৪৩। জুখরুফ

আল্লাহ বলেন, তিনি আল কুরআনকে বানিয়েছেন (যা আগে ছিল এবং পরে তার নতুন রুপ দেয়া হয়েছে) আরবী ভাষায় যার মূল রুপ (হয়তো আল্লাহর অন্য ভাষায়) উম্মুল কিতাব আকারে আছে (৪৩ তম সূরা আয যুখরুফ, আয়াত ৩, ৪)


আল্লাহ আল কুরআন এ বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন যেন তোমরা হতে পারো (লাআল্লাকুম)। এটা বলার মাধ্যমে তিনি মানুষের কাঙ্খিত মূল গুণাবলীগুলোর পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেছেন যেন তোমরা মুত্তাকী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২১, ১৮৩), কৃতজ্ঞ (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ৫২, ১৬ তম সূরা নাহল, আয়াত ৭৮), সঠিক পথপ্রাপ্ত (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ৫৩, ৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১০৩), চিন্তা ভাবনাকারী (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২১৯, ২৬৬), বিচক্ষণ (১২ সূরা ইউসুফ, আয়াত ২, ৪৩ তম সূরা জুখরুফ, আয়াত ৩), সফল (৩য় সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩০, ২২ তম সূরা হজ্জ, আয়াত ৭৭), উপদেশ গ্রহণকারী  (২য় সূরা বাকারা, আয়াত ২২১, ১৬ তম সূরা নাহল, আয়াত ৯০), দয়া ও রহমতপ্রাপ্ত  (৬ষ্ঠ সূরা আনআম, আয়াত ১৫৫, ২৪ তম সূরা নুর, আয়াত ৫৬), 

আমাদের সেগুলো অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

সবুজ শব্দটি কুরআনে এসেছে ৮ বার। জান্নাতের দরজা ৮ টি। জান্নাতের সাথে সবুজ শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা আনআম, ইউসুফ, কাহাফ, হজ্জ, ইয়াসীন, রহমান, দাহরে এসেছে সবুজ শব্দটি। কালো শব্দটি কুরআনে এসেছে ৭ বার। জাহান্নামের দরজা ৭ টি। জাহান্নামের সাথে কালো শব্দটি সবচেয়ে সম্পর্কিত। আল কুরআনের সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নাহল, ফাতির, জুমার, জুখরুফ এ এসেছে কালো শব্দটি।

অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নামের দরজা মোট ১৫ টি। আল কুরআনে দরজা শব্দটির বহুবচনঃ দরজাসমূহও এসেছে ১৫ বার। এগুলো এসেছে বাকারা, আনআম, আরাফ, ইউসুফ, হিজর, নাহল, সোয়াদ, জুমার, মুমিন, জুখরুফ, কমার, নাবা তে। মজার ব্যাপার হলো, ৭ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জাহান্নামের দরজা সম্পর্কিত এবং ৮ম বারে আসা দরজা শব্দটির আয়াতটি জান্নাতের দরজা সম্পর্কিত। কি দারুন মিল!

৬ নং সূরা আনআম, আয়াত ৭৮ তে ইবরাহীম (আ.) এর শিরকের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ এর বিষয়টি  ‘বারিউন’ শব্দের মাধ্যমে সাধারন সম্পর্কচ্ছেদ বোঝানো হয়েছে। তার এই কথাটি নবী হওয়ার আগের বক্তব্য। এই বক্তব্য তে ‘ইন্নি’ শব্দের মাধ্যমে সাধারন নিশ্চয়তা প্রকাশিত হয়েছে। 
অন্যদিকে ৪৩ নং সূরা যুখরুফ, আয়াত ২৬ তে শিরকের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ এর বিষয়টি ‘বারউন’ শব্দের মাধ্যমে উচ্চমাত্রার, চূড়ান্ত সম্পর্কচ্ছেদ বোঝানো হয়েছে। তার এই কথাটি নবী হওয়ার পরের বক্তব্য। এই বক্তব্য তে ‘ইন্নানি’ শব্দের মাধ্যমে উচ্চমাত্রার নিশ্চয়তা প্রকাশিত হয়েছে। 


উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ