৪। সূরা আন নিসা (নারী)

 ‘আর রহম’ (যার অর্থ গর্ভ) শব্দ হতে ‘আর রহমান’ শব্দটি এসেছে । সূরার ১ম আয়াতেই আল্লাহ ‘রহম’ (গর্ভ) কে ভয় করতে বলেছেন অর্থাৎ ঐ সম্পর্কের সাথে সতর্ক হয়ে চলতে বলেছেন।

এই গর্ভ এর সাথে কয়েকটি বিষয় ও মানুষ জড়িত। বিবাহ, নারী, পুরুষ এবং সন্তান। এই সব বিষয়েই আল্লাহ অত্যন্ত সতর্ক হতে বলেছেন।

১৪, ৫৬ নং আয়াতে জাহান্নামের কিছু বর্ননা দেয়া হয়েছে। এর একটা কল্পিত প্রতিকী চিত্র আঁকার  চেষ্টা করা হয়েছে।

এছাড়াও কুরআনের আরো কিছু সূরার আয়াতের সাহায্যে জাহান্নামের আরো কিছু আযাবের চিত্র এখানে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।  

মা বাবার সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ইহসান’ শব্দটি ব্যবহার করে হয়েছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই তবে একটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে ‘হুসন’ শব্দটি। আরবীতে শব্দের ক্ষেত্রে একই ধরনের শব্দে বর্ণ সংখ্যা বেশি হলে তার অর্থতেও সেই প্রভাব পড়ে, বেশি বর্ণ মানে বেশি প্রকট অর্থ বুঝায়। স্বাভাবিকভাবে ২:৮৩, ৪:৩৬, ৬:১৫১, ১৭:২৩, ৪৬:১৫ আয়াতগুলোতে নেককার মা বাবা হওয়ায় তাদের প্রতি ইহসান বা সর্বোচ্চ সুন্দর ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ। অন্যদিকে ২৯:৮৮ আয়াতে সর্বোচ্চ সুন্দর ব্যবহারের চেয়ে কম মাত্রার অর্থবহ ‘হুসন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে সেই সকল মা বাবার প্রতি যারা শিরক করার জন্য চাপ দেয়। আল্লাহর শব্দ ব্যবহার কত যুক্তিপূর্ণ ও নিখুঁত!  

৫৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, জাহান্নামে চামড়া জ্বলে পুড়ে গেলে তিনি পালটে দিবেন নতুন চামড়া দিয়ে যেন তারা শাস্তি আস্বাদন করতে পারে। আধুনিক বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি বা পোড়া রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেখা যায় ফার্স্ট ও সেকেন্ড ডিগ্রি বার্ন: যখন চামড়ার উপরের অংশ আংশিক পোড়ে, তখন পেইন রিসেপটরগুলো উত্তেজিত হয়ে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। কিন্তু থার্ড-ডিগ্রি বার্ন: যখন আগুন চামড়াকে পুরোপুরি পুড়িয়ে ফেলে এবং এর ভেতরের গভীর স্তর (Dermis) পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন ত্বকে থাকা সব পেইন রিসেপটর এবং স্নায়ুপ্রান্ত (Nerve endings) সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে, চামড়া পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ার পর রোগী আর কোনো ব্যথার অনুভূতি পায় না, কারণ মস্তিষ্কে ব্যথার সংকেত পাঠানোর মতো কোনো রিসেপটর তখন আর অবশিষ্ট থাকে না। 

জাহান্নামিদের আগের চামড়াটি সম্পূর্ণ পুড়ে কয়লা হয়ে গেলে তার পেইন রিসেপটরগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে এবং পাপীরা আর শাস্তির তীব্রতা বা ব্যথা অনুভব করতে পারবে না। তাই ব্যথার অনুভূতি বা 'আযাব আস্বাদন' অবিরাম রাখার জন্য নতুন পেইন রিসেপটর সমৃদ্ধ নতুন চামড়া দেওয়া অপরিহার্য—যা এই আয়াতে সুন্দরভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে।

৪ নং সূরা নিসা এর ৬০ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, শয়তান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে চায় মানুষ নিজেরা পথভ্রষ্ট হওয়ার মত। আল্লাহ বলেছেন, 'ইউদিল্লাহুম দলালাম বাঈদা' কিন্তু সচারচর ব্যাকরণের নিয়মে হওয়ার কথা ছিল 'ইউদিল্লাহুম ইউদলালাম বাঈদা' অর্থাৎ শয়তান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে চায় পথভ্রষ্ট করার মত। কিন্তু সেভাবে বললে আসল বিষয়টা পুরাপুরি আসতো না। 

এভাবে বলার মাধ্যমে আল্লাহ ব্যতিক্রমীভাবে পথভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে শুধু শয়তানকে দায়ী করেননি। তাহলে মানুষ সব দায় শয়তানকে দিয়ে দিতে পারতো। তাই এভাবে বলে আল্লাহ ঐ দায় শয়তান ও যে মানুষ পথভ্রষ্ট হবে উভয়কেই দিয়েছেন। 

যারা ঈমান এনেছে (আল্লাযী-না আ-মানু) ও যারা মুমিন (মু’মিনূ-ন) তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। যারা ঈমান এনেছে শব্দগুলো ক্রিয়া/কাজ এর সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং মুমিন শব্দটি বিশেষ্য এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। সাধারনত ক্রিয়া পরিবর্তনশীল ও অস্থায়ী এবং বিশেষ্য সাধারনত গুনবাচক ও স্থায়ী হয়, অস্তিত্বের সাথে মিশে যায় এমন।  

যারা ঈমান এনেছে বলতে সেই সব মানুষদের বোঝায় যারা মুখে ঈমান এনে ইসলামে প্রবেশ করেছে কিন্তু অন্তরে ঈমান এখনও পুরাপুরি গেঁথে যায় নাই। অপরদিকে মুমিন বলতে সেই সব মানুষদের বোঝায় যারা মুখে ও অন্তরে ঈমান রাখে এবং স্থায়ী ও দৃঢ় ভাবে তাতে প্রতিষ্ঠিত থাকে। 

আল্লাহ ৪ ধরনের মানুষদের ৪ ভাবে চিত্রায়িত করেছেন; ও হে যারা ঈমান এনেছ, মুমিন, ও হে যারা কুফরী করেছ, ও হে যারা কাফির। মুমিনদের একান্ত নৈকট্য ও যারা ঈমান এনেছে তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা দূরত্ব রাখলেও যারা কুফরী করেছে ও কাফির উভয়ের ক্ষেত্রেই আল্লাহ দূরত্বসূচক শব্দ ইয়া (ও হে) ব্যবহার করেছেন 



উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে 
উস্তাদের দারুন বই কিনতে পারেন এই লিঙ্ক থেকেঃ রিভাইভ ইয়োর হার্ট ডিভাইন স্পিচ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সূরাসমূহের নোট

১৮। সূরা আল কাহাফ (গুহা)

১। সূরা আল ফাতিহা (সূচনা)