মহাকাশ গবেষণায় জানা গেছে মহাবিশ্বের সূচনা এর পরে ধোঁয়া বা ধূম্র অবস্থায় ছিল। এরপর আকাশ ও গ্রহ এবং অন্যান্য উপাদান সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে কুরআন আগেই বর্ননা দিয়েছে।
তারপর নজর দিয়েছেন আকাশের দিকে যখন তা ছিল ধোঁয়া (এর মত)। তখন তিনি আকাশ আর পৃথিবীকে বললেন- আমার অনুগত হও, ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। উভয়ে বলল- আমরা স্বেচ্ছায় অনুগত হলাম। ৪১ তম সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ১১
৪১ তম সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ২০ এ বর্ননা করা হয়েছে জাহান্নামের কথা। সেখানে আছে, শেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছবে, তখন তারা যা করত সে সম্পর্কে তাদের কান, তাদের চোখ আর তাদের চামড়া তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। এটি বেশি ভয়াবহ তাই এই পরিস্থিতি বুঝাতে ‘মা’ শব্দটি অতিরিক্ত এসেছে।
অন্যদিকে ৩৯ নং সূরা ঝুমার এর আয়াত ৭১ এও বর্ননা করা হয়েছে জাহান্নামের কথা। সেখানে আছে, শেষে যখন তারা সেখানে পোঁছবে, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে। জাহান্নামের রক্ষীরা তাদের রাসূলের আগমন সম্পর্কে প্রশ্ন করবে এবং তারা স্বীকার করবে। এটি কম ভয়াবহ, তাই মা শব্দটি নেই।
৭ তম সূরা আরাফ, আয়াত ২০০ তে বলা হয়েছে শয়ত্বানের পক্ষ থেকে যদি তুমি কুমন্ত্রণা অনুভব কর, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ। প্রায় একই শব্দ বিশিষ্ট আরেকটি আয়াত আছে ৪১ তম সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৩৬ এ। সেখানে বলা হচ্ছে শয়ত্বানের পক্ষ থেকে যদি তুমি কুমন্ত্রণা অনুভব কর, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তিনিই সেই যিনি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ। অর্থাৎ একই রকম প্রায় কিন্তু এখানে শেষের দিকে হুয়া শব্দটি বেশি আছে। এর কারন কি?
এর কারন আগের আয়াত। সূরা আরাফে বলা হয়েছে জাহেলদের এড়িয়ে চলতে যা তুলনামুলক সহজ সূরা ফুসসিলাত এর শত্রুদের বন্ধু বানানোর চাইতে। এই জন্য অধিকতর কঠিন কাজ আল্লাহ বেশি ভালভাবে দেখেন ও জানেন যা হুয়া শব্দটি বেশি ব্যবহার করে আল্লাহ চোখে আঙ্গুল দিয়ে ভাষাগতভাবেও বুঝিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লহ।
চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)।
অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়।
আল কুর আনের সূরা গুলোর আয়াত ও ক্রম নিয়ে দারুন একটি বিশ্লেষণ। অবাক করার মত। আমরা জানি, আল কুরআনের মোট সূরা সংখ্যা ১১৪ টি। এর মধ্যে আয়াত সংখ্যা জোড় এমন সূরা ৫৪ টি, অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা বিজোড় এমন সূরা ৬০ টি। আয়াত সংখ্যা জোড় এমন সূরা ৫৪ টির মধ্যে ক্রম জোড় এমন সূরা ২৭ টি এবং ক্রম বিজোড় এমন সূরার সংখ্যাও সমান ২৭ টি।
অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা বিজোড় এমন সূরা ৬০ টির মধ্যে ক্রম জোড় এমন সূরা ৩০ টি এবং ক্রম বিজোড় এমন সূরার সংখ্যাও ৩০ টি।
আবার, আয়াত সংখ্যা জোড়+ক্রম জোড়, আয়াত সংখ্যা বিজোড়+ ক্রম বিজোড় এগুলোকে সমজাতীয় বলা হলে এমন সমজাতীয় সূরার সংখ্যা ৫৭ টি, অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা জোড়+ক্রম বিজোড়, আয়াত সংখ্যা বিজোড়+ ক্রম জোড় এগুলোকে অসমজাতীয় বলা হলে এমন অসমজাতীয় সূরার সংখ্যাও ৫৭ টি।
এখানেই শেষ নয়, আয়াত সংখ্যা+ক্রম এটা যোগ করলে যোগফল জোড় এমন সূরার সংখ্যা ৫৭ টি আবার অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা+ক্রম এটা যোগ করলে যোগফল বিজোড় এমন সূরার সংখ্যাও ৫৭ টি এভাবে আল কুর আনে সূরার সংখ্যা, আয়াত সংখ্যা, ক্রম ইত্যাদি খুব সুন্দরভাবে গোছানো, বেশ অবাক করা তাইনা?
উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন