১৩। সূরা আর রদ
পৃথিবীর মত সূর্যেরও নির্দিষ্ট কক্ষপথ ও গতি আছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এরপর এক সময় এগুলোর পরিসমাপ্তি হবে। বিজ্ঞানের এই আবিষ্কারের পূর্বেই আল কুরআন এর ইঙ্গিত দিয়েছে। বিভিন্ন সূরার আয়াতে। যেমন আল কুরআন ১৩ : ২, ৩৫ : ১৩, ৩৬ : ৩৮, ৩৯ : ৫, ২১: ৩৩
চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)।
অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়।
৩য় আয়াতে আল্লাহ বলেছেন তিনি ফল জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ স্রষ্টা, একক, অদ্বিতীয়। স্রষ্টা এর সাথে সৃষ্টি আলাদা, ভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন করার জন্য হয়তো এভাবে জোড়া করেছেন।
সূরার ১৭ নম্বর আয়াতে বৃষ্টি এর কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। দেখুন কি সুন্দর উপমা। বৃষ্টি আকাশ থেকে আসে আর কোরআন নাযিল হয়েছে আকাশ থেকে।
আকাশ থেকে নামা পানি যেভাবে শুষ্ক জমিনকে জীবিত করে এবং উপত্যকাকে প্লাবিত করে, ঠিক তেমনি আকাশ থেকে নাজিলকৃত ওহী (কুরআন) মক্কা উপত্যকা থেকে শুরু করে মানুষের বিবেক ও অন্তরকে সত্যের আলোয় প্লাবিত করেছে। অন্যদিকে ফেনার মত ভেসে ওঠে কাফেররা অর্থাৎ ফেনার মত আলাদা হয়ে যায়।
ঘটনা এখানে শেষ নয়। নবীজি মক্কা থেকে মদিনায় যান। মক্কার ফেনা কাফের মুশরিকরা, তেমনি মদিনার ফেনা যারা ধাতুর সাথে গভীরভাবে মিশে ছিল অর্থাৎ তাদেরকে মুসলিমদের থেকে সহজে আলাদা করা যেত না তারা হচ্ছে মুনাফিক। ধাতুর ফেনা বের করতে আগুনে পোড়ানো লাগে, কষ্ট করতে হয় সে আগুন ও কষ্ট হচ্ছে যুদ্ধ। যুদ্ধের মাধ্যমে মুনাফিক আলাদা হয়ে যায়।
মানুষ ধাতু গলায় কেন? অলংকার বানাতে এবং যন্ত্রপাতি তৈরি করতে। কোনটি বেশি মূল্যবান? অলংকার। তেমনি যুদ্ধের সময় সাহাবীরা কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে ছুটতেন সেটা হচ্ছে জান্নাত দ্বিতীয়টি হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং আসন্ন বিজয়, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত নেয়ামত ও উপযোগিতা যাকে যন্ত্র বা তৈজস পত্রের সাথে তুলনা করা যায়।
এই আয়াতে আল্লাহ আরও বলেন যে পানির ফেনাগুলো নিঃশেষ হয়ে যায়। মক্কা বিজয়ের পর কাফের মুশরিকরা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ দ্বিতীয় ফেনা আবর্জনার নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার বিষয় বলেন নি অর্থাৎ সেই ধরনের ফেনা আবর্জনা মুনাফিকরা নিঃশেষ হয়ে যায়নি এখনো রয়েছে।
আর যা উপকার করে তা জমিনে থেকে যায় অর্থাৎ এই কুরআনের শিক্ষা জমিনে উপকারী হিসেবে থেকে গেছে জমিনের অংশই হয়ে গিয়েছে।
আল কুর আনের সূরা গুলোর আয়াত ও ক্রম নিয়ে দারুন একটি বিশ্লেষণ। অবাক করার মত। আমরা জানি, আল কুরআনের মোট সূরা সংখ্যা ১১৪ টি। এর মধ্যে আয়াত সংখ্যা জোড় এমন সূরা ৫৪ টি, অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা বিজোড় এমন সূরা ৬০ টি। আয়াত সংখ্যা জোড় এমন সূরা ৫৪ টির মধ্যে ক্রম জোড় এমন সূরা ১৭ টি এবং ক্রম বিজোড় এমন সূরার সংখ্যাও সমান ১৭ টি।
অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা বিজোড় এমন সূরা ৬০ টির মধ্যে ক্রম জোড় এমন সূরা ৩০ টি এবং ক্রম বিজোড় এমন সূরার সংখ্যাও ৩০ টি।
আবার, আয়াত সংখ্যা জোড়+ক্রম জোড়, আয়াত সংখ্যা বিজোড়+ ক্রম বিজোড় এগুলোকে সমজাতীয় বলা হলে এমন সমজাতীয় সূরার সংখ্যা ৫৭ টি, অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা জোড়+ক্রম বিজোড়, আয়াত সংখ্যা বিজোড়+ ক্রম জোড় এগুলোকে অসমজাতীয় বলা হলে এমন অসমজাতীয় সূরার সংখ্যাও ৫৭ টি।
এখানেই শেষ নয়, আয়াত সংখ্যা+ক্রম এটা যোগ করলে যোগফল জোড় এমন সূরার সংখ্যা ৫৭ টি আবার অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা+ক্রম এটা যোগ করলে যোগফল বিজোড় এমন সূরার সংখ্যাও ৫৭ টি এভাবে আল কুর আনে সূরার সংখ্যা, আয়াত সংখ্যা, ক্রম ইত্যাদি খুব সুন্দরভাবে গোছানো, বেশ অবাক করা তাইনা?
উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট , ডিভাইন স্পিচ,






মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন