পোস্টগুলি

১৫। সূরা আল হিজর

ছবি
সূরার একটি প্রধান থীম হলো সংরক্ষন বা সুরক্ষা। প্রথমে আল কুরআনের সুরক্ষা, এরপর আলোচিত হয়েছে মহাবিশ্বের সুরক্ষা, নবীদের সুরক্ষা এবং সবশেষে ঈমানদারদের সুরক্ষা  সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা আনআম, ইউসুফ, কাহাফ, হজ্জ, ইয়াসীন, রহমান, দাহরে এসেছে সবুজ শব্দটি। কালো শব্দটি কুরআনে এসেছে ৭ বার। জাহান্নামের দরজা ৭ টি। জাহান্নামের সাথে কালো শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নাহল, ফাতির, জুমার, জুখরুফ এ এসেছে কালো শব্দটি। অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের দরজা মোট ১৫ টি। আল কুরআনে দরজা শব্দটির বহুবচনঃ দরজাসমূহও এসেছে ১৫ বার। এগুলো এসেছে বাকারা, আনআম, আরাফ, ইউসুফ, হিজর, নাহল, সোয়াদ, জুমার, মুমিন, জুখরুফ, কমার, নাবা তে। মজার ব্যাপার হলো, ৭ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জাহান্নামের দরজা সম্পর্কিত এবং ৮ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জান্নাতের দরজা সম্পর্কিত। কি দারুন মিল! আল কুরআনের আলোকে ২ ধরনের বাতাসের পার্থক্যঃ  বহুবচনের বাতাস ‘রিয়াহ’  এই বাতাস নিয়ামত হিসাবে আসে। হেলেদ...

৪৩। জুখরুফ

ছবি
আল্লাহ বলেন, তিনি আল কুরআনকে বানিয়েছেন (যা আগে ছিল এবং পরে তার নতুন রুপ দেয়া হয়েছে) আরবী ভাষায় যার মূল রুপ (হয়তো আল্লাহর অন্য ভাষায়) উম্মুল কিতাব আকারে আছে (৪৩ তম সূরা আয যুখরুফ, আয়াত ৩, ৪) আল্লাহ আল কুরআন এ বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন যেন তোমরা হতে পারো (লাআল্লাকুম)। এটা বলার মাধ্যমে তিনি মানুষের কাঙ্খিত মূল গুণাবলীগুলোর পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেছেন যেন তোমরা মুত্তাকী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২১, ১৮৩), কৃতজ্ঞ (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ৫২, ১৬ তম সূরা নাহল, আয়াত ৭৮), সঠিক পথপ্রাপ্ত (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ৫৩, ৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩), চিন্তা ভাবনাকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২১৯, ২৬৬), বিচক্ষণ (১২ সূরা ইউসুফ, আয়াত ২, ৪৩ তম সূরা জুখরুফ, আয়াত ৩), সফল (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩০, ২২ তম সূরা হজ্জ, আয়াত ৭৭), উপদেশ গ্রহণকারী  (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২২১, ১৬ তম সূরা নাহল, আয়াত ৯০), দয়া ও রহমতপ্রাপ্ত  (৬ষ্ঠ সূরা আনআম, আয়াত ১৫৫, ২৪ তম সূরা নুর, আয়াত ৫৬),  আমাদের সেগুলো অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআন...

৩৫। সূরা ফাতির

ছবি
আল্লাহ ফেরেশতাদের বার্তাবাহক নিয়োগ করেন যারা দুই দুই, তিন তিন বা চার চার পাখা বিশিষ্ট; তিনি চাইলে আরো বৃদ্ধি করেন। (৩৫ তম সূরা ফাতির, আয়াত ১)  অর্থাৎ আল্লাহ কাজের অনুপাতে পাখা বা শক্তি ও উপকরণ প্রদান করেন বা বৃদ্ধি করেন। যেমন জীবরাঈল (আ) এর পাখা ৬০০ মানুষের সৃষ্টির সূচনা আল্লাহ নিখুঁতভাবে বর্ননা করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই তো জানেন কিভাবে এই সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি মানুশকে তার সৃষ্টি সম্পর্কে অন্ধকারে রাখেননি, বিভিন্ন আয়াতে বলে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি ‘নুতফাহ’(নগণ্য পরিমান তরল/শুক্রাণু) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এটি পাওয়া যায় আল কুরআনের ১৬:৪, ১৮:৩৭, ২২:৫, ২৩:১৩, ৩৫:১১ , ৩৬:৭৭, ৪০:৬৭, ৫৩:৪৬, ৭৫:৩৭, ৮০:১৯ তে।   চাঁদ (কমার) শব্দটি আল কুরআনে এসেছে ২৭ বার (৬ঃ৭৭, ৬ঃ৯৬, ৭ঃ৫৪, ১০ঃ৫, ১২ঃ৪, ১৩ঃ২, ১৪ঃ৩৩, ১৬ঃ১২, ২১ঃ৩৩, ২২ঃ১৮, ২৫ঃ৬১, ২৯ঃ৬১, ৩১ঃ২৯, ৩৫ঃ১৩ , ৩৬ঃ৩৯, ৩৬ঃ৪০, ৩৯ঃ৫, ৪১ঃ৩৭, ৫৪ঃ১, ৫৫ঃ৫, ৭১ঃ১৬, ৭৪ঃ৩২, ৭৫ঃ৮, ৭৫ঃ৯, ৮৪ঃ১৮, ৯১ঃ২)।  অবাক করা বিষয় হল চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন সময় লাগে। তবে এই সময়ে পৃথিবী আবার সূর্যকে কেন্দ্র করে ২ দিন এগিয়ে যায়। এজন্য চা...

৮৬। সূরা আত তরিক

আগের সূরার সাথে সম্পর্কঃ আগের ৮৫ নং সূরার সূরার শেষে (আয়াত ২২) লাওহে মাহফুয এর কথা বর্নিত আছে যা আকাশে অবস্থিত। পরের ৮৬ তম সূরা আত তরিক শুরু হয়েছে আকাশের কথা দিয়ে।      পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ  ৮৬ নং সূরা আত ত্বরিক এ আল্লাহর নাম ও পরিচিতি সরাসরি বলা হয়নি কিন্তু পরের সূরার (৮৭ নং সূরা আল আ’লা) শুরুতেই আল্লাহর নামের প্রশংসা করতে বলা হয়েছে। এ যেন আগের সূরার গ্যাপ পূরন।  আত ত্বরিক এর শুরুতে বড়, high আকাশ, তারা এর কথা এসেছে (আয়াত ১,৩) কিন্তু পরের সূরার শুরুতে সবচেয়ে বড়, highest আল্লাহ এর কথা এসেছে (আয়াত ১)। এছাড়া ৮৬ নং সূরা আত ত্বরিক এ আল্লাহকে ছোট, দূর্বল মনে করে ষড়যন্ত্র করতে থাকে (আয়াত ১৩, ১৪, ১৫)। কিন্তু তিনি আসলে তাদের ধরাছোয়ার বাইরে, অনেক high তা পরের ৮৭ নং সূরার ১ম আয়াতেই বলা হয়েছে।       ৮৬ নং সূরার শেষে আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসূল (সঃ) কে কাফেরদের প্ল্যান ও কর্মকান্ড জেনেও তাদের অবকাশ দেওয়ার জন্য আদেশ করেন। এবং তাদের দিকে মনোযোগ না দিয়ে পরের সূরায় তিনি বরং আল্লাহর প্রশংসা করার জন্য আদেশ দেন। অর্থাৎ আগের ৮৬ নং সূরার শেষ আয়াতের সাথে পরের ...

৮১। সূরা আত তাকবীর

ছবি
 আগের ও পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ  আগের ৮০ নং সূরা আবাসাতে আল কুরআন হতে দূরে সরে যাওয়া (আয়াত ১৭) এর বিষয়টি উঠে এসেছে। আল কুরআন সম্পর্কে গাফেল থেকে তা থেকে দূরে থাকার ফলে যার মাধ্যমে এই কুরআন মানুষের কাছে এসেছে সেই মহান মানব থেকেও মানুষ দূরে সরে গিয়েছে; যার বর্ননা এসেছে ৮১ নং সূরা আত তাকবীর এ (আয়াত ২৬)। আর আল কুরআন থেকে দূরে থাকার ফলে মুহাম্মাদ (স) থেকে দূরে থাকা হয়েছে যার চুড়ান্ত পরিনতি হিসাবে আল্লাহ থেকে দূরে থাকা হয়ে গেছে। ৮২ নং সূরা আল ইনফিতার এ সেটিই প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে (আয়াত ৬ এ)।         উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে  উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ  রিভাইভ ইয়োর হার্ট  ,  ডিভাইন স্পিচ ,  বাংলাঃ  উপমার শৈল্পিকতায় মুগ্ধময় কোরআন ,  কুরআন বোঝার মজা ,  আল ফাতিহা ,  পড়ো ,  পড়ো ২  ৩০ পারার ইলাস্ট্রেশন এর বই

২৮। সূরা কাসাস (কাহিনী)

ছবি
মূসা (আঃ) এর ঘটনা, নাম সবচেয়ে বেশি এসেছে আল কুরআনে।বিভিন্ন সূরায় বিভিন্ন ঘটনা, সময়কে প্রাধান্য দিয়ে এগুলো বর্নিত হয়েছে। আল কুরআনের ২০ তম সূরা ত্বহা তে মূলত আল্লাহর সাথে মূসা (আঃ) এর ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্ননা করা হয়েছে।  ২৬ তম সূরা শুয়ারা তে মূলত মূসা (আঃ) এর সাথে ফেরাঊন এর ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্ননা করা হয়েছে।  ২৮ তম সূরা কাসাস এ মূলত মূসা (আঃ) এর ছোট ও কম বয়সের ঘটনাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্ননা করা হয়েছে।   সূরার কয়েকটি আয়াতে রব্বি শব্দটি এসেছে, যেমনঃ ১৬, ২৪। ‘রব্বি’ ও ‘রব্বানা’ শব্দটি মূলত দুটি করে শব্দ। ‘ইয়া রব্বি’ ও ‘ইয়া রব্বানা’। কিন্তু ‘ইয়া’ বা ‘হে’ শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে বিলুপ্ত করে ব্যবহার করা হয়। আল্লাহ  আমাদের খুবই কাছের, আপন বিধায় দূরবর্তি সংক্রান্ত শব্দ ‘হে’ বাদ দিয়ে শুধু রব্বি বা রব্বানা বলা হয়। সুবহানাল্লহ! উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে  উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ  রি...

২৬। সূরা শুয়ারা

ছবি
মূসা আলাইহিস সালাম-এর লাঠি সাপ হয়ে যাওয়া বিষয়ক যে আয়াতগুলো আছে, সেগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন সাপের জন্য কোথাও হাইয়াতুন (حية) আর কোথাও সু’বানুন (ثعبان) শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বাংলা অনুবাদ খুলে দেখুন সবখানে ‘সাপ’ লেখা আছে। সাপের আরবী শব্দ ব্যবহারের ভিন্নতার কারণে অর্থ ও মর্মতে যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে অনুবাদে সেটা প্রকাশিত হয়নি। হাইয়াতুন মানে হলো ছোট সাপ। আর সু’বানুন মানে বিশাল বড় সাপ। দুইটাই তো সাপ। তবে সাপে সাপে পার্থক্য আছে। এবার আমরা এই শব্দ দু'টি যে আয়াতে ব্যবহার হয়েছে সে আয়াত দু’টি দেখি। মূসা আলাইহিস সালাম যখন সপরিবারে রাতের বেলায় সফর করছিলেন এবং আগুনের প্রয়োজন হওয়ার কারণে এদিক-ওদিক তা খোঁজাখুঁজি করছিলেন সে সময় আল্লাহ তাঁকে ডাক দিয়ে বলেন, قَالَ أَلْقِهَا يَا مُوسَى ۞ فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَى “তিনি (আল্লাহ) বললেন, তুমি তা নিক্ষেপ করো হে মূসা। অতপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন এবং অমনি তা একটি সাপ হয়ে ছুটতে লাগল।” (২০ তম সূরা তহা, আয়াত ২০) এই আয়াতে ‘হাইয়াতুন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এখানে মূসা আলাইহিস সালাম-কে শুধু লাঠি সাপ হয়ে যাবার মুজিযা দেখানো উদ্দেশ্য...