আরেকটি সুন্দর বিষয় হলোঃ সূরা বাকারায় আল কুরআনের মত ১ টি সূরা তৈরির চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। ২য় সূরা বাকারার আগে সূরা আছে ১ টি। আবার সূরা হুদে আল কুরআনের মত ১০ টি সূরা তৈরির চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। ১১ তম সূরা হুদের আগে সূরা আছে ১০ টি। কি সুন্দর সূরার পজিশনিং এবং সংখ্যাগত মিল!!! মাশা আল্লাহ।
প্রায় একই ধরনের বাক্যের ভিন্ন রকম সূক্ষ্ম পার্থক্য ও সৌন্দর্য্যঃ
১১ তম সূরা হুদ, আয়াত ৭৭ এ আল্লাহর পাঠানো ফেরেশতাগণের লূত (আ) এর নিকট আগমনের কথা বর্ননা করা হয়েছে। অন্যদিকে ২৯ তম সূরা আনকাবুত, আয়াত ৩৩ এ এই আয়াতে আল্লাহর পাঠানো ফেরেশতাগণের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে লূত (আ) এর নিকট আগমনের কথা বর্ননা করা হয়েছে।

সূরা হুদের আয়াতটি এবং সূরা আনকাবুত এর আয়াতটি প্রায় একই শব্দসমূহ দিয়ে গঠিত হলেও সূরা আনকাবুত এর আয়াতে আন (اَنۡ) শব্দটি বেশি রয়েছে; যার দ্বারা বোঝানো হয় দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে আল্লাহর পাঠানো ফেরেশতাগণের লূত (আ) এর নিকট আগমন করেছেন। এটি মূলত দুই সূরার নাযিলের সময়কাল ও প্রেক্ষাপটের দিকে নজর দিলে সুস্পষ্ট হবে। সূরা হুদ নাযিল হয় মুহাম্মাদ (স) এর দাওয়াতের শুরুর দিকে, তখন নির্যাতন কম ছিল। এরপর সূরা আনকাবুত নাযিল হয়েছিল যখন নির্যাতন চরমে পৌঁছে। এজন্য সেই সূরায় এই ঘটনা বলার সময় বলা হয়েছে যে, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে আল্লাহর সাহায্য বা ব্যবস্থা হিসাবে ফেরেশতাগণকে পাঠানো হয়। এই ঘটনার দ্বারা যেন মুহাম্মাদ (স) এর কাছে ইঙ্গিত দেয়া হয় যে, লূত (আ) এর ঘটনার মত দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে আল্লাহর সাহায্য আসন্ন। কি সুন্দর আল্লাহর বাচনভঙ্গি, শব্দচয়ন, সময়কাল ও প্রেক্ষাপটের সামঞ্জস্যতা
৬ নং সূরা আল আনআম এর আয়াত ১৩১ তে ‘লাম ইয়াকুন’ শব্দটি সাধারনভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি বিচার দিবসের সাধারন ঘটনাকে প্রকাশ করেছে। ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দটি ‘মুহলিক’ যা বিশেষ্য; এটি স্থায়ীবাচক শব্দ। আখিরাত দিবসে ধ্বংস একটি চুড়ান্ত বিষয়।
অন্যদিকে ১১ নং সূরা হুদ, আয়াত ১১৭ এ ‘ওমা কানা’ শব্দটি বিতর্কের জবাবে ব্যবহৃত হয়। এটি কাফিরদের মিথ্যা দাবীকে নাকচ প্রকাশ পেয়েছে। ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দটি ‘ইহলিক’ যা ক্রিয়া; এটি অস্থায়ীবাচক শব্দ। দুনিয়ায় শুধরে নেয়ার সুযোগ থাকায় ধ্বংস চুড়ান্ত বিষয় নয়।
আল কুর আনের সূরা গুলোর আয়াত ও ক্রম নিয়ে দারুন একটি বিশ্লেষণ। অবাক করার মত। আমরা জানি, আল কুরআনের মোট সূরা সংখ্যা ১১৪ টি। এর মধ্যে আয়াত সংখ্যা জোড় এমন সূরা ৫৪ টি, অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা বিজোড় এমন সূরা ৬০ টি। আয়াত সংখ্যা জোড় এমন সূরা ৫৪ টির মধ্যে ক্রম জোড় এমন সূরা ১৭ টি এবং ক্রম বিজোড় এমন সূরার সংখ্যাও সমান ১৭ টি।
অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা বিজোড় এমন সূরা ৬০ টির মধ্যে ক্রম জোড় এমন সূরা ৩০ টি এবং ক্রম বিজোড় এমন সূরার সংখ্যাও ৩০ টি।
আবার, আয়াত সংখ্যা জোড়+ক্রম জোড়, আয়াত সংখ্যা বিজোড়+ ক্রম বিজোড় এগুলোকে সমজাতীয় বলা হলে এমন সমজাতীয় সূরার সংখ্যা ৫৭ টি, অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা জোড়+ক্রম বিজোড়, আয়াত সংখ্যা বিজোড়+ ক্রম জোড় এগুলোকে অসমজাতীয় বলা হলে এমন অসমজাতীয় সূরার সংখ্যাও ৫৭ টি।
এখানেই শেষ নয়, আয়াত সংখ্যা+ক্রম এটা যোগ করলে যোগফল জোড় এমন সূরার সংখ্যা ৫৭ টি আবার অন্যদিকে আয়াত সংখ্যা+ক্রম এটা যোগ করলে যোগফল বিজোড় এমন সূরার সংখ্যাও ৫৭ টি এভাবে আল কুর আনে সূরার সংখ্যা, আয়াত সংখ্যা, ক্রম ইত্যাদি খুব সুন্দরভাবে গোছানো, বেশ অবাক করা তাইনা?
উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন