৯। সূরা আত তাওবা
প্রাচীন রোমান সভ্যতায় ক্যালেন্ডারে বছরে ১০ মাস ছিল। আল্লাহ আল কুরআনে ঘোষনা করেছেন বছরে মাস ১২ টি।
شهر (শাহরুন) শব্দের অর্থ মাস। বছরে মাস মোট ১২ টি; আল কুরআনে শাহরুন শব্দটি এসেছে মোট ১২ বার! (২:১৮৫, ২:১৮৫, ২:১৯৪, ২:১৯৪, ২:২১৭, ৫:২, ৫:৯৭, ৯:৩৬, ৩৪:১২, ৩৪:১২, ৪৬:১৫, ৯৭:৩)। বেশ সুন্দর মিল!!!
সূরা আত তাওবা এর একটি (৭২ নং) আয়াতে কিছু মানুষের জন্য অধিক মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতের বর্ননা দিয়েছেন যারা দুনিয়ায় অধিক সৎ কর্মশীল। এর কিছু আয়াত পরে (১০০ নং আয়াতে) আবার আরেক দল মানুশের জন্য জান্নাতের বর্ননা দিয়েছেন যারা দুনিয়ায় সৎ কর্মশীল তবে আগের দলের মত নয়। তাদের জান্নাতের বর্ননায় মর্যাদা কিছুটা কম (মিন, হুয়া বাদ দিয়ে কম) করে বলা হয়েছে।
কি সুন্দর ধারাবাহিকতা, যুক্তি ও সামঞ্জস্যতা। এভাবে মেপে মেপে বলা বা লেখা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় শিক্ষা আমাদের বলা বা লেখার ক্ষেত্রে। সুবহানাল্লহ
১২১ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, মানুষ দান করে, আল্লাহর পথে চলে সেগুলো সৎকাজ হিসাবে গণ্য হয়। এটা তো বেশ স্বাভাবিক ও সরাসরি বা ডিরেক্ট ভাল কাজ। অন্যদিকে তাদের এমন পদক্ষেপ যা এমন পদক্ষেপ যা কাফিরদের ক্রোধ জন্মায় এবং শত্রুদের কোন কষ্ট প্রদান করে। এগুলো নিজেদের সাথে সরাসরি যুক্ত নয় বরং আংশিকভাবে যুক্ত বা সেমি ডিরেক্ট তথা শত্রুদের সাথে যুক্ত। ওই আয়াতেরই অন্য অংশের বর্ণনা সবচেয়ে অবাক করা ও স্বস্তির। আল্লাহর পথে তাদেরকে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি, ক্ষুধা পেয়ে বসে সেগুলোও তাদের জন্য সৎকাজ হিসাবে গণ্য হয়। সাধারণত এগুলকে কোন কাজই না বরং সীমাবদ্ধতা, বিফলতা ও অপ্রাপ্তি এবং পুরাপুরি অপ্রাসঙ্গিক বা ইন ডিরেক্ট হিসাবে ধরা হয়।
কিন্তু আল্লাহর কাছে এগুলোও মূল্যবান। আল্লাহ এই সিরিয়ালে আসলে বলেন নাই, বরং বলেছেন উল্টা সিরিয়ালে। অর্থাৎ সবচাইতে অবাক করা ও স্বস্তির বিষয়টা আগে বলে দিয়েছেন এরপর আস্তে আস্তে অন্য বিষয়। কি অসাধারন আল্লাহর মোটিভেশন
আল্লাহর প্রিয় মানুষদের বৈশিষ্ট্য আল্লাহ বিভিন্ন জায়গায় বর্ণনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সৎকর্মশীল (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ১৯৫, ৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩৪, ১৪৮), , তাওবাকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২২২), পবিত্রতা অর্জনকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২২২, ৯ম সূরা আত তাওবা, আয়াত ১০৮), মুত্তাকী (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৭৬, ৯ম সূরা আত তাওবা, আয়াত ৪, ৭), ধৈর্যশীল (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৪৬), তাওয়াক্কুলকারী (ভরসাকারী) (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৫৯), ন্যায় বিচারক (৫ম সূরা আল মায়িদাহ ৪২, ৪৯ তম সূরা আল হুজুরত আয়াত ৯), আল্লাহর পথে সুশৃঙ্খল লড়াকু (৬১ তম সূরা আস সফ, আয়াত ৪)। এই গুনগুলো মানুষের মৌলিক সুন্দর গুণাবলী। আল্লাহ চান আমরা এসব গুণাবলী অর্জন করি। এগুলো অর্জন করার জন্য আল্লাহ বিভিন্ন ইবাদত, নিয়ম নীতি দিয়েছেন।
অর্থাৎ আল্লাহ মুমিনদের বড়, ছোট কোন অবদানই বিফলে যেতে দেন না। সবই লিপিবদ্ধ করা হয় এবং প্রতিদান দেয়া হবে।





মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন