পোস্টগুলি

১০। সূরা ইউনুস

ছবি
সূরা ইউনুসের ৫ নং আয়াতে সূর্যকে আলোর উৎস ও চাঁদ এর নিজস্ব আলো নেই বরং সূর্য এর প্রতিফলিত আলোতেই চাঁদ আলোকিত দেখায় এমন বলা হয়েছে, যা ঠিক আছে। বিজ্ঞানও এমনই বলে,  কিন্তু বাইবেলের Book of Genesis 1:16 তে সূর্য এবং চাঁদ দুটোকেই আলোর উৎস বলা হয়েছে। যা মূলত ভুল। চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬ , ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫ , ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯,৩৫ঃ১৩, ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)।  অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চাঁদকে আরও দুদিন বেশি ঘুরতে হয় এজন্য চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়।   হেদায়াত এর আলো আল্লাহ যে শুধু অতি উত্তম সৎকর্মশীলদের জন্য (৩১ তম সূরা লুকমান, আয়াত ২,৩)  তা নয়, বরং সাধারন মুমিন, মুত্তাকী পর্যন্ত বিস্তৃত (১০ তম সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৭ ২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২)। শুধু তাই নয়, আসলে এই হেদায়াত সকল মানুষের উপরই আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন।  (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৬)...

৯। সূরা আত তাওবা

ছবি
প্রাচীন রোমান সভ্যতায় ক্যালেন্ডারে বছরে ১০ মাস ছিল। আল্লাহ আল কুরআনে ঘোষনা করেছেন বছরে মাস ১২ টি।   شهر (শাহরুন) শব্দের অর্থ মাস। বছরে মাস মোট ১২ টি; আল কুরআনে শাহরুন শব্দটি এসেছে মোট ১২ বার! (২:১৮৫, ২:১৮৫, ২:১৯৪, ২:১৯৪, ২:২১৭, ৫:২, ৫:৯৭, ৯:৩৬, ৩৪:১২, ৩৪:১২, ৪৬:১৫, ৯৭:৩)। বেশ সুন্দর মিল!!! সূরা আত তাওবা এর একটি (৭২ নং) আয়াতে কিছু মানুষের জন্য অধিক মর্যাদাসম্পন্ন জান্নাতের বর্ননা দিয়েছেন যারা দুনিয়ায় অধিক সৎ কর্মশীল। এর কিছু আয়াত পরে (১০০ নং আয়াতে) আবার আরেক দল মানুশের জন্য জান্নাতের বর্ননা দিয়েছেন যারা দুনিয়ায় সৎ কর্মশীল তবে আগের দলের মত নয়। তাদের জান্নাতের বর্ননায় মর্যাদা কিছুটা কম (মিন, হুয়া বাদ দিয়ে কম) করে বলা হয়েছে।  কি সুন্দর ধারাবাহিকতা, যুক্তি ও সামঞ্জস্যতা। এভাবে মেপে মেপে বলা বা লেখা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় শিক্ষা আমাদের বলা বা লেখার ক্ষেত্রে। সুবহানাল্লহ  ১২১ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, মানুষ দান করে, আল্লাহর পথে চলে সেগুলো সৎকাজ হিসাবে গণ্য হয়। এটা তো বেশ স্বাভাবিক ও সরাসরি বা ডিরেক্ট ভাল কাজ। অন্যদিকে তাদের এমন পদক্ষেপ যা এমন পদক্ষেপ যা কাফিরদের ক্রোধ...

২৯। সূরা আনকাবুত

ছবি
আরবী ভাষায় 'আম' এবং 'সানাহ' শব্দ দুটি দিয়ে বছর বোঝায়। তবে আম শব্দটি ব্যবহার হয় ভাল অর্থের ক্ষেত্রে ও সানাহ শব্দটি ব্যবহার হয় খারাপ অর্থের ক্ষেত্রে।  ২৯ নং সূরা আল আনকাবুত, আয়াত ১৪ এ আল্লাহ বলেছেন, আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর সে পঞ্চাশ বছর কম হাজার বছর তাদের মাঝে অবস্থান করেছিল। অতঃপর মহাপ্লাবন তাদেরকে গ্রাস করল কারণ তারা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী। নূহ (আ) এর সম্প্রদায় অনেক বেশি বছর ধরে আল্লাহর নাফরমানী করে ও নবীর দাওয়াত গ্রহন করতে অস্বীকার করে, অল্প বছর অল্প কিছু অনুসারী বাদে। এজন্য আল্লাহ বেশি সময় প্রকাশক হাজার বছরের ক্ষেত্রে নেতিবাচক শব্দ সানাহ এবং কম সময় প্রকাশক পঞ্চাশ বছরের ক্ষেত্রে ইতিবাচক শব্দ ‘আম’ ব্যবহার করেছেন। কি অসাধারন সামঞ্জস্যপূর্ন আল্লাহর শব্দচয়ন! মাকড়সা জাল প্রকৃতির সেরা শক্তিশালী ম্যাটেরিয়াল। এটি স্টিলের চেয়েও বেশি শক্তিশালী, ফ্লেক্সিবল। কিন্তু এই ম্যাটারিয়াল দিয়ে তৈরি জাল আর্কিটেকচারালি এবং স্ট্রাকচারালি এমন ভাবে অ্যারেঞ্জড যে এটি উইকেস্ট ডিজাইনে একত্রিত হয়। এটি সহজেই ভঙ্গুর ও ধ্বংসযোগ্য। অর্থাৎ স্ট্রঙ্গেস্ট মেটেরিয়াল ইজ ইউজড ইন উ...

৭৩। সূরা আল মুঝঝাম্মিল

ছবি
৮ নং আয়াতে আল্লাহ তার নবীকে বলেছেন; 'ওয়াতাবাত্তাল ইলাইহি তাবতিলা' অর্থাৎ, সকল কিছু বিচ্ছিন্ন করে রবের প্রতি মনোযোগী হন মনোযোগী করার মত। সচারচর ব্যাকরণের নিয়মে হওয়ার কথা ছিল    'ওয়াতাবাত্তাল ইলাইহি তাবাত্তুলা' অর্থাৎ, সকল কিছু বিচ্ছিন্ন করে রবের প্রতি মনোযোগী হন মনোযোগী হওয়ার মত।  এভাবে বলার মাধ্যমে আল্লাহ ব্যতিক্রমীভাবে মুহাম্মাদ (সঃ) এর একাগ্রতাকে যেমন প্রাধান্য দিয়েছেন সেই সাথে তার ঐ নামাজে উৎসাহী হয়ে উম্মতদেরও নবীর অনুসরণে আল্লাহর প্রতি নামাজে মনোযোগী হবার সুযোগে ভাগীদার করে সৌভাগ্যবান করেছেন। অর্থাৎ এককভাবে সকল ক্রেডিট ও কল্যাণ মুহাম্মাদ (সঃ) কে দেয়া হতো যদি নিয়মমাফিক ‘তাবাত্তুলা’ বলা হতো। আল্লাহ সচারচর ব্যাকরণের নিয়ম ভেঙ্গে ‘তাবতিলা’ বলার মাধ্যমে নবীর সাথে সাথে তার উম্মতদেরকেও  আল্লাহ ও তার নবীর প্রতি মনোযোগী হবার ক্রেডিট ও কল্যাণ এর মধ্যে সামিল করেছেন, সুবহানাল্লহ, আলহামদুলিল্লাহ।  আল কুর আনের সূরা গুলোর আয়াত ও ক্রম নিয়ে দারুন একটি বিশ্লেষণ। অবাক করার মত। আমরা জানি, আল কুরআনের মোট সূরা সংখ্যা ১১৪ টি। এর মধ্যে আয়াত সংখ্যা ...

৫৩। সূরা আন নাজম

ছবি
মানুষের সৃষ্টির সূচনা আল্লাহ নিখুঁতভাবে বর্ননা করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই তো জানেন কিভাবে এই সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি মানুশকে তার সৃষ্টি সম্পর্কে অন্ধকারে রাখেননি, বিভিন্ন আয়াতে বলে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি ‘নুতফাহ’(নগণ্য পরিমান তরল/শুক্রাণু) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটি পাওয়া যায় আল কুরআনের ১৬:৪, ১৮:৩৭, ২২:৫, ২৩:১৩, ৩৫:১১, ৩৬:৭৭, ৪০:৬৭, ৫৩:৪৬ , ৭৫:৩৭, ৮০:১৯ তে।   সূরা আল আরাফ এর ৬০ নং আয়াতটি নুহ (আ) সম্পর্কে বলা হয়েছে। তিনি অনেক বছর ধরে দাওয়াত দিলেও তার সম্প্রদায়ের সকল সর্দাররাই তার বিরোধিতা করে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে তার পরীক্ষা অপেক্ষাকৃত বেশি কঠিন ছিল। আল্লাহর বর্ননার perfectness বোঝা যায় যেহেতু তারা সকলেই এতে যুক্ত ছিল তাই সকলকেই তিনি অন্তর্ভুক্ত করে বর্ননা করেছেন।  অন্যদিকে ৬৬ নং আয়াতটি হুদ (আ) সম্পর্কে বলা হয়েছে। তিনি দাওয়াত দিলে তা সম্প্রদায়ের শুধু কুফরি করা সর্দাররা তার বিরোধিতা করে। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে তার পরীক্ষা অপেক্ষাকৃত কম কঠিন ছিল।  আল্লাহর বর্ননার perfectness বোঝা যায় যেহেতু তারা কিছু নির্দিষ্ট মানুষ এতে যুক্ত ছিল তাই শুধু তাদেরকেই তিনি অন্তর্ভুক্ত...

৩৭। সূরা আস সফফাত

ছবি
সূরা আস সফফাত আয়াত ১৪৩২ নং আয়াতের বর্ননামতে ইউনুস (আ.)-কে যে মাছটি গিলেছিল, সেটি সম্ভবত ছিল একটি Blue Whale বা নীল তিমি। একটি পূর্ণাঙ্গ নীল তিমির মুখ এতটাই বড় হয় যে, তার মুখের ভেতর একসাথে প্রায় ১০০ জন মানুষ অনায়াসে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে। তিমির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এরা খাবার চিবিয়ে খায় না। এদের মুখের ভেতরে মানুষের মতো দাঁত থাকে না, বরং 'ব্যালিন' (Baleen) নামক এক ধরণের ছাঁকনি থাকে। ফলে এরা যেকোনো বড় বস্তুকে আস্ত বা আক্ষরিক অর্থেই সরাসরি গিলে (Swallow) ফেলে। এই কারণেই হযরত ইউনুস (আ.) কোনো চোট বা আঘাত পাওয়া ছাড়াই আস্ত মাছের পেটে চলে গিয়েছিলেন। সাধারণত যেকোনো প্রাণীর পেটের ভেতরের পরিবেশ কোনো মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সম্পূর্ণ প্রতিকূল। তবে ইউনুস (আ.)-এর ক্ষেত্রে আল্লাহর বিশেষ হুকুম ছিল যেন মাছটি তাকে হজম না করে বা ক্ষতি না করে। কটি তিমির পাকস্থলীতে অত্যন্ত শক্তিশালী এসিড (যেমন হাইড্রোক্লোরিক এসিড) এবং এনজাইম থাকে, যা শক্ত হাড় বা কচ্ছপের খোলসকেও গলিয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে সেই এসিড ইউনুস (আ.)-এর শরীরকে স্পর্শ করেনি। তিমির পেটের ভেতর বাতাস বা অক্সিজেনের কোনো সরবরাহ থাকে না।...

৩১। সূরা লুকমান

ছবি
হেদায়াত এর আলো আল্লাহ যে শুধু অতি উত্তম সৎকর্মশীলদের জন্য (৩১ তম সূরা লুকমান, আয়াত ২,৩)  তা নয়, বরং সাধারন মুমিন, মুত্তাকী পর্যন্ত বিস্তৃত (১০ তম সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৭ ২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২)। শুধু তাই নয়, আসলে এই হেদায়াত সকল মানুষের উপরই আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন।  (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৬)  ৩১ নং সূরা লুকমানের ৭ নং আয়াত এ বর্নিত শ্রোতা এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সে অহংকারবশতঃ এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় যেন সে তা শুনতেই পায়নি, যেন তার দুই কানে বধিরতা আছে। মূলত অসার কথাবার্তা, হৈ হুল্লোড়, গান বাজনা তাকে শুনতে বাঁধা দেয়।  অন্যদিকে একই ধরনের, প্রায় কাছাকাছি বর্ননা বিশিষ্ট আরেকটি আয়াত আছে ৪৫ তম সূরা জাসিয়াহ, আয়াত ৮ এ। তবে সেখানে বর্নিত শ্রোতা এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; শোনে যা তার সামনে পাঠ করা হয়, অতঃপর ঔদ্ধত্যের সাথে অটল থাকে যেন সে তা শোনেইনি। অর্থাৎ এখানে বর্নিত শ্রোতা আরেক কাঠি সরেস; ভালভাবে শুনলেও অহংকার, দাম্ভিকতা তাকে দূরে রাখে, আবার সে পরবর্তীতে এ নিয়ে ঠাট্টাও করে।  আল্লাহ আমাদের এমন ২ ধরনের শ্রোতা না বানান। আমিন।  ১৭ নং আয়াতটি প্রাকৃতি...