পোস্টগুলি

৭৩। সূরা আল মুঝঝাম্মিল

ছবি
৮ নং আয়াতে আল্লাহ তার নবীকে বলেছেন; 'ওয়াতাবাত্তাল ইলাইহি তাবতিলা' অর্থাৎ, সকল কিছু বিচ্ছিন্ন করে রবের প্রতি মনোযোগী হন মনোযোগী করার মত। সচারচর ব্যাকরণের নিয়মে হওয়ার কথা ছিল    'ওয়াতাবাত্তাল ইলাইহি তাবাত্তুলা' অর্থাৎ, সকল কিছু বিচ্ছিন্ন করে রবের প্রতি মনোযোগী হন মনোযোগী হওয়ার মত।  এভাবে বলার মাধ্যমে আল্লাহ ব্যতিক্রমীভাবে মুহাম্মাদ (সঃ) এর একাগ্রতাকে যেমন প্রাধান্য দিয়েছেন সেই সাথে তার ঐ নামাজে উৎসাহী হয়ে উম্মতদেরও নবীর অনুসরণে আল্লাহর প্রতি নামাজে মনোযোগী হবার সুযোগে ভাগীদার করে সৌভাগ্যবান করেছেন। অর্থাৎ এককভাবে সকল ক্রেডিট ও কল্যাণ মুহাম্মাদ (সঃ) কে দেয়া হতো যদি নিয়মমাফিক ‘তাবাত্তুলা’ বলা হতো। আল্লাহ সচারচর ব্যাকরণের নিয়ম ভেঙ্গে ‘তাবতিলা’ বলার মাধ্যমে নবীর সাথে সাথে তার উম্মতদেরকেও  আল্লাহ ও তার নবীর প্রতি মনোযোগী হবার ক্রেডিট ও কল্যাণ এর মধ্যে সামিল করেছেন, সুবহানাল্লহ, আলহামদুলিল্লাহ।  আল কুর আনের সূরা গুলোর আয়াত ও ক্রম নিয়ে দারুন একটি বিশ্লেষণ। অবাক করার মত। আমরা জানি, আল কুরআনের মোট সূরা সংখ্যা ১১৪ টি। এর মধ্যে আয়াত সংখ্যা ...

৫৩। সূরা আন নাজম

ছবি
মানুষের সৃষ্টির সূচনা আল্লাহ নিখুঁতভাবে বর্ননা করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই তো জানেন কিভাবে এই সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি মানুশকে তার সৃষ্টি সম্পর্কে অন্ধকারে রাখেননি, বিভিন্ন আয়াতে বলে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি ‘নুতফাহ’(নগণ্য পরিমান তরল/শুক্রাণু) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটি পাওয়া যায় আল কুরআনের ১৬:৪, ১৮:৩৭, ২২:৫, ২৩:১৩, ৩৫:১১, ৩৬:৭৭, ৪০:৬৭, ৫৩:৪৬ , ৭৫:৩৭, ৮০:১৯ তে।   সূরা আল আরাফ এর ৬০ নং আয়াতটি নুহ (আ) সম্পর্কে বলা হয়েছে। তিনি অনেক বছর ধরে দাওয়াত দিলেও তার সম্প্রদায়ের সকল সর্দাররাই তার বিরোধিতা করে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে তার পরীক্ষা অপেক্ষাকৃত বেশি কঠিন ছিল। আল্লাহর বর্ননার perfectness বোঝা যায় যেহেতু তারা সকলেই এতে যুক্ত ছিল তাই সকলকেই তিনি অন্তর্ভুক্ত করে বর্ননা করেছেন।  অন্যদিকে ৬৬ নং আয়াতটি হুদ (আ) সম্পর্কে বলা হয়েছে। তিনি দাওয়াত দিলে তা সম্প্রদায়ের শুধু কুফরি করা সর্দাররা তার বিরোধিতা করে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে তার পরীক্ষা অপেক্ষাকৃত কম কঠিন ছিল।  আল্লাহর বর্ননার perfectness বোঝা যায় যেহেতু তারা কিছু নির্দিষ্ট মানুষ এতে যুক্ত ছিল তাই শুধু তাদেরকেই তিনি অন্তর্ভুক্ত...

৩৭। সূরা আস সফফাত

ছবি
সূরা আস সফফাত আয়াত ১৪৩২ নং আয়াতের বর্ননামতে ইউনুস (আ.)-কে যে মাছটি গিলেছিল, সেটি সম্ভবত ছিল একটি Blue Whale বা নীল তিমি। একটি পূর্ণাঙ্গ নীল তিমির মুখ এতটাই বড় হয় যে, তার মুখের ভেতর একসাথে প্রায় ১০০ জন মানুষ অনায়াসে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে। তিমির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এরা খাবার চিবিয়ে খায় না। এদের মুখের ভেতরে মানুষের মতো দাঁত থাকে না, বরং 'ব্যালিন' (Baleen) নামক এক ধরণের ছাঁকনি থাকে। ফলে এরা যেকোনো বড় বস্তুকে আস্ত বা আক্ষরিক অর্থেই সরাসরি গিলে (Swallow) ফেলে। এই কারণেই হযরত ইউনুস (আ.) কোনো চোট বা আঘাত পাওয়া ছাড়াই আস্ত মাছের পেটে চলে গিয়েছিলেন। সাধারণত যেকোনো প্রাণীর পেটের ভেতরের পরিবেশ কোনো মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সম্পূর্ণ প্রতিকূল। তবে ইউনুস (আ.)-এর ক্ষেত্রে আল্লাহর বিশেষ হুকুম ছিল যেন মাছটি তাকে হজম না করে বা ক্ষতি না করে। কটি তিমির পাকস্থলীতে অত্যন্ত শক্তিশালী এসিড (যেমন হাইড্রোক্লোরিক এসিড) এবং এনজাইম থাকে, যা শক্ত হাড় বা কচ্ছপের খোলসকেও গলিয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে সেই এসিড ইউনুস (আ.)-এর শরীরকে স্পর্শ করেনি। তিমির পেটের ভেতর বাতাস বা অক্সিজেনের কোনো সরবরাহ থাকে না।...

৩১। সূরা লুকমান

ছবি
হেদায়াত এর আলো আল্লাহ যে শুধু অতি উত্তম সৎকর্মশীলদের জন্য (৩১ তম সূরা লুকমান, আয়াত ২,৩)  তা নয়, বরং সাধারন মুমিন, মুত্তাকী পর্যন্ত বিস্তৃত (১০ তম সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৭ ২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২)। শুধু তাই নয়, আসলে এই হেদায়াত সকল মানুষের উপরই আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন।  (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৬)  ৩১ নং সূরা লুকমানের ৭ নং আয়াত এ বর্নিত শ্রোতা এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সে অহংকারবশতঃ এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় যেন সে তা শুনতেই পায়নি, যেন তার দুই কানে বধিরতা আছে। মূলত অসার কথাবার্তা, হৈ হুল্লোড়, গান বাজনা তাকে শুনতে বাঁধা দেয়।  অন্যদিকে একই ধরনের, প্রায় কাছাকাছি বর্ননা বিশিষ্ট আরেকটি আয়াত আছে ৪৫ তম সূরা জাসিয়াহ, আয়াত ৮ এ। তবে সেখানে বর্নিত শ্রোতা এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; শোনে যা তার সামনে পাঠ করা হয়, অতঃপর ঔদ্ধত্যের সাথে অটল থাকে যেন সে তা শোনেইনি। অর্থাৎ এখানে বর্নিত শ্রোতা আরেক কাঠি সরেস; ভালভাবে শুনলেও অহংকার, দাম্ভিকতা তাকে দূরে রাখে, আবার সে পরবর্তীতে এ নিয়ে ঠাট্টাও করে।  আল্লাহ আমাদের এমন ২ ধরনের শ্রোতা না বানান। আমিন।  ১৭ নং আয়াতটি প্রাকৃতি...

৬৪। সূরা আত তাগাবুন

ছবি
সাধারন মানুষ ও জীন জাতিকে আল্লাহ সার্বক্ষনিক একটানা তাসবিহ পাঠকারী (মুসাব্বিহুন) হিসাবে বিশেষ্যবাচক শব্দে উল্লেখ করেননি বরং তাসবিহ পাঠ করা সংক্রান্ত ক্রিয়া বাচক শব্দে (সাব্বাহা) উল্লেখ করেছেন। কারন তারা দিনের কিছু সময় তাসবিহ পাঠ করলেও সারাক্ষন একটানা তাসবিহ পাঠ করা হয়ে ওঠে না। এই সূরার শুরু হয়েছে এভাবে।  তবে ব্যতিক্রম হযরত ইউনুস (আ), তিনি মাছের পেটে চলে যাওয়ার পর মুসাব্বিহুন হয়ে একটানা তাসবিহ পাঠ করতে থাকেন, যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাকে উদ্ধার করেন। (সূরা আস সফফাত আয়াত ১৪৩ )  সেই সাথে ফেরেশতারাও একটানা তাসবিহ পাঠকারী (মুসাব্বিহুন) যার প্রমান মেলে সূরা আস সফফাত এর ১৬৬ নং আয়াতে  বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার কাল মোট ৩ টি হলেও আরবীতে ২ টি শব্দে তা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। মাদ্বী দ্বারা অতীত আর মুদ্বারি দ্বারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয়ই বুঝায়। সূরা  হাদীদ, হাশর ও সফ এর শুরুতে তাসবীহ পাঠ করার মাদ্বী তথা অতীত এর ক্রিয়া আবার সূরা জুমুয়াহ ও তাগাবুন এর শুরুতে তাসবীহ পাঠ করার মুদ্বারি তথা বর্তমান ও ভবিষ্যত এর ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে।    সূরাগুলোর মূল বিষয় বিশ্লেষণ করলে দেখা...

৫৯। সূরা আল হাশর

ছবি
সূরার ১০ আয়াতে রব্বানা শব্দটি এসেছে। ‘রব্বি’ ও ‘রব্বানা’ শব্দটি মূলত দুটি করে শব্দ। ‘ইয়া রব্বি’ ও ‘ইয়া রব্বানা’। কিন্তু ‘ইয়া’ বা ‘হে’ শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে বিলুপ্ত করে ব্যবহার করা হয়। আল্লাহ  আমাদের খুবই কাছের, আপন বিধায় দূরবর্তি সংক্রান্ত শব্দ ‘হে’ বাদ দিয়ে শুধু রব্বি বা রব্বানা বলা হয়। সুবহানাল্লহ! তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহও তাদেরকে করেছেন আত্মভোলা; এরা পাপাচারী লোক  ৫৯ তম সূরা আল হাশর, আয়াত ১৯ আল্লাহকে ভুলে গেলে আসলে নিজেকেই ভুলে যাওয়া হয়। মানুষ তখন তার বাস্তবতা, অস্তিত্ব সম্পর্কেই সন্দিহান, বিভ্রান্ত হয়ে যায়। কিসে তার মূল্যায়ন তা বুঝতে পারে না। আত্মমর্যাদা হারিয়ে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। স্রষ্টাকে না চিনলে, তার সাথে সম্পর্ক না রাখলে সৃষ্টি মূল্যহীন হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তখন মানুষ স্রষ্টার উচ্চ মর্যাদা ও স্ট্যান্ডার্ড বাদ দিয়ে আশেপাশের নিচু সৃষ্টির স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করে নিজেকে এক প্রকার গননার বাইরে বা অদৃশ্য করে তোলে।  সাধারন মানুষ ও জীন জাতিকে আল্লাহ সার্বক্ষনিক একটানা তাসবিহ পাঠকারী (মুসাব্বিহুন) হিসাবে বিশেষ্যবাচক শব্দে উল্লেখ ...

৬৬। সূরা তাহরীম

ছবি
যারা কুফরী করেছে (আল্লাযী-না কাফারু) ও যারা কাফির (কাফিরুন) তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যারা কুফরী করেছে শব্দগুলো ক্রিয়া/কাজ এর সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং কাফিরুন শব্দটি বিশেষ্য এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। সাধারনত ক্রিয়া পরিবর্তনশীল ও অস্থায়ী এবং বিশেষ্য গুনবাচক ও স্থায়ী হয়, অস্তিত্বের সাথে মিশে যায় এমন।  ৭ নং আয়াতে এই বিষয়টি লক্ষ্যনীয়।  যারা কুফরী করেছে বলতে সেই সব মানুষদের বোঝায় যারা অন্তরে কুফর লালন করে এবং তেমন কাজও করে তবে এখনো পুরাপুরি কাফির হিসাবে স্থায়ী ও দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়নি, এখনও তাওবার সুযোগ আছে। অপরদিকে কাফিরুন বলতে সেই সব মানুষদের বোঝায় যারা অন্তরে কুফর লালন করে এবং তেমন কাজও করে এবং কুফরীতে তারা স্থায়ী ও দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।   এই পার্থক্য আল্লাহই ভালভাবে করতে পারেন।  আল্লাহ ৪ ধরনের মানুষদের ৪ ভাবে চিত্রায়িত করেছেন; ও হে যারা ঈমান এনেছ, মুমিন, ও হে যারা কুফরী করেছ, ও হে যারা কাফির। মুমিনদের একান্ত নৈকট্য ও যারা ঈমান এনেছে তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা দূরত্ব রাখলেও যারা কুফরী করেছে ও কাফির উভয়ের ক্ষেত্রেই আল্লাহ দূরত্বসূচক শব্দ ইয়া (ও হে) ব্যবহার করে...