় না; যেমন মশারীর মধ্যে পুরাপুরি প্রবেশ না করে আংশিক করলে বের হওয়া অংশতে মশা কামড়াতে থাকে।আয়াতুল কুরসী [আল কুরআন২:২৫৫]: আয়াতুল কুরসীতে মোট ৯ টি বাক্য আছে। ১ম বাক্যের সাথে ৯ম, ২য় এর সাথে ৮ম, ৩য় এর সাথে ৭ম ও ৪র্থ এর সাথে ৬ষ্ঠ বাক্যের অলৌকিক মিল! বাদ পড়ে শুধু ৫ম বাক্য। সেটি মাঝে থেকে কি সুন্দরভাবে তার অর্থ ও অবস্থানকে অর্থবহ করে তোলে। সুবহানাল্লহ!!!
বিস্তারিত জানতে এই ভিডিওটি দেখুনঃ https://www.youtube.com/watch?v=049aBt23ieM
সূরা বাকারার ২৬১ ও সূরা ইউসুফের ৪৩ নং আয়াতঃ ২ টি আয়াতেই ৭ টি শীষ এর কথা বলা হয়েছে কিন্তু বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে ২ রকম (আরবীতে ২ রকম বহুবচন আছে!)। সূরা আল বাকারায় শক্তিশালী বহুবচন এবং সূরা ইউসুফে তুলনামূলক দূর্বল বহুবচন।
সূরা বাকারায় যেহেতু বহুগুনে বৃদ্ধির কথা বর্নিত আছে তাই এখানে শক্তিশালী বহুবচন আর সূরা ইউসুফে যেহেতু শুধু ৭ বছরের কথা বলা আছে তাই এসময়ে খুব বেশি শস্য বৃদ্ধি সম্ভব নয় ফলে এখানে দূর্বল বহুবচন ব্যবহার করেছেন আল্লাহ। ২ টিরই একই রকম অনুবাদ করা হয়েছে (বাংলায় বা ইংরেজিতে) কিন্তু আল্লাহ আরবীতে কত বিজ্ঞতার সাথে নিখুতভাবে বর্ননা করেছেন।
আমাদের (গুনাহসমূহ) মুছে ফেলুন, ঢেকে ফেলুন। (২:২৮৬)
সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা আনআম, ইউসুফ, কাহাফ, হজ্জ, ইয়াসীন, রহমান, দাহরে এসেছে সবুজ শব্দটি। কালো শব্দটি কুরআনে এসেছে ৭ বার। জাহান্নামের দরজা ৭ টি। জাহান্নামের সাথে কালো শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নাহল, ফাতির, জুমার, জুখরুফ এ এসেছে কালো শব্দটি।
অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের দরজা মোট ১৫ টি। আল কুরআনে দরজা শব্দটির বহুবচনঃ দরজাসমূহও এসেছে ১৫ বার। এগুলো এসেছে বাকারা, আনআম, আরাফ, ইউসুফ, হিজর, নাহল, সোয়াদ, জুমার, মুমিন, জুখরুফ, কমার, নাবা তে। মজার ব্যাপার হলো, ৭ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জাহান্নামের দরজা সম্পর্কিত এবং ৮ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জান্নাতের দরজা সম্পর্কিত। কি দারুন মিল!
আল কুরআনের আলোকে ২ ধরনের বাতাসের পার্থক্যঃ বহুবচনের বাতাস ‘রিয়াহ’ এই বাতাস নিয়ামত হিসাবে আসে। হেলেদুলে প্রবাহিত হয়, কখনও এদিক থেকে কখনও ওদিক থেকে বিক্ষিপ্তাকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বইতে থাকে; কেমন যেন সেখানে অনেকগুলো বাতাস থাকে । এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ ২:১৬৪, ৭:৫৭, ১৫:২২, ১৮:৪৫, ২৫:৪৮, ২৭:৬৩, ৩০:৪৬, ৩৫:০৯, ৪৫:০৫
অপরদিকে এক বচনের বাতাস ‘রীহ’। এই বাতাস আযাব হিসাবে আসে। বজ্রকঠিন ও একে অন্যের সাথে লাগোয়া। অনেক বেশি জমাটবাঁধা, ঘনীভূত ও সঙ্ঘত; কেমন যেন একটাই মাত্র তাবাস থাকে। এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ ৩:১১৭, ১৪:১৮, ১৭:৬৯, ২২:৩১, ৩০:৫১, ৩৩:৯, ৪২:৩৩, ৪৬:২৪ সাধারনভাবে একবচন ও বহুবচন নেকই ধরনের অর্থ প্রকাশ করলেও আল কুরআন এখানে বহুবচনে নিয়ামত ও একবচনে আযাব প্রকাশ করেছে।
প্রাচীন রোমান সভ্যতায় ক্যালেন্ডারে বছরে ১০ মাস ছিল। আল্লাহ আল কুরআনে ঘোষনা করেছেন বছরে মাস ১২ টি।
شهر (শাহরুন) শব্দের অর্থ মাস। বছরে মাস মোট ১২ টি; আল কুরআনে শাহরুন শব্দটি এসেছে মোট ১২ বার! (২:১৮৫, ২:১৮৫, ২:১৯৪, ২:১৯৪, ২:২১৭, ৫:২, ৫:৯৭, ৯:৩৬, ৩৪:১২, ৩৪:১২, ৪৬:১৫, ৯৭:৩)। বেশ সুন্দর মিল!!!যারা ঈমান এনেছে বলতে সেই সব মানুষদের বোঝায় যারা মুখে ঈমান এনে ইসলামে প্রবেশ করেছে কিন্তু অন্তরে ঈমান এখনও পুরাপুরি গেঁথে যায় নাই। অপরদিকে মুমিন বলতে সেই সব মানুষদের বোঝায় যারা মুখে ও অন্তরে ঈমান রাখে এবং স্থায়ী ও দৃঢ় ভাবে তাতে প্রতিষ্ঠিত থাকে।
আল্লাহ ৪ ধরনের মানুষদের ৪ ভাবে চিত্রায়িত করেছেন; ও হে যারা ঈমান এনেছ, মুমিন, ও হে যারা কুফরী করেছ, ও হে যারা কাফির। মুমিনদের একান্ত নৈকট্য ও যারা ঈমান এনেছে তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা দূরত্ব রাখলেও যারা কুফরী করেছে ও কাফির উভয়ের ক্ষেত্রেই আল্লাহ দূরত্বসূচক শব্দ ইয়া (ও হে) ব্যবহার করেছেন
আগের সূরার সাথে সম্পর্কঃ আগের সূরার (১ম সূরা আল ফাতিহা) এর ৫ম আয়াতে সরল সঠিক পথের সন্ধান চাওয়া হয়েছে। তার রেসপন্স আল্লাহ এই ২য় সূরা আল বাকারাতেই দিয়ে দিয়েছেন। ২য় আয়াতেই কুরআনকেই আল্লাহ সরল সঠিক পথ হিসাবে বর্ননা করেছেন!
পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ এই সূরা (২য় সূরা আল বাকারা) এর মূল বিষয় হলো ঈমান, আর পরের ৩য় সূরা আলে ইমরানের মূল বিষয় হলো ঈমানের পরের ধাপ; ইসলাম। এছাড়া আরো অনেক সম্পর্ক রয়েছে।
শেষ সূরার সাথে সম্পর্কঃ সূরা আল ফাতিহা হলো সূচনা। ঐ সূরায় হেদায়াত চাওয়া হয়েছে। এই সূরায় আল্লাহ হেদায়াত, পথ দেখিয়েছেন এবং গায়েব এর উপর বিশ্বাসের কথা বলেছেন, আর শেষ সূরা আন নাসে বলা হয়েছে যে শয়তান মানুষের মনে বার বার কুমন্ত্রনা দিতে থাকে। শয়তান আসলে মানুষকে এই সহজ সরল পথ থেকে দূরে রাখতে চায়। তাই শুরু থেকেই সহজ সরল পথ আল্লাহর কাছে চাওয়া হয়েছে, আল্লাহ দিয়েছেনও এবং শেষ পর্যন্ত এই পথে থাকতে হবে শয়তানের কুমন্ত্রনা মোকাবেলা করেই। আল কুরআনের ১ম সূরা আল ফাতিহা। যার অর্থ শুরু বা সূচনা বা প্রারম্ভিকা। ২য় সূরা আল বাকারা; যার অর্থ গরু। আর ১১৪ তম সূরা অর্থাৎ শেষ সূরা আন নাস এর অর্থ হলো মানুষ।
বিষয়টা এমন ভাবে দেখা যেতে পারে/ চিন্তা করা যেতে পারে যে; আল কুরআন শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে বুঝে আয়ত্ব করতে পারলে বুদ্ধি বিবেকহীন চতুর্পদ জন্তু হতে মানবিক গুনাবলী অর্জন করে মানুষ এ পরিনত হওয়া যাবে।
রেফারেন্স ও কৃতজ্ঞতাঃ বিভিন্ন তাফসীর, বিশেষ করে Nouman Ali Khan এর তাফসীর, বিভিন্ন লেকচার, ভিডিও ইত্যাদি।






























































.jpg)















মা-শা-আল্লাহ।
উত্তরমুছুনবৃত্তাকার গঠন পর্যন্ত পড়লাম।
পুরোটা একসাথে না দিয়ে, পর্বাকারে দিলে বোধহয় পাঠে সহজ হত। একসাথে পুরো প্রবন্ধটা থাকুক, পাশাপাশি আলাদা আলাদা পর্বাকার এ দেয়া যায় কিনা, ভেবে দেখতে পারেন।
জি। আলাদা করে ফেসবুক পোষ্ট করা হয়েছে অনেক
উত্তরমুছুনমা শা আল্লাহ
উত্তরমুছুনMashaAllah
উত্তরমুছুন