পোস্টগুলি

৯৯। সূরা আল ঝিলঝাল (প্রবল কম্পন)

ছবি
১ম আয়াতে পৃথিবীর কম্পনকে দুবার বর্ননা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এর চুড়ান্ত প্রচন্ডতা প্রকাশ পেয়েছে। আল্লাহ এখানে ‘ যদি ’ না বলে ‘ যখন ’ বলেছেন। অর্থাৎ পৃথিবী যে ধ্বংস হবেই এটা নিশ্চিত, কোন সন্দেহ নাই। আয়াতটি passive বা কর্ম বাচ্যে বর্ননা করা হয়েছে। যখন বাক্যে কর্তা না থাকে তখন সে কাজটি সহজেই সম্পন্ন হয় হিসাবে ধরা হয়। এখানে এভাবে বর্ননা করে আল্লাহ বুঝিয়েছেন যে, কিয়ামত ঘটানো তাঁর কাছে খুবই সহজ। এখানে পৃথিবীর কম্পন বলতে পুরা পৃথিবীর কম্পন বোঝানো হয়েছে, অল্প কয়েক জায়গার নয়, পুরা পৃথিবীর কম্পন। এই সূরাটি আল্লাহ সরাসরি একটি কসমিক ঝাঁকুনি দিয়ে শুরু করেছেন। এখানে আল্লাহ বলেছেন ঝি লঝালাহা” বা তার ভূমিকম্প, অর্থাৎ সেই ভূমিকম্প যা বিশেষভাবে পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। শুধুমাত্র রিখটার স্কেল এ পরিমাপ করা কোনো সাধারণ ভূতাত্ত্বিক ভূমিকম্প না, যা কোনো টেকটোনিক প্লেট এর স্লিপ বা কোনো ফল্ট লাইনের ভাঙার কারণে আসে, বরং জিও, অ্যাস্ট্রো ফিজিক্স এর চূড়ান্ত ঘটনা এবং এটি এই মহাবিশ্বের ইহজগতের চূড়ান্ত পরিনতি বা ফাইনাল ডেসটিনেশন বা “সিস্টেম শাট ডাউন” এটি সেই চূড়ান্ত এবং শেষ ভূমিকম্প হবে যার জন্য এই প...

পোষ্ট

১। জীবন এর উদ্দেশ্য কি? সফলতা কি? https://youtu.be/TAijoOaSiIE?si=1J6LUOGZc7BrM_OE  ২। জীবনের ব্যপ্তি, স্থায়িত্বকাল ও অবস্থান কতটুকু? https://youtu.be/fQXP0RDL9Sg?si=NYiE3ti6I7gm4fxZ  ৩। জীবনে করা কাজ ও চিন্তার ব্যাপ্তি কতটুকু? https://youtu.be/7-N7W1GTFFw?si=nLIrZ7BBgqlQ78J2, https://youtu.be/qIo5VeClGO8?si=28hOgCGjuRCX4ApU  ৪। আমাদের চিরশত্রু কে? তাকে কিভাবে মোকাবিলা করতে হবে? https://youtu.be/CfcrWLXFZlo?si=_6Bqtq3aac1c94kG, https://youtu.be/jwXjKA5Za2I?si=CfPNnyA-si-8kJUu  ৫। আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে কেন সৃষ্টি করেছেন? https://youtu.be/C8UVwGqrSYc?si=Asn2njnasKWuyXAU  ৬। শ্রেষ্ঠ মানুষ কিভাবে হবো? https://youtu.be/ElW_m5KTNUQ?si=94RWRE624QbnRIw1 ৭। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী এবং এর পরিসীমা কতটুকু? https://youtu.be/pjGvJGdLgk8?si=I7mmUuje75-U60Xz ৮। আমাদের কাজগুলোর পরিনতি কি? https://youtu.be/zdcjYMosSHk?si=BiYhmSz18L6EsGdu  ৯। আমাদের সৃষ্টিকর্তা ও অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি আমাদের দায়িত্ব কি? https://youtu.be...

৯৫। সূরা আত-ত্বীন (ডুমুর)

ছবি
  সূরার সারসংক্ষেপঃ   সূরা আত-ত্বীন এর শুরুতে ৪ টি শপথ করা হয়েছে। এই শপথ করার পর ৪র্থ আয়াতে একটি মন্তব্য করেছেন আল্লাহ। এই শপথ ও শপথের পরবর্তি মন্তব্যের সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যদিও ত্বীন ও যায়তুন দুটি উপকারী ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিৎ ফল তবুও সম্ভবত ত্বীন দ্বারা এমন জায়গার কথা বলা হচ্ছে যা যেখানে এটা বেশি জন্মে আর তা হলো শাম, ফিলিস্তিন অঞ্চল। জুদি পাহাড়, যেখানে নূহ (আঃ) এর নৌকা ভিড়েছিল সেই অঞ্চলে ত্বীন ফল বেশি জন্মে, যায়তুনের পাহাড় যা জেরুসালেম এ অবস্থিত এবং তা ঈসা (আঃ) এর এর সাথে সম্পর্কিত। তুর এ সাইনা, সিনাই পাহাড় তো সরাসরি মূসা (আঃ) এর সাথে সম্পর্কিত যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি আল্লাহর সাথে কথা বলেছিলেন। আর নিরাপদ নগরী মক্কা সরাসরি ইবরাহীম (আঃ) এর সাথে জড়িত যিনি এই নগরের স্থপতি বলা যায় আর সব শেষে মুহাম্মাদ (সঃ) এই নগরের পূর্নতা দান করেন। সুতরাং ১ম ৩ আয়াতে ৫ জন শক্তিমান নবী (সহ আরো কিছু নবী)দের কথা ইঙ্গিত করা হচ্ছে যারা হলেন হযরত নূহ (আঃ), ঈসা (আঃ), মূসা (আঃ), ইবরাহীম (আঃ), মুহাম্মাদ (সঃ)। ইনারা পৃথিবী ও মানব সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম মানুষ। ৪র্থ আয়াতে আল্লাহ বলছেন, আমি মানুষকে পয়দা করেছি সর...

২৫। সূরা আল ফুরকান (সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী)

ছবি
সারসংক্ষেপঃ সূরার শুরুতে আল্লাহ তাঁর বড়ত্ব ও কার্যাবলীর কথা বলেছেন (আয়াত ১-২)। এরপর অজ্ঞ ও উদ্ধত লোকদের কথা ও আল্লাহর বড়ত্বের অস্বীকারকারী কার্যাবলীর বর্ননা দিয়েছেন (আয়াত ৩-৫)। আল্লাহ তাদের এসব কথার প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে, নিজে না বলে বরং অবজ্ঞার সাথে মুহাম্মাদ (স) কে দিয়ে বলিয়েছেন যে, আল্লাহ সব জানেন ও তিনি দয়ালু (আয়াত ৬)। এর জবাবে অজ্ঞ ও উদ্ধত অস্বীকারকারী লোকেরা আবার অযৌক্তিক কথা বলতে শুরু করে দেয় (আয়াত ৭-৮)। এর জবাবে আল্লাহ তাদের অযৌক্তিক ও পথভ্রষ্ট হিসাবে আখ্যা দিয়ে দেন (আয়াত ৯)।  এরপর তিনি মুহাম্মাদ (স) এর পরিনতি (আয়াত ১০) ও আল্লাহর বানী এবং মুহাম্মাদ (স) এর রসূল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার মূল কারন ও সেজন্য কাফেরদের পরিনতির কথা বর্ননা করেন (আয়াত ১১-১৪)। ২ ধরনের পরিনাম বলার পর তাদের তুলনামূলক বিচার করার জন্য আল্লাহ আহবান জানিয়েছেন (১৫-১৬)। পথভ্রষ্টতার ও ঐ পরিনতির অযুহাত এর জবাব হিসাবে কাফেরদের উপাস্যদের হাজির করা হলে উপাস্যরা নিজেদের সংশ্লিষ্টতাকে অস্বীকার করবে এবং কাফেরদের পরিনতি হবে করুন (আয়াত ১৭-১৯) । (৭ম আয়াতে উত্থাপিত) তাদের প্রশ্ন ও যুক্তির জবাব আল্লাহ দিতে শ...

৯৪। সূরা আল ইনশিরাহ (বক্ষ প্রশস্তকরন)

ছবি
সূরার সারসংক্ষেপঃ ১ম অংশে (আয়াত ১-৬) এ আল্লাহ মুহাম্মাদ (স) এর প্রতি যে অনুগ্রহ ও নিয়ামত দান করেছেন তা বর্ননা করেছেন। ২য় অংশে (আয়াত ৭-৮) আল্লাহর দেয়া নিয়ামত ও অনুগ্রহ পাওয়ার পর প্রতিদান দেওয়ার জন্য মুহাম্মাদ (স) কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়বস্তুঃ কিছু মানুষ নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে; বিনোদন, অর্থহীন কাজে মত্ত থাকে। কিছু মানুষ খাওয়া দাওয়া, ফুর্তিতে নিমজ্জিত থাকে। অন্যের সম্পর্কে চিন্তা বা গভীর চিন্তা করে না। কিছু মানুষ নিজের সহ আশেপাশের কিছু দরিদ্র মানুষ নিয়ে চিন্তা করে। কিছু মানুষ আশেপাশের প্রতিবেশি, সমাজ নিয়ে চিন্তা করে। অল্প কিছু মানুষ নীতি নির্ধারন, নৈতিকতা ইত্যাদি উচ্চ বিষয় নিয়ে চিন্তা করে। তবে এদের সবারই চিন্তা শুধু এই দুনিয়া কেন্দ্রিক। খুবই অল্প পরিমান মানুষই সৃষ্টি, আবির্ভাব, অস্তিত্ব, উদ্দেশ্য, চুড়ান্ত পরিনতি ইত্যাদি নিয়ে গভীর চিন্তা করে। এদের চিন্তার পরিমান ও ক্ষেত্র যেহেতু বেশি তাই আশেপাশের অসঙ্গতি দেখে পেরেশানী, চিন্তাও অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। এরা দুনিয়ার পাশাপাশি পরের জীবন (আখিরাত) সম্পর্কে চিন্তা করে কিন্তু সরাসরি ওহী লাভ না করার কারনে নবীদের মত পেরেশান থাকে না।...