৬৪। সূরা আত তাগাবুন
সাধারন মানুষ ও জীন জাতিকে আল্লাহ সার্বক্ষনিক একটানা তাসবিহ পাঠকারী (মুসাব্বিহুন) হিসাবে বিশেষ্যবাচক শব্দে উল্লেখ করেননি বরং তাসবিহ পাঠ করা সংক্রান্ত ক্রিয়া বাচক শব্দে (সাব্বাহা) উল্লেখ করেছেন। কারন তারা দিনের কিছু সময় তাসবিহ পাঠ করলেও সারাক্ষন একটানা তাসবিহ পাঠ করা হয়ে ওঠে না। এই সূরার শুরু হয়েছে এভাবে।
তবে ব্যতিক্রম হযরত ইউনুস (আ), তিনি মাছের পেটে চলে যাওয়ার পর মুসাব্বিহুন হয়ে একটানা তাসবিহ পাঠ করতে থাকেন, যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাকে উদ্ধার করেন। (সূরা আস সফফাত আয়াত ১৪৩ )
সেই সাথে ফেরেশতারাও একটানা তাসবিহ পাঠকারী (মুসাব্বিহুন) যার প্রমান মেলে সূরা আস সফফাত এর ১৬৬ নং আয়াতে
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার কাল মোট ৩ টি হলেও আরবীতে ২ টি শব্দে তা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। মাদ্বী দ্বারা অতীত আর মুদ্বারি দ্বারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয়ই বুঝায়। সূরা হাদীদ, হাশর ও সফ এর শুরুতে তাসবীহ পাঠ করার মাদ্বী তথা অতীত এর ক্রিয়া আবার সূরা জুমুয়াহ ও তাগাবুন এর শুরুতে তাসবীহ পাঠ করার মুদ্বারি তথা বর্তমান ও ভবিষ্যত এর ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে।
সূরাগুলোর মূল বিষয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটা খুবই সঙ্গতিপূর্ণ। সূরা হাদীদ, হাশর ও সফ এর মূল বিষয় সূরার অতীত সংশ্লিষ্ট এবং সূরা জুমুয়াহ ও তাগাবুন এর মূল বিষয় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সংশ্লিষ্ট। মাশা আল্লাহ, সুন্দর, প্রজ্ঞাপূর্ণ মিল
সূরা হাশর, সফ, জুমুয়া এবং তাগাবুন এর শুরু হয়েছে আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর তাসবিহ করে দিয়ে। এরপর আয়াতে এসেছে যমীনের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় তাই শুরুর আয়াতে পরের আয়াতগুলোর সাথে মিল রেখে আলাদা করে যমীনের বর্ননার সময় অতিরিক্ত وَمَا فِى শব্দ এসেছে।
অন্যদিকে সূরা হাদিদ এ আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর তাসবিহ করে দিয়ে শুরু হয়েছে। এরপর কয়েকটি আয়াতে এসেছে আল্লাহর গুনগান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বর্ণনা।যেহেতু পরের আয়াতগুলোতে যমীনের বিষয় কম বর্ননা তাই শুরুর আয়াতে অতিরিক্ত শব্দ নাই। কি দারুন মিল। পরবর্তি প্রেক্ষাপটের সাথে পুর্ববর্তি শব্দের অপূর্ব সামঞ্জস্যতা
৫ম সূরা আল মায়িদাহ এর ৯২ নং আয়াতের মত প্রায় একই শব্দ বিশিষ্ট আরেকটি আয়াত আছে। সেটা হল ৬৪ তম সূরা তাগাবুন, আয়াত ১২। দুটি আয়াতের মধ্যে সূরা আল মায়িদাহ এর ৯২ নং আয়াতে 'আর সতর্ক থাক' এই অংশটুকু বেশি রয়েছে। এর কারন, আগের ৯০-৯১ আয়াতে নিষিদ্ধ বিষয় মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা ও ভাগ্য নির্নয় সম্পর্কে বলা হয়েছে তাই পরের ৯২ নং আয়াতে সতর্ক থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
অপরদিকে ৬৪ তম সূরা তাগাবুন, আয়াত ১২ এর আগের ১০-১১ আয়াতে আল্লাহ সম্পর্কে বর্ননা এসেছে, নিষিদ্ধ বিষয় সম্পর্কে বলা নাই তাই আয়াত ১২ তে আলাদাভাবেটসতর্ক থাকার কথার কোন উল্লেখ নাই। কি দারুন আল্লাহর শব্দচয়ন ও প্লেসমেন্ট সেই সাথে প্রাসঙ্গিকতার সাথে মিল রেখে সংবেদনশীলতা।





মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন