৪২। আশ শূরা
আল কুরআনের আলোকে ২ ধরনের বাতাসের পার্থক্যঃ বহুবচনের বাতাস ‘রিয়াহ’ এই বাতাস নিয়ামত হিসাবে আসে। হেলেদুলে প্রবাহিত হয়, কখনও এদিক থেকে কখনও ওদিক থেকে বিক্ষিপ্তাকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বইতে থাকে; কেমন যেন সেখানে অনেকগুলো বাতাস থাকে । এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ ২:১৬৪, ৭:৫৭, ১৫:২২, ১৮:৪৫, ২৫:৪৮, ২৭:৬৩, ৩০:৪৬, ৩৫:০৯, ৪৫:০৫
অপরদিকে এক বচনের বাতাস ‘রীহ’। এই বাতাস আযাব হিসাবে আসে। বজ্রকঠিন ও একে অন্যের সাথে লাগোয়া। অনেক বেশি জমাটবাঁধা, ঘনীভূত ও সংহত; কেমন যেন একটাই মাত্র তাবাস থাকে। এমন উদাহরন আছে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। যেমনঃ ৩:১১৭, ১৪:১৮, ১৭:৬৯, ২২:৩১, ৩০:৫১, ৩৩:৯, ৪২:৩৩, ৪৬:২৪ সাধারনভাবে একবচন ও বহুবচন নেকই ধরনের অর্থ প্রকাশ করলেও আল কুরআন এখানে বহুবচনে নিয়ামত ও একবচনে আযাব প্রকাশ করেছে।
৩১ নং সূরা লুকমানের ১৭ নং আয়াতটি প্রাকৃতিক বিপদের সাথে সংশ্লিষ্ট। এজন্য এখানে সবর করা ছাড়া কিছু করার থাকে না, ক্ষমার বিষয় আসে না। তাই এই আয়াতে সবরকে সাধারন দৃঢ় সংকল্পের পরিচায়ক বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ৪২ নং সূরা শুরা এর ৪৩ নং আয়াতটি অন্যের দ্বারা সৃষ্ট বিপদের সাথে সংশ্লিষ্ট; এজন্য এখানে ক্ষমার বিষয় এসেছে। প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করা উচ্চ নৈতিকতার পরিচায়ক। তাই এ আয়াতে অতিরিক্ত লাম ব্যবহার করে সবরকে অবশ্যই দৃঢ় সংকল্পের পরিচায়ক বলা হয়েছে। কি অসাধারন আল্লাহর শব্দ্ বর্ন চয়ন ও সঠিক প্রয়োগ! আমাদের এ থেকে অনেক শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ রয়েছে।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন